নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: দু’দিন পরেই শুরু হচ্ছে রাজ্য সরকারের ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’ কর্মসূচি। সরকারি এই কর্মসূচি কীভাবে আয়োজিত হবে, সেই বিষয়ে দলীয় কর্মীদের নিয়ে কর্মশালা করল তৃণমূল। বুধবার বনগাঁর নীলদর্পণ প্রেক্ষাগৃহে কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে সরকারি এই কর্মসূচি সফল করার বার্তা দিয়েছেন নেতৃত্ব। জানা গিয়েছে, এলাকার ছোট কাজ দ্রুত সমাধানের জন্য পাড়ার আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান কর্মসূচি নিয়েছে রাজ্য সরকার।
২ আগস্ট থেকে সেই কাজ শুরু হবে। তিনটি করে বুথকে নিয়ে একটি ক্যাম্প করার কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রতিটি বুথকে ১০ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে বলেও ঘোষণা হয়েছে। বিরোধীরা যাতে এই কর্মসূচিকে ‘ভণ্ডুল’ করতে না পারে তার জন্য কড়া দাওয়ায় দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনিতেই বনগাঁ মহকুমায় রয়েছে বিজেপির দাপট। বিভিন্ন অঞ্চলে তাদের সংগঠন যথেষ্ট মজবুত। এখানে মোট বুথের সংখ্যা ১৩৯১টি। স্বাভাবিকভাবে রাজ্য সরকারের এই কর্মসূচি যাতে কোনওভাবেই বিঘ্নিত না হয় তার জন্য দলীয় কর্মীদের এদিন ‘ব্লু-প্রিন্ট’ দিল নেতৃত্ব। নেতৃত্বের বার্তা, কী কী কাজ হবে সেই তালিকা স্থানীয় নেতৃত্বকে তৈরি করে ফেলতে হবে। প্রয়োজনে এই কর্মসূচি করার সময় যাতে হট্টগোল তৈরি না হয় সেই জন্য নেতৃত্বরা ‘ট্রায়াল’ বৈঠক করবেন। নিজেদের মধ্যে ক্ষমতা কোনওভাবেই কুক্ষিগত করে রাখা চলবে না। যে সমস্ত এলাকায় তৃণমূলের জনপ্রতিনিধি নেই, সেই এলাকাগুলিকে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে এদিনের বৈঠকে। তবে, জলমগ্ন এলাকায় কিছুটা দেরিতে এই কর্মসূচি করার পরিকল্পনা করতে বলা হয়েছে। এনিয়ে উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের সভাধিপতি নারায়ণ গোস্বামী বলেন, বৈঠকে কী কী সিদ্ধান্ত হয়েছে তা বলা যাবে না। আমাদের লক্ষ্য মুখ্যমন্ত্রীর মস্তিষ্কপ্রসূত এই নতুন কর্মসূচি সফলভাবে রূপায়ণ করা। অন্যদিকে, বিশ্বজিৎ দাস বলেন, আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়েই এই কর্মসূচি করব। বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের চেয়ারপার্সন মমতা ঠাকুরের কথা মতো এই কর্মসূচি করতে বনগাঁ সাংগঠনিক জেলায় আলাদা একটা কমিটিও তৈরি করা হবে।