Bartaman Logo
৮ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

রাজকোষ থেকে নয়, পেনশনের জন্য ‘বিকল্প প্রস্তাব’ শুভেন্দুকে

আগামী দিনে ন্যাশনাল পেনশন সিস্টেম বা এনপিএস চালু করতে হবে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকেও। কারণ, সরকারি কর্মচারীদের পেনশন দেওয়ার ক্ষেত্রে এছাড়া আর উপায় নেই।

রাজকোষ থেকে নয়, পেনশনের জন্য ‘বিকল্প প্রস্তাব’ শুভেন্দুকে
  • ৮ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

বাপ্পাদিত্য রায়চৌধুরী, কলকাতা: আগামী দিনে ন্যাশনাল পেনশন সিস্টেম বা এনপিএস চালু করতে হবে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকেও। কারণ, সরকারি কর্মচারীদের পেনশন দেওয়ার ক্ষেত্রে এছাড়া আর উপায় নেই। শুক্রবার কলকাতায় এসে এমনই দাবি করলেন পেনশন সংক্রান্ত নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘পেনশন ফান্ড রেগুলেটরি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অথরিটি’ (পিএফআরডিএ)-এর চেয়ারপার্সন শিবশুব্রহ্মনিয়ন রামন। তিনি জানান, পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের পেনশন নিয়ে নতুন সরকারের সঙ্গে তাঁদের সদর্থক আলোচনা হয়েছে। এনপিএস ছাড়া যে পেনশনের কোনো ভবিষ্যৎ নেই, সেকথা জানানো হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে। তবে রাজ্য এখনও এনপিএস সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি বলেই জানান পিএফআরডিএ প্রধান। 

Advertisement

কিন্তু কী এই এনপিএস? ২০০৪ সালে কেন্দ্রীয় সরকার তাদের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের জন্য এই পেনশন প্রকল্প আনে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীকেই পেনশন খাতে বেতনের কিছু টাকা জমা রাখতে হয়। কিছু টাকা দেয় কেন্দ্র। এভাবে যে তহবিল গঠিত হয়, তা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা পায় পিএফআরডিএ। তারা এই তহবিলের টাকা বাজারে বিভিন্ন খাতে লগ্নি করে। সেখান থেকে যে অর্থ ‘রিটার্ন’ আসে, তা থেকেই দেওয়া হয় পেনশন। কেন্দ্র এই নিয়ম চালু করার কয়েক বছরের মধ্যে দেশের প্রায় সব রাজ্য সরকার তাদের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের পেনশন দিতে এনপিএস চালু করে। একমাত্র ব্যতিক্রম পশ্চিমবঙ্গ। এ রাজ্যে এখনও পর্যন্ত রাজ্য সরকারের নিজস্ব রাজকোষ থেকেই সম্পূর্ণ খরচ করে পেনশন দেওয়া হয়। এর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মচারীকে এক টাকাও দিতে হয় না। অর্থাৎ, পশ্চিমবঙ্গেও এনপিএস চালু হলে কর্মচারীদের আর্থিকভাবে ‘কনট্রিবিউট’ করতে হবে পেনশন খাতে। 
প্রসঙ্গত, এনপিএস চালু হওয়ার পর কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের তরফেই তুমুল আপত্তি উঠেছিল। তাঁদের বক্তব্য ছিল, নয়া ব্যবস্থায় গোটা কর্মজীবনে পেনশনের জন্য টাকা জমাতে হচ্ছে শুধু নয়, দিনের শেষে যে পেনশন তাঁরা পাচ্ছেন, তা যথেষ্ট নয়। প্রবল বিরোধিতার মুখে কেন্দ্র চালু করে ‘ইউনিফায়েড পেনশন স্কিম’। এক্ষেত্রেও তহবিলের নিয়ন্ত্রণ আছে পিএফআরডিএ’র হাতেই। তবে সরকার বলে দেয়, এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মচারী তাঁর কর্মজীবনের শেষ মাসে যত বেতন তুলেছেন, পেনশন হিসাবে তার ৫০ শতাংশ অর্থ মিলবে নিশ্চিতভাবে। কিন্তু পিএফআরডিএ কর্তা কেন মনে করছেন যে পশ্চিমবঙ্গকেও এনপিএসের আওতায় আসতে হবে? ওয়াকিবহাল মহলের মতে, আগের রাজ্য সরকার বিপুল ডিএ বকেয়া রেখেছিল। নতুন সরকার এসেই ২০ শতাংশ ডিএ ঘোষণা করেছে। সেই সঙ্গে ঘোষণা হয়েছে অষ্টম পে কমিশনও। কিন্তু রাজ্যের আর্থিক হাল খুব ভালো অবস্থায় নেই। তাই কর্মচারীদের পেনশন দিতে গেলে এনপিএসে আসতেই হবে বলে মনে করা হচ্ছে। 
শিবশুব্রহ্মনিয়ন বলেন, ‘আমরা হিসাব করে দেখেছি, আজকের দিনে কেন্দ্র বা রাজ্য, যেকোনো সরকারের পক্ষেই এই বিপুল আর্থিক দায়বদ্ধতা নেওয়া কঠিন। তাই আমাদের ধারণা, পশ্চিমবঙ্গ সরকারও এই ব্যবস্থার আওতায় আসবে। এছাড়া উপায় নেই।’  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ