নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: আগামী ২৮ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর তিনদিনের ব্যাংক ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে ইউনাইটেড ফোরাম অব ব্যাংক ইউনিয়নস। শুনতে মাত্র তিনদিন। কিন্তু আগামী পক্ষকালের মধ্যে প্রায় সাতদিনই ব্যাংক পরিষেবা ব্যাহত হতে চলেছে। সেই সম্ভাবনায় আতঙ্কিত কেন্দ্র। পরপর বৈঠক করা হচ্ছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ, ন্যাশনাল পেমেন্ট কর্পোরেশন ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলির সঙ্গে। সপ্তাহে পাঁচদিন ব্যাংক চালুর দাবিতে কর্মী ও অফিসারদের সংগঠন আন্দোলন করে আসছে। ফের সেই দাবিতে ৭২ ঘণ্টার ধর্মঘট ডাকা হয়েছে। এবার এমন সময়কে বাছাই করেছে কর্মী ও অফিসারদের সংগঠন, যখন সবে সপ্তাহ শুরু হবে। ক্যালেন্ডার বলছে, আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর, মাসের চতুর্থ শনিবার। পরদিন রবিবার। দু’দিনই ব্যাংক বন্ধ থাকবে। তারপর ২৮ সেপ্টেম্বর সোমবার থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর বুধবার পর্যন্ত হবে ধর্মঘট। বৃহস্পতিবার ব্যাংক খোলা। পরদিন আবার গান্ধীজয়ন্তী। তারপরই শনি ও রবিবার।
সুতরাং কার্যত সপ্তাহজুড়েই চলবে কর্মবিরতি। তাতেই উদ্বিগ্ন হয়ে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক সোমবার সমস্ত ব্যাংকের কর্তাদের ডেকেছিল বৈঠকে। সেখানে বলে দেওয়া হয়, এটিএম পরিষেবা সম্পূর্ণ সচল রাখতে হবে। আর এখন থেকেই যাচাই করতে হবে যে, কোন কোন এটিএম কাজ করছে না! টাকা নেই, যান্ত্রিক ত্রুটি, স্যাটেলাইট লিংক নেই ইত্যাদি কোনো অজুহাতের জেরে সাধারণ মানুষ যেন প্রবল দুর্ভোগে না পড়ে— এব্যাপারে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক। একইভাবে আজ ন্যাশনাল পেমেন্ট কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলির প্রতিনিধিদের সঙ্গেও কথা বলবে নির্মলা সীতারামনের মন্ত্রক। ডিজিটাল পেমেন্ট ও অন্য ব্যাংকিং পরিষেবায় যাতে ব্যাঘাত না হয় এই সময়কালে, সেই নির্দেশিকা দেওয়া হবে। উৎসবের মরশুমে কেনাকাটা যখন তুঙ্গে, তখন ধর্মঘটে অর্থনীতি ধাক্কা খাবে বলে শঙ্কা অর্থমন্ত্রকের। বিরূপ প্রভাব যত কম পড়ে, সেই চেষ্টা চলবে বলেই দাবি মোদি সরকারের।