Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আলুর দর নিয়ন্ত্রণে ‘ভোটিং সিন্ডিকেট’

আলুর দর নিয়ন্ত্রণে ‘ভোটিং সিন্ডিকেট’
  • ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: ভোটাভুটি করে আলুর দাম ঠিক করছে সিন্ডিকেট চক্র। হুগলির তারকেশ্বর, বৈঁচি, ভাণ্ডারহাটি, পূর্ব বর্ধমানের অম্বিকা কালনা, বুলবুলিতলার মতো বিভিন্ন এলাকায় চলছে ‘ভোটিং মার্কেট’। সাধারণত আলু বা শাক-সব্জির দাম নির্ভর করে জোগানের উপর। কিন্তু আলুর জোগান যাই থাক না কেন, দাম ঠিক করে এই সিন্ডিকেট চক্র। প্রতি সন্ধ্যাতেই দাম ঠিক হয়। এমনই তথ্য পেয়ে কৃষি বিপণন দপ্তরের আধিকারিকরা তদন্ত শুরু করেছেন। এই সিন্ডিকেটের বড় মাথাদের তাঁরা চিহ্নিত করেছেন। তাঁরা অত্যন্ত প্রভাবশালী। রাজ্যের আলুর দাম তাঁরাই নিয়ন্ত্রণ করেন। 
Advertisement
রাজ্যের কৃষি বিপণন দপ্তরের মন্ত্রী বেচারাম মান্না বলেন, সরকার সাধারণ মানুষের স্বার্থে আলুর দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে। কিন্তু একশ্রেণির ব্যবসায়ী এবং হিমঘর মালিক সেটা চাইছেন না। তাঁরা নিজেদের মতো করে পরিস্থিতির ফায়দা তুলতে চাইছেন। সরকার পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে।
কীভাবে চলে ভোটিং মার্কেট? আগে এই সিন্ডিকেটের সদস্যরা রাজ্যের কয়েকটি এলাকায় জমায়েত হতেন। সেখানেই তাঁরা দাম ঠিক করতেন। এখন সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ভোটাভুটি হয়। রাজ্যের কোন বড় বাজারের আলুর দাম কী হবে তা নিয়ে সিন্ডিকেটের সদস্য‌রা ঩নিজেদের মধ্যে ভোটাভুটি করে। যে দামের উপর ভোট বেশি পড়ে সেটাই চূড়ান্ত হয়। আলুর জোগানের উপর কোনওকিছু নির্ভর করে করে না। সেকারণে এখনও বাজারে আলুর দাম কমছে না। বাজারে অল্প পরিমাণে হলেও নতুন আলু এসেছে। এখনও পুরনো আলু হিমঘরে মজুত রয়েছে। তারপরও দাম কমছে না। 
রাজ্যের কৃষি বিপণন মন্ত্রী বলেন, কেউ কেউ বিভিন্ন কৌশলে অন্য রাজ্যে আলু নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। সব রাজ্যের সীমানায় কড়া নজরদারি রয়েছে। কয়েকদিন আগেই বীরভূমের রামপুরহাট মহকুমা থেকে পাচারকারীরা গ্রেপ্তার হয়েছে। তিনি আরও বলেন, কোনও সিন্ডিকেট এভাবে আনাজের দাম ঠিক করতে পারে না। প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের নির্দেশ বাজারের ব্যবসায়ীরা অমান্য করতে পারেন না। কৃষি বিপণন দপ্তরের আধিকারিকদের দাবি, এই সিন্ডিকেটের জন্যই মেদিনীপুর এবং বাঁকুড়ার আলু ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ওই দুই জেলার হিমঘরগুলিতে মজুত থাকা পোখরাজ জাতীয় কিছু আলুর চাহিদা এরাজ্যে তেমন থাকে না। ভিনরাজ্যে তা বিক্রি হয়। সিন্ডিকেটের সদস্যরা জ্যোতি আলুও ভিনরাজ্যে পাঠাতে চাইছে। সেকারণেই সমস্ত সীমানায় কড়াকড়ি শুরু হয়েছে। প্রভাবশালীদের মাত্রাতিরিক্ত মুনাফার লোভের কারণে ওই দুই জেলার ব্যবসায়ীরাও বাইরের রাজ্যে আলু নিয়ে যেতে পারছেন না। তবে, সরকার ওই দুই জেলার ব্যবসায়ীদের কথা চিন্তাভাবনা করছে। সময়মতো পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সম্পর্কিত সংবাদ