নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বর্ষাকালীন কৃষি উৎপাদন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করল ক্রেডিট রেটিং সংস্থা ক্রিসিল। তাদের বক্তব্য, এল নিনোর পাশাপাশি টালমাটাল ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির দরুন সারের জোগানে সংকট সমস্যায় ফেলতে পারে খরিফ চাষাবাদকে। কমতে পারে ফলন।
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বর্ষাকালীন কৃষি উৎপাদন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করল ক্রেডিট রেটিং সংস্থা ক্রিসিল। তাদের বক্তব্য, এল নিনোর পাশাপাশি টালমাটাল ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির দরুন সারের জোগানে সংকট সমস্যায় ফেলতে পারে খরিফ চাষাবাদকে। কমতে পারে ফলন।
আন্তর্জাতিক আবহাওয়া সংস্থাগুলি জানিয়েছে, ইতিমধ্যে প্রশান্ত মহাসাগরে এল নিনো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূল এলাকায় জলের উষ্ণতা বেড়ে যায় এবং তা বায়ুপ্রবাহের গতিপ্রকৃতির উপর প্রভাব ফেলে। এই কারণে ভারত সহ অনেক দেশে বৃষ্টির পরিমাণ কমে ও তাপমাত্রা বাড়ে। এবার এল নিনো পরিস্থিতি অন্তত নভেম্বর পর্যন্ত থাকবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আবহাওয়া দপ্তর মে মাসেই জানিয়েছে, এবার দেশে বর্ষাকালীন গড় বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের তুলনায় ১০ শতাংশ কমতে পারে। বৃষ্টির বণ্টনেও বৈষম্য থাকবে। তবে জল সংকট বিরাট সমস্যা তৈরি করবে না বলেই মনে করছে ক্রিসিল। তাদের হিসাব, গত মে পর্যন্ত দেশের জলাধারগুলিতে জল সংরক্ষণ স্বাভাবিকের চেয়ে ১৯ শতাংশ বেশি। পশ্চিম ভারতে চার শতাংশ, উত্তরে ৩৪ শতাংশ, মধ্য ভারতে ২০ শতাংশ এবং দক্ষিণে ৬ শতাংশ জল মজুত রয়েছে। তুলনায় কম জল রয়েছে পূর্ব ভারতে। এই পরিস্থিতিতে সেচ ব্যবস্থা এখনই সমস্যায় পড়বে না। পূর্ব ভারতে জলাধারে ঘাটতি থাকলেও গত মাসের বৃষ্টিতে মাটি এখনও কিছুটা ভিজে রয়েছে।
তাহলে সমস্যা কোথায়? ক্রিসিল বলছে, কৃষিকাজের উপর তিন রকমের ঝুঁকি চিন্তা বাড়িয়েছে। প্রথমত, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরে ফুল ফোটা ও ফল ধরার সময় বৃষ্টি কম হলে ধান, মকাই, তুলো, ডালের ফলন মার খেতে পারে। দ্বিতীয়ত, খামখেয়ালি বৃষ্টি এবং তার জন্য গরম বাড়লে লঙ্কা, তুলো, সয়াবিন, ডাল ও সবজিতে পোকামাকড়ের উৎপাত বাড়বে। কীটনাশকের ব্যবহার কৃষির খরচ বাড়াবে। তৃতীয়ত, পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের কারণে ইউরিয়া ও ডিএপি সারের জোগান অত্যন্ত সংকটে। জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময় থেকে সার সংকট দেখা দিলে ধান, ভুট্টা, তুলো ও আখের সবচেয়ে ক্ষতি হবে। তাই ক্রিসিল বলছে, জুলাই-আগস্টে বৃষ্টির গতিপ্রকৃতিই ঠিক করবে চলতি বছরে খরিফ কৃষির হাল। আবহাওয়াবিদদের একাংশ বলছেন, ২০২৩ সালে শেষবার এল নিনো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। সেবার বৃষ্টি কিছুটা কম হলেও পরিস্থিতি একেবারে হাতের বাইরে যায়নি। তবে ২০১৫ এবং ২০০৯ সালে এল নিনোর কারণে দেশের একটা বড়ো অংশে খরা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। এবার কী হয়, সেটাই দেখার।