নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: বরাদ্দ বাড়ল শান্তিপুরের আম্রুত-২ প্রকল্পে। ৬৫ কোটি টাকা খরচে ওই প্রকল্পে কাজ হওয়ার কথা থাকলেও আরও ১০কোটি টাকা বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। শান্তিপুরের জল প্রকল্পের কাজে ৭৫ কোটি খরচ হবে। যার মধ্যে প্রথম দফায় ৪৫কোটি টাকা বরাদ্দও হয়ে গিয়েছে। ইতিমধ্যেই প্রকল্পের প্রাথমিক পর্যায়ের কাজও শুরু হয়েছে। শহরের পৃথক পাঁচটি জায়গায় অতিরিক্ত পাঁচটি ওভারহেড রিজার্ভারও তৈরি হবে। ইতিমধ্যে সয়েল টেস্ট করা হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, শান্তিপুর পুরসভা এলাকার ২৪টি ওয়ার্ডের পানীয় জল সরবরাহ এবং সেই সংক্রান্ত পরিকাঠামো ঢেলে সাজানো হবে। জল ধারণ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য বাড়বে রিজার্ভারের সংখ্যা। গঙ্গায় ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টে বসবে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি। নতুন পাইপের সংযোগ দেওয়া হবে বহু এলাকায়। বর্তমানে শান্তিপুর শহরে ৪৫ হাজার বাড়ি রয়েছে। যার মধ্যে ২৯ হাজার বাড়িতে পানীয় জলের সরবরাহ রয়েছে। নতুনভাবে পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ হলে একসঙ্গে ৪৫ হাজার বাড়িতে পানীয় জলের সংযোগ পৌঁছে যাবে। রিজার্ভার থেকে দূরের অবস্থানের কারণে যে সমস্ত জায়গায় বর্তমানে পর্যাপ্ত জল সরবরাহ হয় না, সেখানেও স্বাভাবিক পরিমাণে জল সরবরাহ সম্ভব হবে। অপেক্ষাকৃত উঁচু বেশকয়েকটি ওয়ার্ডে জল পৌঁছয় না বর্তমানে।
সেই সমস্ত জায়গাতেও পর্যাপ্ত পানীয় জল পৌঁছবে। জানা গিয়েছে, আম্রুত-২ প্রকল্পে এই কাজ হবে। যার ৬৭ শতাংশ অর্থ খরচ করবে রাজ্য সরকার। বাকি মাত্র ৩৩ শতাংশ দেবে কেন্দ্র। ডিপিআর অনুযায়ী শান্তিপুরের জন্য বরাদ্দ হয়েছে ৭৫ কোটি টাকা। প্রথম পর্বের কাজের জন্য সম্প্রতি ৪৫ কোটি টাকা অনুমোদন হয়েছে। ওয়ার্ক অর্ডারও হয়ে গিয়েছে।
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, জল প্রকল্প তৈরি হলে পানীয় জলের সমস্যা মিটবে। এতে গ্রীষ্মে প্রতি বছর যে চাহিদা তৈরি হয়, তা অনায়াসেই মেটানো যাবে।
নতুন পাইপলাইন পাতার কাজ হচ্ছে। যা বিভিন্ন ওয়ার্ডের প্রত্যন্ত এলাকাগুলিতেও জল পৌঁছে দেবে। বর্তমানে শহরে মাত্র পাঁচটি রিজার্ভার রয়েছে। রিজার্ভারের সংখ্যা কম থাকায় শান্তিপুর শহরের ২০, ২১, ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের বেশকিছু উঁচু এলাকায় জল পৌঁছয় না। আম্রুত-২ প্রকল্পে অতিরিক্ত পাঁচটি রিজার্ভার তৈরি হবে। যাতে প্রতিদিন চার বেলা সরবরাহের পরে উদ্বৃত্ত পানীয় জল সঞ্চয় করা হবে।
ইতিমধ্যেই সেই জায়গাগুলিও চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে। পুরসভা জানিয়েছে, রিজার্ভারগুলি হবে ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের পঞ্চানন তলায়, ২১ নম্বর ওয়ার্ডের ডাম্পিং গ্রাউন্ডে, ২৪, ১ এবং ২২ নম্বর ওয়ার্ডে। চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে পাঁচটি জায়গাতেই সয়েল টেস্ট হয়েছে। তার রিপোর্ট মার্চের শেষ সপ্তাহে এলেই শুরু হয়ে যাবে রিজার্ভার তৈরির কাজ।
পুরসভার জল বিভাগের চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিল সদস্য শুভজিৎ দে বলেন, বর্তমানে আমরা প্রতিদিন ৬ লক্ষ মিলিয়ন গ্যালন জল রিজার্ভারে রাখতে পারি। পুরোটাই সরবরাহ করা হয়।
অতিরিক্ত রিজার্ভার থাকলে আমরা কিছুটা জল স্টোর করতে পারব। সেই সঙ্গে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতির কারণে জলের উৎপাদন ক্ষমতাও বৃদ্ধি পাবে। সবচেয়ে বড় কথা যে সমস্ত জায়গায় এখনও ঠিকমত জল পৌঁছয় না, সেই এলাকাগুলিও এই প্রকল্পের পর পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পাবে। উপকৃত হবে ২৪টি ওয়ার্ডের প্রত্যেকটি পাড়া। প্রথমে এই প্রকল্পে ৬৫ কোটি টাকার ডিপিআর তৈরি হয়েছিল। পরবর্তীতে প্রকল্পের অর্থ বেড়ে দাঁড়ায় ৭৫ কোটি টাকা। প্রয়োজন ভিত্তিতে এই বরাদ্দের অঙ্ক আরও বাড়তে পারে।