Bartaman Logo
১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

উপচার্য নিয়োগেও অনিয়ম! চিঠি যোশীকে, তোলপাড় বিশ্বভারতী

এবার খোদ বিশ্বভারতীর উপাচার্য ডঃ প্রবীরকুমার ঘোষের নিয়োগ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠল।

উপচার্য নিয়োগেও অনিয়ম! চিঠি যোশীকে, তোলপাড় বিশ্বভারতী
  • ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুকমল দালাল, বোলপুর: এবার খোদ বিশ্বভারতীর উপাচার্য ডঃ প্রবীরকুমার ঘোষের নিয়োগ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠল। তাঁকে সরানোর দাবি জানিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশীকে চিঠি দিলেন রাষ্ট্রীয় গোকুল মিশন ও জাতীয় পশুপালন মিশনের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা সদস্য তথা প্রাক্তন সাধারণ পরিষদ সদস্য ভেনুগোপাল বদরাভাদ। সম্প্রতি, সেই চিঠির অনুলিপি পাঠানো হয়েছে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানকেও। তবে, অভিযোগ এখনও তদন্তসাপেক্ষ। এ বিষয়ে বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

Advertisement

ওই চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে, বর্তমান উপাচার্যের নিয়োগের আগেই তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ জমা পড়েছিল। রাষ্ট্রপতির সচিবালয় থেকে ২০২৪ সালের ২২ অক্টোবর সেইসব অভিযোগের নথি বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছিল বলে অভিযোগকারীর দাবি। ওই নথিতে বর্তমান উপাচার্যের আগের কর্মজীবন, আর্থিক অনিয়ম ও অন্যান্য অভিযোগের কথা ছিল। কিন্তু, সেই নথি উপাচার্য নিয়োগের বাছাই কমিটির সামনে রাখা হয়নি বলেও অভিযোগ। 
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, প্রবীরবাবু ২০২৫ সালের মার্চ মাসে বিশ্বভারতীর উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নেন। তার এক সপ্তাহের মধ্যে ২৬ মার্চ রাষ্ট্রপতির সচিবালয় থেকে ফের তাঁর বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগের নথি বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয় বলে চিঠিতে দাবি করা হয়েছে। কিন্তু, সেই অভিযোগের ভিত্তিতে কোনও তদন্ত বা কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ। ফলে, প্রবীরবাবুর বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগগুলি খতিয়ে না দেখেই তাঁকে পদে বহাল রাখা হয়েছে বলে দাবি করেছেন বদরাভাদা।
বর্তমান উপাচার্যের আগের কর্মজীবন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বদরাভাদা। তাঁর দাবি, ২০২০ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি ভারতীয় কৃষি গবেষণা পরিষদের নিয়োগপত্রে প্রবীরবাবুকে শুধু ‘পরিচালক’ পদে নিয়োগ করা হয়েছিল। কিন্তু, বিশ্বভারতীর উপাচার্য পদের জন্য জমা দেওয়া নথিতে তাঁকে ‘পরিচালক তথা উপাচার্য’ এবং ‘প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও উপাচার্য’ হিসেবে দেখানো হয়। পরে ২০২৫ সালের ২২ সেপ্টেম্বর ভারতীয় কৃষি গবেষণা পরিষদের চিঠিতেও তাঁর পদ ‘পরিচালক’ বলেই উল্লেখ করা হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে দাবি করেছেন বদরাভাদা। অধ্যাপক না হয়ে শুধুমাত্র ‘পরিচালক’ হয়ে কিভাবে উপাচার্য পদে নিয়োগ পেলেন, সেই প্রশ্নও তুলেছেন অভিযোগকারী। বদরাভাদা বলেন, ‘অনেক অনিয়ম হয়েছে। একজন পরিচালক হয়ে উপাচার্য বলে ভুয়ো যোগ্যতার তথ্য দেখিয়ে উপাচার্য হয়েছেন। এক বছর আগেই জানিয়েছিলাম। তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান গুরুত্ব দেননি। তাই ফের সরব হয়েছি। তদন্তের দাবি করেছি। ওঁর অপসারণ চাই।’
পাশাপাশি ওই চিঠিতে উপাচার্যের বিরুদ্ধে কর্মক্ষেত্রে হয়রানির অভিযোগও রয়েছে। তরুণী বিজ্ঞানী ডঃ এন অশ্বিনীর মৃত্যুর ঘটনাও উল্লেখ করা হয়েছে। আর্থিক অনিয়ম ও  প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে। নিয়োগে সংরক্ষণ নীতি না মানার অভিযোগের কথাও বলা হয়েছে অভিযোগপত্রে। বদরাভাদার দাবি, ‘দ্রুত স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত হোক।’ ১৪ দিনের মধ্যে তদন্ত কমিটি গঠনের আবেদন করেছেন তিনি। আট সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নিয়োগ সংক্রান্ত সব নথি সংরক্ষণের দাবিও তুলেছেন বদরাভাদা। অভিযোগ প্রমাণিত হলে উপাচার্যকে সরানোর প্রক্রিয়া শুরুরও আবেদন করেছেন তিনি। প্রয়োজনে বিষয়টি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার কাছে পাঠানোর দাবিও রয়েছে বদরাভাদার।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ