শ্রীকান্ত পড়্যা, নন্দীগ্রাম: সোমবার সকাল তখন ১১টা ২০মিনিট। নন্দীগ্রামের তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র কর পৌঁছলেন গোকুলনগর পঞ্চায়েতের কাঁসাধুয়া গ্রামে। তাঁকে ঘিরে ধরেন যাদব পাত্র, মানস পাত্র, শিবু বর ও মিলন পাত্ররা। একুশের বিধানসভা থেকে চব্বিশের লোকসভা। মানসরাই কাঁসাধুয়া বুথে বিজেপির ভোট-কারিগর ছিলেন। দু’মাস আগে সকলেই বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন। এদিনই সকালে আবার পবিত্রর প্রচার নিয়ে গ্রামে তৃণমূলের ঝান্ডা বাঁধতে গিয়ে বিজেপির হাতে বেধড়ক মার খেয়েছেন যাদব। জেনারেল ডায়েরি লিখে প্রার্থীর অপেক্ষায় বসেছিলেন। তাঁর সঙ্গে আরও অনেকেই ছিলেন। পবিত্রকে পাশে পেয়েই বিজেপে সমুচিত জবাব দেওয়ার স্লোগান ওঠে। দলীয় প্রার্থীর গাঁ ছুঁয়ে শপথও নেন ‘বহিরাগত দাদা’কে হারানোর। সেই সঙ্গে বললেন, ‘আপনি আমাদের ভূমিপুত্র। আপনাকে না জেতানো পর্যন্ত শান্তিতে ঘুমোতে পারব না। সকালে এই হামলার ঘটনার জবাব নেবই।’
এদিন প্রচারে পবিত্রর সঙ্গী ছিলেন জেলা পরিষদের সহ সভাধিপতি সুহাষিনী কর, গোকুলনগর অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি শঙ্করকুমার দাস সহ আরও অনেকে। ২৫-৩০টি বাইক নিয়ে র্যালি হয়। সকালে ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের রায়নগরে প্রচার কর্মসূচি শুরু হয়। তারপর জামবাড়ি, বৃন্দাবনচক, কানুনগোচক, শিমুলকুণ্ডু দক্ষিণ হয়ে কাঁসাধোয়া গ্রামে পৌঁছয়। তৃণমূলের বুথ কমিটির নেতা তুষার বিজলি, শুভ্রাংশু বিজলি এবং রামকৃষ্ণ দাস প্রমুখ প্রার্থীর অপেক্ষায় ছিলেন। পবিত্র পৌঁছতেই শঙ্খ বাজিয়ে স্বাগত জানানো হয়। ফুলের পতাকা ও ফুল দিয়ে প্রার্থীকে বরণ করা হয়।
নন্দীগ্রামে বিজেপির শক্তঘাঁটির মধ্যে একটি অঞ্চল গোকুলনগর। পঞ্চায়েতটি বিজেপির দখলে। অভিযোগ, আর্থিক অনিয়মের কারণে এলাকায় উন্নয়ন স্তব্ধ। কাঁসাধুয়া গ্রামটিও বিজেপির দখলে। পঞ্চায়েত সদস্য বিজেপির অনুপ মণ্ডল। বিজেপির দাপটকে থোড়াই কেয়ার করে যাদব, মানস, শিবুরা তৃণমূলে যোগ দেন। স্বাভাবিকভাবেই তাঁদের চটে লাল বিজেপি। তৃণমূলের পতাকা বাঁধতেই এদিন হামলার মুখে পড়েন যাদব।
প্রচারের আর বাকি মাত্র আটদিন। এদিন নন্দীগ্রাম থেকে গোকুলনগর যাওয়ার পথে বিভিন্ন জায়গায় দেখা যায়, সুতোয় বিজেপির পতাকা বেঁধে রাস্তা বরাবর টাঙানোর কাজ চলছে। বিভিন্ন জায়গায় সিঁড়ি ঠেকিয়ে গাছে, বাড়িতে বিজেপির পতাকা টাঙানো চলছে। ভোটের আগে নন্দীগ্রামে বিজেপির চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি পড়ছে বলে অনেকেই দাবি করছেন। বিশেষ করে ৪৩ জন নেতাকে এনআইএ নোটিস পাঠানোর ঘটনায় সেই ধারণাকে জোরালো করেছে।
এদিন প্রচারের ফাঁকে পবিত্র বলেন, নন্দীগ্রাম থেকে ১০০ শতাংশ আমরা জয়ী হচ্ছি। মানুষ ২৩ তারিখের অপেক্ষায় রয়েছেন। নন্দীগ্রামে বিজেপিকে উপযুক্ত জবাব দিতে তৈরি মানুষ। যাদব, মানসদের মতো নন্দীগ্রামের সাধারণ মানুষও এই ভোটে বিজেপিকে হারিয়ে বিভাজনের দেওয়াল ভেঙে শান্তিতে থাকতে চান। বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক মেঘনাদ পাল বলেন, তৃণমূল নন্দীগ্রামে জেতার দিবাস্বপ্ন দেখছে। সেটা কোনওদিন পূরণ হবে না। তৃণমূল এখানে ৩০ হাজার ভোটে হারবে।