Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

এজলাসেই আইনজীবীকে মারধরে অভিযোগ উঠল কল্যাণের বিরুদ্ধে!

অভিযোগ, আদালত কক্ষের ভিতরেই ওই আইনজীবীকে মারধর করেছেন কল্যাণবাবু।

এজলাসেই আইনজীবীকে মারধরে অভিযোগ উঠল কল্যাণের বিরুদ্ধে!
  • ২৬ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কলকাতা হাইকোর্টের বর্ষীয়ান আইনজীবী তথা তৃণমূলের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করলেন হাইকোর্টেরই এক আইনজীবী। অভিযোগ, আদালত কক্ষের ভিতরেই ওই আইনজীবীকে মারধর করেছেন কল্যাণবাবু। যদিও যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাংসদ-আইনজীবী। 

Advertisement

হেয়ার স্ট্রিট থানায় জমা দেওয়া লিখিত অভিযোগে অশোককুমার নাথ নামে ওই আইনজীবী দাবি করেছেন, ১২ বছর ধরে হাইকোর্টে আইনজীবী হিসাবে প্র্যাকটিস করছেন তিনি। বৃহস্পতিবার বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি ঋতব্রতকুমার মিত্রের বেঞ্চে ১১ নম্বর আদালত কক্ষে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর বচসা হয়। অশোকবাবুর অভিযোগপত্রের বয়ান অনুযায়ী, ‘কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালত কক্ষে প্রবেশ করেন এবং সাংসদ সৌগত রায়ের বিরুদ্ধে কুমন্তব্য করতে শুরু করেন। আমি তাঁকে আদালত কক্ষের মধ্যে এসব না করার অনুরোধ করি। তিনি এতে রেগে যান এবং আমার কলার ধরে মারধর করেন। আমার মুখে ঘুসি মারেন, আমাকে লাথিও মারেন। আমার মুখ থেকে রক্ত পড়ছিল। তিনি আমার বিরুদ্ধেও কুমন্তব্য করেন। অন্যেরা ওঁকে না আটকালে আমাকে উনি মেরেও ফেলতে পারতেন।’  
যদিও অশোকবাবুর যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কল্যাণবাবু। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে মারধরের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি কাল কোর্টে বসেছিলাম। বেশ কিছু আইনজীবীর সঙ্গে পহেলগাঁওয়ের ঘটনা নিয়ে আলোচনা করছিলাম। সেই সময় ওই আইনজীবী আমার পাশে এসে বলেন, আপনি সৌগত রায়কে নিয়ে কুমন্তব্য করেছেন কেন? আমি তখন ওঁকে বলি এটা আদালত কক্ষ। এখানে কেন এসব করছেন। অন্য আইনজীবীরাও ওঁকে বারণ করেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও উনি আমাকে পিছন থেকে উত্ত্যক্ত করতে শুরু করেন। তখন আমি ওঁকে ঠেলে সরিয়ে দিই। মারধর করেছি এসব ফালতু কথা।’ কল্যাণবাবুর আরও সংযোজন, ‘আমি আদৌ ওঁকে চিনি না। কোনওদিন কোনও ভালো মামলা করতেও দেখিনি। ওইদিন ১১ নম্বর কোর্টে ওঁর কোনও মামলাও বোধহয় ছিল না। আমার মনে হচ্ছে উনি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই এটা করেছেন।’
এদিকে, কলকাতা পুলিস সূত্রে খবর, ওই আইনজীবীর অভিযোগের ভিত্তিতে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এখনও কোনও এফআইআর রুজু হয়নি। ঘটনাটি যেহেতু এজলাস কক্ষে ঘটেছে, তাই এক্ষেত্রে রেজিস্ট্রারের নির্দেশমতো কাজ করবে পুলিস।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ