Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

খুন্তির ছ্যাঁকা, মাখনার কারখানায় বিহারের শিশু শ্রমিককে নির্যাতনের অভিযোগ, চাঞ্চল্য

মাখনার কারখানায় কাজ করাতে নিয়ে এসে বিহারের নয় বছরের এক শিশু শ্রমিককে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে ওই রাজ্যের মালিকের বিরুদ্ধে।

খুন্তির ছ্যাঁকা, মাখনার কারখানায় বিহারের শিশু শ্রমিককে নির্যাতনের অভিযোগ, চাঞ্চল্য
  • ২৬ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, হরিশ্চন্দ্রপুর: মাখনার কারখানায় কাজ করাতে নিয়ে এসে বিহারের নয় বছরের এক শিশু শ্রমিককে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে ওই রাজ্যের মালিকের বিরুদ্ধে। শিশুর মায়ের অভিযোগ, তাঁর সন্তানকে ছ্যাঁকা দেওয়া হয়েছে। শিশুর বাড়ি বিহারের দ্বারভাঙ্গা জেলার মহিম বুজরুক গ্রামে। গোটা ঘটনায় কারখানার মালিক সুনীল সাহানির বিরুদ্ধে হরিশ্চন্দ্রপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন শিশুটির মা। ঘটনাটি ঘটেছে হরিশ্চন্দ্রপুরের পিপলা কালীমন্দিরের কাছে একটি মাখনা কারখানায়। যদিও সুনীল মারধরের কথা অস্বীকার করেছেন।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হরিশ্চন্দ্রপুর থানায় ১০ হাজারের বেশি মাখনার ছোট কারখানা (ফড়ি) রয়েছে। যাঁরা এগুলি চালান, তাঁদের ফড়িয়া বলা হয়। এখানকার প্রায় সমস্ত ফড়িয়াই বিহারের। ফড়িগুলিতে ৩০ হাজারের বেশি শ্রমিক কাজ করেন। এরমধ্যে শিশুরাও রয়েছে বলে অভিযোগ।
পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে খবর,আগাম টাকা দিয়ে ন’বছরের শিশুটিকে দেড় মাস আগে ফড়িতে কাজ করতে নিয়ে আসেন সুনীল। প্রতিদিন ১০ ঘণ্টার বেশি কাজ করানোয় শিশুটি দুর্বল হয়ে পড়ে। সোমবার খবর পেয়ে মা শিশুটিকে নিতে এলে তাঁকে তাড়িয়ে দেন সুনীল। মা এনিয়ে পুলিসের দ্বারস্থ হলে শিশুটিকে মায়ের হাতে তুলে দেয় অভিযুক্ত।
চাঁচল মহকুমা শ্রম দপ্তরের সহকারী কমিশনার নৌশাদ আলি বলেন, শিশুশ্রম দণ্ডনীয় অপরাধ। মারধরের ঘটনা ঘটে থাকলে তা অমানবিক। পরিবার দপ্তরে অভিযোগ করলে তদন্ত করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হবে।
প্রশ্ন উঠছে, শিশুকে কেন তার মা কাজে পাঠিয়েছেন। এবিষয়ে মা বলেন, স্বামী মারা গিয়েছে। অভাবের সংসার। ছেলেকে হরিশ্চন্দ্রপুরের পিপলায় ফড়িতে কাজ করার জন্য নিয়ে আসে সুনীল। ১০ ঘণ্টার বেশি পরিশ্রম করানোয় ছেলে দুর্বল হয়ে পড়েছে। মারধর করে জখমও করে দিয়েছে। গরম খুন্তির ছ্যাঁকা দিয়ে চামড়া পুড়িয়ে দিয়েছে। এদিন ছেলেকে আনতে গেলে আমাকে তাড়িয়ে দেয়। থানায় অভিযোগ দায়ের করতেই ছেলেকে ফিরিয়ে দিয়েছে।
অভিযুক্ত সুনীল বলেন, শিশুর মা অগ্রিম চার হাজার টাকা নিয়েছেন। পরে আরও টাকা নিয়েছেন তিনি। সব মিলিয়ে তাঁকে ১৭ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। কাজ করে টাকা পরিশোধ করার কথা। তার আগেই মা ছেলেকে নিতে চলে আসেন। শিশুটিকে মারধর করা হয়নি। 
হরিশ্চন্দ্রপুর ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি পবন কেডিয়া বলেন, ব্যবসায়ী সমিতি ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে ফড়িয়াদের বলা হয়েছে, ১৮ বছরের নীচে কাউকে দিয়ে কাজ করানো যাবে না। শিশুটিকে এধরনের অত্যাচার করে থাকলে ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হরিশ্চন্দ্রপুর থানার আইসি মনোজিৎ সরকার বলেন, ফড়িয়াদের শিশু শ্রমিকদের দিয়ে কাজ না করানোর বিষয়ে আগেই সতর্ক করা হয়েছে। অভিযোগ হয়েছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ