সংবাদদাতা, কাকদ্বীপ: তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্যাকে প্রকাশ্য দিবালোকে প্রায় বিবস্ত্র করে ঘোরানো ও মারধরের অভিযোগ উঠল বিজেপির লোকজনের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে পাথরপ্রতিমা এলাকায়। যদিও বিজেপির পক্ষ থেকে সব অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। এই ঘটনার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ইতিমধ্যেই সামনে এসেছে। সেই ফুটেজে দেখা গিয়েছে, ওই পঞ্চায়েত সদস্যাকে প্রায় বিবস্ত্র করে পঞ্চায়েত অফিসের ভিতর থেকে টানতে টানতে বাইরে বের করে নিয়ে আসা হচ্ছে। এই ঘটনায় পাথরপ্রতিমায় শোরগোল পড়েছে। নির্যাতিতা পঞ্চায়েত সদস্যা ইতিমধ্যেই পাথরপ্রতিমা থানায় ২০ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। বিডিও’র কাছেও অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। তার ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
বুধবার ছিল পাথরপ্রতিমা গ্রাম পঞ্চায়েতের সাধারণ সভা। সেই সভায় পঞ্চায়েত সদস্য ও সদস্যারা উপস্থিত হয়েছিলেন। সভা শেষ হতে না হতেই এক পঞ্চায়েত সদস্যকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। তাঁকে বাঁচাতে যান ওই পঞ্চায়েত সদস্যা। তখন যাবতীয় আক্রোশ গিয়ে পড়ে তাঁর উপর। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, বিজেপি আশ্রিত মহিলা দুষ্কৃতীরা ওই পঞ্চায়েত সদস্যার উপর চড়াও হয়। তাঁকে মারধর করার পাশাপাশি প্রায় বিবস্ত্র করে ঘোরানো হয়। এই ঘটনায় বিজেপির পুরুষ কর্মীরাও যুক্ত ছিল বলে অভিযোগ। নির্যাতিতার বক্তব্য, ‘মুখ্যমন্ত্রী মহিলাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার কথা বলছেন। অথচ তাঁর আমলে বিজেপির মহিলারাই আমার সম্ভ্রম নষ্ট করেছে। শুধু মহিলারা নয়, বিজেপির পুরুষ কর্মীরাও আমার উপর চড়াও হয়েছিল। মারধরের পর আমার শাড়ি খুলে দেয় রাজ্যের শাসকদলের মহিলারা। তারপর ওই অবস্থায় পঞ্চায়েত চত্বরে ঘোরানো হয়। বিষয়টি থানা ও বিডিওকে লিখিতভাবে জানিয়েছি।’
বিজেপির পক্ষ থেকে এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করা হয়েছে। পাথরপ্রতিমার বিজেপি নেতা প্রদ্যুৎ বৈদ্য বলেন, ‘তৃণমূলের ওই পঞ্চায়েত সদস্যা তথা সঞ্চালিকা যে ঘটনার কথা উল্লেখ করে অভিযোগ করেছেন, তার সঙ্গে বিজেপির কোনো কর্মী বা সমর্থক যুক্ত নয়। তবে ওই সদস্যার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। যদি এমন কোনো ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে তা হল সাধারণ মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। পুলিশ তদন্ত করে দেখুক। যদি দলের কেউ অন্যায় করে থাকে, তাহলে শাস্তি পাবে।’