সংবাদদাতা, ঘাটাল: চাল পাচারের অভিযোগে শুক্রবার পথ অবরোধে করলেন ঘাটাল থানার সিংহডাঙা এলাকার বাসিন্দারা। অভিযোগ, স্থানীয় সমবায় সমিতির রেশন দোকান থেকে এক ব্যক্তিকে বস্তা বস্তা চাল ও আটা বিক্রি করা হচ্ছিল। সেইসব বস্তা টোটোয় বোঝাই করার সময় স্থানীয়রা ধরে ফেললে টোটোচালক কয়েকটি বস্তা ফেলে রেখে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ। এরপরই ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা রাস্তায় নেমে অবরোধ শুরু করেন। অবরোধের ফলে ঘাটাল-ক্ষীরপাই রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। কিছুক্ষণ পরে পুলিস গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।
ওই এলাকায় সিংহডাঙা সমবায় সমিতি রেশন বিতরণ করে। অভিযোগ ওঠে, উপভোক্তাদের জন্য বরাদ্দ খাদ্যশস্য সমিতি গোপনে পাচার করে দিচ্ছে। খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়তেই বহু মানুষ সমবায়ের সামনে জড়ো হন। সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা পথ অবরোধের সিদ্ধান্ত নেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই প্রথম নয়, এর আগে কয়েকবার অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও সমিতি কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। ফলে ক্ষোভে ফেটে পড়েন বাসিন্দারা। তাঁরা অবিলম্বে দোষীদের গ্রেপ্তার ও পাচারের সম্পূর্ণ চক্র ভেঙে দেওয়ার দাবিতে পথ অবরোধ শুরু করেন। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে অবরোধ চলায় ঘাটাল-ক্ষীরপাই সড়কে যানজট হয়।
সমবায়ের ম্যানেজার অসিত চক্রবর্তী বলেন, নষ্ট হয়ে যাওয়া কিছু চাল ও আটা পরিষ্কার করে বদলে দেওয়ার জন্য এক ব্যক্তিকে ডাকা হয়েছিল। তিনি সেগুলি নিয়ে যাচ্ছিলেন। পাচারের অভিযোগ একেবারেই ভিত্তিহীন। যদিও ঘাটাল মহকুমার খাদ্য ও সরবরাহ দপ্তরের নিয়ামক নন্দদুলাল দাস বলেন, এই ভাবে গোডাউনের বাইরে কাউকে রেশন দ্রব্য পরিষ্কার করতে দেওয়ার নিয়ম নেই। বিষয়টা কী হয়েছে খোঁজ নিয়ে জানতে হবে।
স্থানীয়দের একাংশ অবশ্য এই দাবি মানতে রাজি নন। তাঁদের কথায়, যদি বদলানোর জন্যই নেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে তা প্রকাশ্যে না করে গোপনে কেন করা হচ্ছিল। এর মানে সেগুলি বিক্রি করা হচ্ছিল।প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। রেশন সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে গ্রামীণ এলাকায় রেশন ব্যবস্থায় এমন অভিযোগ নতুন নয়। খাদ্যদপ্তর ও পুলিস উভয় দিক থেকেই তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।