Bartaman Logo
১৩ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

রাতে রেশন সামগ্রী পাচারের অভিযোগ, গোডাউন বন্ধ রাখার নির্দেশ খাদ্যমন্ত্রীর, ভর্ৎসনার মুখে মধ্যমগ্রামের আইসি

মধ্যমগ্রামে রেশন সামগ্রী পাচারের অভিযোগে খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। বিস্তারিত পড়ুন।

রাতে রেশন সামগ্রী পাচারের অভিযোগ, গোডাউন বন্ধ রাখার নির্দেশ খাদ্যমন্ত্রীর, ভর্ৎসনার মুখে মধ্যমগ্রামের আইসি
  • ১৩ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: বৃহস্পতিবার রাতে মন্ত্রী জানতে পারেন রেশনের পণ্য ট্রাকবোঝাই করে ‘পাচার’ হচ্ছে। পুলিশ দিয়ে তা আটকানো হয়। আবার শুক্রবার দুপুরে মধ্যমগ্রামের নজরুল সরণির ‘অভিযুক্ত’ গোডাউনে আচমকা হানা দেন রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া। তারপর দু’ঘণ্টা ধরে চলে নথি খতিয়ে দেখার কাজ। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত গোডাউন বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন অশোকবাবু। জানা গিয়েছে, মধ্যমগ্রাম পুরসভার নজরুল সরণিতে রয়েছে তিরুপতি অ্যাগ্রো সিড ডিস্ট্রিবিউটর প্রাইভেট লিমিটেডের গোডাউন। সেখান থেকেই খাদ্যদপ্তরের রেশন সামগ্রী সরবরাহ করা হয়। সরকারি হিসাব বলছে, গত মাসে এখানে ৫ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন রেশন সামগ্রী মজুত ছিল। পরে ৫ হাজার ২০০ মেট্রিক টন সামগ্রী বিতরণ করা হয়। হিসাবে অনুযায়ী ১০০ মেট্রিক টন মজুত থাকার কথা। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে খাদ্যমন্ত্রী জানতে পারেন, এখান থেকে ৯টি ট্রাকে প্রায় ৯৬ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য পাচারের চেষ্টা চলছে। সঙ্গে সঙ্গে তিনি বিষয়টি জানান বারাসতের পুলিশ সুপারকে। পুলিশ সাতটি ট্রাক আটকাতে সক্ষম হলেও বাকি দু’টি ট্রাক আগেই চলে যায় বলে অভিযোগ। সেই দু’টি ট্রাক কোথায়, তা এখনও জানতে পারেনি দপ্তর। শুক্রবার এই অভিযোগের সূত্র ধরেই গোডাউনে পৌঁছে যান খাদ্যমন্ত্রী। সঙ্গে ছিলেন জেলার খাদ্য নিয়ামক আধিকারিক, দপ্তরের কর্মী, মধ্যমগ্রাম থানার পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী। তাঁরা নথি দেখতে চান। পরিদর্শনের সময় খাদ্যসামগ্রীর পাশাপাশি গোডাউনের ভিতরে মজুত ছিল বেশ কয়েকটি গৃহস্থালি ও বাণিজ্যিক গ্যাসের সিলিন্ডার। তা দেখে ক্ষিপ্ত হন মন্ত্রী। গোডাউন কর্তৃপক্ষের দাবি, বর্তমানে আইসিডিএস কেন্দ্রগুলিতে খাদ্যসামগ্রী সরবরাহ করা হয়। শিশুদের জন্য ছোলার ছাতু তৈরির জন্য গ্যাস সিলিন্ডার রাখা হয়েছে। এই ঘটনায় মধ্যমগ্রাম থানার আইসি ভর্ৎসনার করেন খাদ্যমন্ত্রী। দু’টি ট্রাক রেশন সামগ্রী নিয়ে কীভাবে চলে গেল, প্রশ্ন করেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, ১২ মে খাদ্যদপ্তরের আধিকারিক ও গোডাউন মালিকদের উপস্থিতিতে এখানে ভেরিফিকেশন হয়। সেই সময় ঘাটতির বিষয়টি ধরা পড়লেও কেন পদক্ষেপ করা হয়নি, প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর কথায়, গোডাউন মালিক ভেবেছিলেন, তৃণমূলের আমলে যেভাবে কাজ হয়েছে, এই আমলেও সেভাবে কাজ করা যাবে। সেসব হবে না। তাঁর ব্যবসার সমস্ত নথিপত্র তলব করা হয়েছে। সন্তোষজনক উত্তর না মিললে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এক্ষেত্রে তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত আপাতত এই গোডাউনটি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ