সংবাদদাতা, মেখলিগঞ্জ: মেখলিগঞ্জ পুরসভার বিরুদ্ধে তামাক, পাট, গোরুর হাট এবং টোলের নিলামে স্বজনপোষণের অভিযোগ এনে বুধবার প্রশাসনের দ্বারস্থ হলেন শহরের নাগরিকরা। তাঁদের বক্তব্য, পুরসভা তামাক, পাট, গোরুর হাটের নিলামে অংশগ্রহণের জন্য আবেদনপত্র কিনতে ৭ থেকে ১৭ মার্চ অবধি সময় দিলেও সেই বিজ্ঞপ্তি পুরসভার নোটিস বোর্ডে দেখা যায়নি। তাই বিষয়টি সম্পর্কে অনেকেই জানতে পারেননি। পাশাপাশি বিজ্ঞপ্তির স্মারক নম্বর ও তারিখ চেয়ারম্যানের স্বাক্ষরের তারিখের সঙ্গেও মিলছে না। নিজেদের পছন্দের মানুষদের বরাত পাইয়ে দিতেই পুরসভা এই কৌশল নিয়েছে বলে তাঁরা মনে করছেন। তাঁরা অভিযোগটি লিখিতভাবে মহকুমা প্রশাসন এবং পুর কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন।
পুর এলাকার বাসিন্দা কৃষ্ণপদ বিশ্বাসের কথায়, তাঁরা জানতে পারেন যে, শহরের তামাক,পাট ও গোরুর হাট টোল ইত্যাদির নিলাম নিজেদের লোককে পাইয়ে দেওয়ার জন্য অবৈধভাবে পুরসভা শেষদিনে টেন্ডার ঝুলিয়েছে। যাতে অন্য কেউ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে না পারেন। তাঁরমতো অনেকে এতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে ইচ্ছুক। তাই তাঁরা এদিন পুরসভার চেয়ারম্যানের কাছে দরপত্র প্রদানের সময়সীমা বৃদ্ধির জন্য দাবি পত্র দিয়েছেন।
বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আন্দোলন গড়ে তোলার হুমকি দিয়েছে বিজেপি। দলের মেখলিগঞ্জ শহর মণ্ডল কমিটির সভাপতি আশেকার রহমান এদিন জানান, বিষয়টি জানার পরেই আমরা পুরসভায় খোঁজ নিই। বিজ্ঞপ্তিতে ৭ মার্চ মেমো নম্বরে তারিখ থাকলেও চেয়ারম্যান তাতে স্বাক্ষর করেছেন ১১ মার্চ। অন্যদিকে, মহকুমাশাসকের দপ্তরের প্রতিলিপি ১৭ মার্চ পাঠানো হয়েছে। আবার আবেদনপত্র কেনার সময় ৭ই মার্চ থেকে ১৭ মার্চ পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে। শেষদিনে পুরসভার কতিপয় কর্মী নিজেরাই ৪টি করে ফর্ম কিনে প্রক্রিয়া শেষ করেদেন। অস্বচ্ছতা এরমধ্যে রয়েছে বলেই তাঁর অভিযোগ।
মেখলিগঞ্জ পুরসভার চেয়ারম্যান প্রভাত পাটনী অবশ্য জানিয়েছেন, নিয়ম মেনেই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। বিজেপির জনসমর্থন নেই তাই অসত্য প্রচার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চাইছেন। তবে সচেতন মানুষ সবই বোঝেন। তাই তারা এসবে কান দেবেন না বলেই মনে করি।
এ ব্যাপারে মেখলিগঞ্জের মহকুমা শাসক অতনুকুমার মণ্ডলের প্রতিক্রিয়া, বিষয়টি সম্পূর্ণ পুরসভার। তাই যা বলার তারাই বলবেন।