সংবাদদাতা, বারুইপুর: পরকীয়া সন্দেহে জয়নগরের এক তৃণমূল নেতা ও এক গৃহবধূকে লাইটপোস্টে বেঁধে রেখে গণধোলাইয়ের অভিযোগ উঠল গ্রামবাসীদের বিরুদ্ধে। সোমবার রাতের এই ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। যদিও ‘বর্তমান’ ওই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি। জানা গিয়েছে, ওই তৃণমূল নেতা জয়নগর থানার প্রাক্তন সিভিক ভলান্টিয়ার। তাঁর স্ত্রী জয়নগরের চালতাবেড়িয়া পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্যা। জয়নগর থানার ধোসা ক্যাম্পের পুলিস গণধোলাইয়ের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই তৃণমূল নেতা ও গৃহবধূকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিস গণধোলাইয়ের মামলা রুজু করেছে। এই ঘটনার নিন্দায় সরব হয়েছে বিরোধী দলগুলি। জয়নগরের বিজেপি নেতা উৎপল নস্কর বলেন, তৃণমূলের সংস্কৃতি এটাই। তাদের নেতা-কর্মীদের পক্ষেই এই কাজ করা সম্ভব। সিপিএম নেতা অপূর্ব প্রামাণিক বলেন, তৃণমূল এমনই দল। ওদের কোনও বোধজ্ঞান নেই। এমন লোককে ওরা দলের কনভেনার করেছে।
অভিযুক্ত তৃণমূল নেতার নাম মহেশ হালদার। তিনি বারুইপুর পূর্ব বিধানসভার জয়নগর ১ নম্বর ব্লকের চালতাবেড়িয়া অঞ্চলের তৃণমূলের কনভেনার। বছর চারেক আগে মহিলা সংক্রান্ত এক অভিযোগে সিভিক ভলান্টিয়ারের কাজ চলে যায় তাঁর। সোমবার রাতে ওই তৃণমূল নেতাকে বামনগাছি পঞ্চায়েতের তাঁতিপাড়ায় এক গৃহবধূর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলেন গ্রামবাসীরা। তারপরই এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। জড়ো হয়ে যান গ্রামবাসীরা। এরপর লাইটপোস্টে বেঁধে চলে মারধর। গ্রামবাসীদের কথায়, আমরা ওই রাতে মাচায় আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পাই পঞ্চায়েত সদস্যার স্বামী ও পাড়ার এক গৃহবধূকে। প্রায়ই তাঁরা ঘনিষ্ঠ হতেন। মাঝেমধ্যে সেই ঘটনা দেখেও ফেলেছেন কেউ কেউ। আমরা উচিত শিক্ষা দিতেই দু’জনকে লাইটপোস্টে বেঁধে রাখি। ছেড়ে দেওয়ার জন্য মহেশ আমাদের ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে রাজি হয়েছিলেন। পরে পুলিস আসার পর আমরা ছেড়ে দিই তাঁদের। কাউকে মারধর করা হয়নি।
পঞ্চায়েত সদস্যা সুপর্ণা হালদার অভিযুক্ত মহেশের পাশে দাঁড়িয়ে বলেন, আমার স্বামীকে ফাঁসানো হয়েছে। রাত সাড়ে ১১টার নাগাদ একটি ফোন আসায় স্বামী ঘর থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন। তারপর থেকে স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারিনি। এরপর গ্রামবাসীদের কাছ থেকে ঘটনার কথা জানতে পারি। জয়নগর থানার পুলিস গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।