নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: আইনকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নীচু জমি ভরাটের অভিযোগ ক্ষোভ ছড়িয়েছে সাঁকরাইলের মহিয়াড়ি ২ নম্বর পঞ্চায়েত এলাকায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে পঞ্চায়েত এলাকায় প্রায় কুড়ি বিঘারও বেশি নীচু জমি বোজানোর কাজ চলছে। রাতের অন্ধকারে ট্রাকে করে মাটি ও রাবিশ এনে জমি ভরাট করা হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের। অভিযোগ, স্থানীয় পঞ্চায়েতের উপপ্রধানের মদতেই এই বেআইনি কাজ চলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সরস্বতী খাল সংলগ্ন মহিয়াড়ি ২ নম্বর পঞ্চায়েতের ওই এলাকাটি নীচু জমি বলেই পরিচিত। বর্ষার সময় সরস্বতী খাল উপচে গোটা এলাকা জলমগ্ন হয়ে যায়। তার উপর পর্যাপ্ত নিকাশি ব্যবস্থার অভাবে বছরের অন্যান্য সময়েও জমা জলের সমস্যা লেগেই থাকে। বর্তমানে যে কুড়ি বিঘারও বেশি জমি ভরাট করা হচ্ছে, সেখানে বছরের অন্যান্য সময় চাষ হত। বর্ষার সময় সেই জমি কার্যত জলাশয়ে পরিণত হত, যা এলাকার প্রাকৃতিক নিকাশি ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে মনে করছেন বাসিন্দারা। স্থানীয়দের আশঙ্কা, ওই নীচু জমি ভরাট হয়ে গেলে আগামী বর্ষায় গোটা এলাকা বানভাসি হয়ে যাবে। ফলে কয়েকশো মানুষের বসবাস কার্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।
প্রবীণ বাসিন্দা পাঁচকড়ি পাল বলেন, ‘আইন না মেনেই জমি ভরাট হচ্ছে। স্থানীয় নেতাদের মদত থাকায় ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।’ আরেক বাসিন্দা শান্ত রায়ের দাবি, ‘দিনরাত রাবিশ ফেলে ভরাটের কাজ চলছে। শোনা যাচ্ছে, এখানে কারখানা হবে।’ জমি ভরাটের কথা স্বীকার করে নিয়েছেন স্থানীয় পঞ্চায়েতের উপপ্রধান মনতাজ মোল্লা। তাঁর দাবি, ‘ওটা শালি জমি ছিল। ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ভরাট করা হচ্ছে। নিকাশি নিয়ে অভিযোগ ঠিক নয়।’ তবে শালি জমিতে নির্মাণ আইনসিদ্ধ কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেননি তিনি। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার ব্লকের ভূমি ও ভূমি রাজস্ব আধিকারিকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। নিজস্ব চিত্র