নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: বাগজোলা খালে সেচদপ্তরের পাইলিংকে ঘিরে বরানগরে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সেচদপ্তর যেভাবে পাড় বাঁধার কাজ করছে, তাতে ওই জায়গা কার্যত ‘বটল নেকের’ চেহারা নিচ্ছে। এভাবে পাড় বাঁধানো হলে আগামী দিনে কামারহাটি সহ বিস্তীর্ণ এলাকার নিকাশি ব্যবস্থা অবরুদ্ধ হবে। ফলে অল্প বৃষ্টিতেই ফের জলমগ্ন হবে গোটা এলাকা। ইতিমধ্যেই স্থানীয় বাসিন্দারা সমাজমাধ্যমে এনিয়ে সরব হয়েছেন। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের মধ্যেও ক্ষোভ ছড়িয়েছে। বাগজোলা খাল উত্তর শহরতলির অন্যতম মূল নিকাশিপথ। সেই খালের দূষণ ও জবরদখল রুখতে গ্রিন বেঞ্চ একাধিক নির্দেশ দিয়েছে। বিভিন্ন পুরসভাকে নিয়ে বহুবার বাগজোলা খাল পরিদর্শন করেছে পূর্তদপ্তর। কিন্তু তাতে খুব একটা লাভ হয়নি। ফি বছর বর্ষা হলেই বাগজোলা খাল উপচে জলমগ্ন হয় দক্ষিণ দমদম, বরানগর সহ বিভিন্ন এলাকা। কামারহাটি, দমদম, দক্ষিণ দমদম সহ বিভিন্ন পুর এলাকার জল বাগজোলা খাল দিয়ে বের হয়। এই খালের পাড় দখলের পাশাপাশি খাল দখল করেও বহু বাড়ি ও কলোনি তৈরি হয়েছে। এখনও নিত্যনতুন জায়গা দখলের প্রবণতা রয়েছে। মূলত খালপাড়ের বাসিন্দারা ধীরে ধীরে আবর্জনা ফেলে খালের একাংশ বুজিয়ে বাড়িঘর তৈরি করেছেন। পরে ধসের পরিস্থিতি হলে সেচদপ্তরের দ্বারস্থ হয়ে পাইলিংয়ের আবেদন করছেন। এর ফলে বাগজোলা খাল ক্রমশ সরু হচ্ছে ও নাব্যতা হারাচ্ছে। অল্প বৃষ্টিতেই জলমগ্ন হচ্ছে বিভিন্ন পুরসভা এলাকা। কামারহাটির দিক থেকে আসা বাগজোলা খাল বরানগর পুরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সতীন সেন নগরের গা ঘেঁসে এগিয়েছে। সতীন সেন নগরে বাগজোলা খাল পারাপারের জন্য শিবমন্দির ব্রিজ বহু আগেই তৈরি হয়েছে। ব্রিজের উল্টোদিকে পুরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ড। ওই ওয়ার্ডে বাগজোলা খালের পাড়ে রয়েছে জেলেপাড়া মৎস্যজীবী কলোনি। অভিযোগ, বছর দশেক আগেও এখানে বাগজোলা খালের চওড়া ছিল প্রায় ৫০ ফুট। এখন কমতে কমতে তা প্রায় ৩০ ফুটে এসে দাঁড়িয়েছে। অথচ আশপাশের এলাকায় খালের চওড়া আগের মতো রয়েছে। সম্প্রতি মৎস্যজীবী কলোনি এলাকায় সেচদপ্তর পাইলিংয়ের কাজ শুরু করেছে। কারণ, খালপাড় ধসে পড়ায় ঘরবাড়ি ভাঙার আশঙ্কা করেছিলেন স্থানীয়রা। কিন্তু সেচদপ্তর এই কাজ শুরু করতেই এলাকাবাসীর ক্ষোভ চরমে ওঠে। কারণ, সেচদপ্তর এর আগেও ওই এলাকায় পাড় বাঁধার কাজ করেছিল। সেই সময়কার পাইলিংয়ের খুঁটি এখনও রয়েছে। আগের পাইলিং ছেড়ে কয়েক হাত খালের ভিতরে নতুন করে পাইলিং করা হচ্ছে। এতে খাল আরও সংকুচিত হচ্ছে। অভিযোগ, ওই এলাকায় বসবাসকারী সেচদপ্তরের এক কর্মী এই কাজ করতে মদত দিচ্ছেন। সেচদপ্তরের তরফে অভিযোগ খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।



