Bartaman Logo
২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

জঙ্গি মডিউল গড়ে তোলার অভিযোগ! বাংলা-অসম-কেরলে একযোগে এনআইএ তল্লাশি

বাংলায় জঙ্গি মডিউল গড়ে তোলার অভিযোগে বাংলাদেশভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জামাত-উল-মুজাহিদিন বাংলাদেশের বিরুদ্ধে তদন্তে মঙ্গলবার সকাল থেকেই তৎপর জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ।

জঙ্গি মডিউল গড়ে তোলার অভিযোগ! বাংলা-অসম-কেরলে একযোগে এনআইএ তল্লাশি
  • ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:২২
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি কলকাতা, সংবাদদাতা কাটোয়া ও গঙ্গারামপুর: বাংলায় জঙ্গি মডিউল গড়ে তোলার অভিযোগে বাংলাদেশভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জামাত-উল-মুজাহিদিন বাংলাদেশের বিরুদ্ধে তদন্তে মঙ্গলবার সকাল থেকেই তৎপর জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। অসমে দায়ের হওয়া একটি মামলার সূত্র ধরেই মঙ্গলবার সকালে পশ্চিমবঙ্গের ডায়মন্ড হারবার,বর্ধমান এবং উত্তরবঙ্গের সহ মোট ৫টি এলাকায় একযোগে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছেন তদন্তকারীরা। 

Advertisement

তদন্তকারী সংস্থার সূত্রের দাবি, অভিযানের আগে বেশ কিছু নির্দিষ্ট তথ্য হাতে এসেছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বাড়ি ও অন্যান্য জায়গায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি সাতসকালেই পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোটে পৌঁছয় আধিকারিকরা। সেখানে এক যুবককে আটক করে নিয়ে যায় তারা। এই ব্যক্তির বাংলাদেশের নিষিদ্ধ সংগঠন জামাতুল মুজাহিদিনের সঙ্গে যোগসূত্র মিলেছে বলে দাবি এনআইএ-এর।  তাকে এখন জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছেন আধিকারিকরা। অপরদিকে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বংশীহারী থানার কুশকারী এলাকায়  মজিবুর রহমান নামক এক ব্যক্তির বিরুদ্ধেও সরব হন তদন্তকারীরা। এদিন এলাকায় ৫ জনের প্রতিনিধি দল তার বাড়িতে গিয়ে পৌঁছয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যোগ এবং তথ্য পাচার করত সে। 

সূত্রের খবর, এনআইএর আধিকারিকরা মজিবুর রহমানকে বাড়িতে না পেয়ে তাঁর বাবা মিজানুর রহমানকে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ করেন। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বেশ কিছু নথিতে তাঁর কাছ থেকে সই নেওয়া হয় বলেও দাবি করেছেন মিজানুর রহমান। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশও তাঁর জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকার বিষয়টি মানতে নারাজ। জানা গিয়েছে, মজিবুর উচ্চশিক্ষিত এবং এলাকায় তাঁর পরিচিতিও রয়েছে। তবে অভিযোগের সত্যতা কী, মজিবুর রহমানের সঙ্গে কোনও নিষিদ্ধ সংগঠনের আদৌ যোগাযোগ রয়েছে কি না এবং তদন্তে এনআইএ কী তথ্য পেয়েছে সেই বিষয়গুলিই এখন নজরে। 

উল্লেখ্য, এএনআই সূত্রে জানা গিয়েছে অসম, পশ্চিমবঙ্গ ও কেরলের মোট ১৬টি জায়গায় একযোগে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। অসমে উগ্রপন্থায় প্ররোচনা সংক্রান্ত একটি মামলার তদন্তের সঙ্গে এই অভিযান যুক্ত। তদন্তে উঠে এসেছে ইমাম মাহমুদর কাফিলার নাম। তদন্তকারী আধিকারিকদের দাবি, ইমাম মাহমুদর কাফিলার সংগঠন নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাত-উল-মুজাহিদিন বাংলাদেশের একটি শাখা হিসেবে কাজ করছে।  তদন্তকারী সংস্থার এই অভিযানে অসমের ১০টি, পশ্চিমবঙ্গের ৫টি এবং কেরলের একটি জায়গায় তল্লাশি চলছে। সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের বাড়ি ও অন্যান্য জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে উগ্রপন্থায় প্ররোচনা সংক্রান্ত নথি, তথ্যপ্রমাণ এবং সম্ভাব্য আন্তঃসীমান্ত যোগাযোগের সূত্র খোঁজা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। অসমে ইমাম মাহমুদর কাফিলার নেটওয়ার্কের কার্যকলাপ এবং সীমান্তের ওপারে সক্রিয় বিভিন্ন সংগঠন বা ব্যক্তির সঙ্গে তাদের সম্ভাব্য যোগাযোগও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। 

 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ