নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রামে প্রচারে ঝড় তুলেছেন হিন্দু সুরক্ষা বাহিনী সমর্থিত নির্দল প্রার্থীরা। প্রচারে বেরিয়ে তাঁরা বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ দাগছেন। এই প্রার্থীদের অভিযোগ, অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা তাঁদের ভয় দেখাচ্ছে। কিন্তু তাঁরা তাতে ভয় পাচ্ছেন না। পালটা বিজেপির দুর্নীতির খবর ফাঁস করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।
ঝাড়গ্রামে বিজেপির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে একঝাঁক নেতা দল ছেড়েছিলেন। তাঁদের উদ্যোগেই জঙ্গলমহলের মাটিতে ‘পশ্চিমবঙ্গ হিন্দু সুরক্ষা বাহিনী’ আত্মপ্রকাশ করে। সংগঠন সমর্থিত তিন নির্দল প্রার্থী ভোটে লড়ছেন। ঝাড়গ্রামে শুভাশিস কারক, গোপীবল্লভপুরে বিমল পাল ও বিনপুরে ভীম সোরেনকে প্রার্থী করা হয়েছে। সংগঠনের ইস্তাহারে দুর্নীতি ও দাঙ্গামুক্ত সমাজগঠন, কৃষকদের ন্যায্যমূল্যে সার ও কীটনাশক সরবরাহের দাবি তোলা হয়েছে।
সংগঠনের অভিযোগ, নাম ঘোষণার পর থেকেই তাদের সমর্থিত প্রার্থীদের অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা হুমকি দিচ্ছে। ভোটের ময়দান থেকে সরে যেতে বলা হচ্ছে। তবে প্রার্থীরা জানিয়ে দিয়েছেন, ভয় দেখিয়ে তাঁদের ময়দানছাড়া করা যাবে না। যারা ধর্ম নিয়ে দাঙ্গা করতে চাইছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রচার চলবে।
হিন্দু সুরক্ষা বাহিনীর প্রচার ইতিমধ্যে গেরুয়া শিবিরের গলার কাঁটা হয়ে উঠেছে। বিজেপির বিক্ষুব্ধ নেতাদের একাংশ ইতিমধ্যেই এই সংগঠনে যোগ দিয়েছেন। গেরুয়া শিবিরের দাবি, হিন্দু ভোট কেটে তৃণমূলকে লাভবান করার জন্য এই সংগঠন মাঠে নেমেছে।
ঝাড়গ্রামের মানিকপাড়ার বিজেপির প্রাক্তন মণ্ডল সভাপতি শ্যামাপদ মাহাত বলেন, ২০১৬-’২১ সাল অবধি মণ্ডল কমিটির সম্পাদকের দায়িত্ব সামলেছি। দিলীপ ঘোষ বলেছিলেন, তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়লে দল পাশে থাকবে। কিন্তু আমি সহ একাধিক নেতার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। দলের জন্য জেল খেটেছি। কিন্তু ছাড়া পাওয়ার পর দলের নেতারা আর যোগাযোগ করেননি। তাই ৬০জন কর্মী নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ হিন্দু সুরক্ষা বাহিনীতে যোগ দিয়েছি।
পশ্চিমবঙ্গ হিন্দু সুরক্ষা বাহিনীর রাজ্য সভাপতি কর্ণ পাল বলেন, দু’বছর আগে বিজেপির অন্দরের দুর্নীতি ফাঁস করে দিয়েছিলাম। সেসময় বিমল পাল, শ্যামসুন্দর চট্টোপাধ্যায়, রাকেশ দত্ত, তরুণ মাহাতর মতো বিজেপি নেতারা দল ছেড়েছিলেন। হিংসা-দাঙ্গা নয়, সহিষ্ণুতার বার্তা দিয়ে এই সংগঠন গড়ে তোলা হয়েছিল। আমাদের প্রার্থীদের কখনো টাকার লোভ, কখনো ভয় দেখানো হচ্ছে। এসব করে আমাদের দমানো যাবে না।
বিনপুরের বিজেপি নেতা মাসাং টুডু বলেন, হিন্দু সুরক্ষা বাহিনীর প্রার্থী দেওয়ার পিছনে তৃণমূলের হাত রয়েছে বলে মনে করছি। তবে এখানে ওদের প্রভাব নেই। জেলা তৃণমূলের সহ-সভাপতি প্রসূন ষড়ঙ্গি বলেন, বিজেপি সব কিছুতেই তৃণমূলের ভূত দেখে। ধর্ম নিয়ে আমরা রাজনীতি করি না।