নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: পঞ্চায়েতের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করতে গেলে দিতে হবে মোটা টাকার তোলা! তৃণমূলের একপক্ষের বিরুদ্ধে অন্যপক্ষের একরমই অভিযোগ। সেই টাকা দিতে অস্বীকার করায় দলেরই পঞ্চায়েত সদস্যকে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায় ধানতলা থানার আড়ংঘাটায়। ঘটনায় দু’ পক্ষই অভিযোগ দায়ের করেছে থানায়। ঘটনাস্থল রানাঘাট ২ ব্লকের আড়ংঘাটা পঞ্চায়েত। যেখানে বোর্ড তৃণমূলেরই। মঙ্গলবার রাত সাড়ে আটটা নাগাদ পঞ্চায়েতের কার্যালয় থেকে বের হন তৃণমূল সদস্য দিলীপ পাল। সেই সময়ে তাঁর পথ আটকায় দলেরই কয়েকজন। কথা বলার নাম করে তাঁকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয় পাশেই শিশু উদ্যানের মাঠে। অভিযোগ, তারা দিলীপের থেকে ২৫ হাজার টাকা দাবি করে। সেই টাকা দিতে অস্বীকার করেন ওই পঞ্চায়েত সদস্য। তাতে দিলীবাবুকে বেধড়ক মারধর করে অপরপক্ষ। দিলীপের গলায় থাকা সোনার চেন এবং টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ। অভিযুক্তরা প্রত্যেকেই তৃণমূলের স্থানীয় নেতাকর্মী হিসেবে পরিচিত।
ঘটনার পর রাতেই স্থানীয়রা জখম পঞ্চায়েত সদস্যকে উদ্ধার করে নিয়ে যান শব্দালপুর গ্রামীণ হাসপাতালে। পরবর্তীতে ধানতলা থানায় এই ঘটনার লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন আক্রান্ত পঞ্চায়েত সদস্য। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে জয়দেব প্রামানিক নামে রানাঘাট ২ ব্লক তৃণমূলের এক যুবনেতাকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। আক্রান্ত পঞ্চায়েত সদস্য দিলীপ পালের কথায়, ওই শিশু উদ্যানটিতে বিভিন্ন ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপ চলত। আমি উদ্যোগ নিয়ে সেগুলি বন্ধ করেছি। সেই কারণে দলেরই একাংশ আমার উপর ক্ষুব্ধ। তিনি আরও বলেন, আমার কাছে ২৫ হাজার টাকা চাওয়া হয়েছিল। ওদের দাবি, এলাকায় নাকি উন্নয়নমূলক কাজ করতে হলে ওদের ‘তোলা’ দিতে হবে। কিন্তু আমি ওই টাকা দিতে অস্বীকার করেছিলাম বলে পাঁচ-সাতজন মিলে আমাকে বেধড়ক মেরেছে। আমার চেঁচামেচিতে এলাকার লোকজন ছুটে আসে। দিলীপবাবু দলেরই নিমাই দত্ত নামে এক নেতার বিরুদ্ধে এই ঘটনার সমস্ত দায় চাপিয়েছেন।
তৃণমূল সূত্রে খবর, নিমাই দত্ত ব্লক তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন। যদিও এই ঘটনার সঙ্গে তিনি কোনওভাবেই যুক্ত নন বলে দাবি নিমাইয়ের। তিনি বলেন, ঘটনার সময় আমি ছিলাম না ওই এলাকায়। শুনেছি, দিলীপ পাল অনেকের কাছ থেকেই টাকা ধার নিয়েছে। ধার নেওয়া টাকা ফেরত চাওয়া নিয়েই অশান্তি। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যে অভিযোগ এনে বদনাম করার চেষ্টা চলছে। যদিও বিষয়টি নিয়ে আড়ংঘাটা পঞ্চায়েতের উপপ্রধান তথা তৃণমূল নেতা অম্লান ভট্টাচার্য বলেন, বিষয়টি সম্পূর্ণ দলের আভ্যন্তরীণ বিষয়। তাই প্রশাসনের পাশাপাশি দলও ঘটনা খতিয়ে দেখছে। বিজেপির নদীয়া দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলার মুখপাত্র সোমনাথ কর বলেন, তোলা না দেওয়ায় তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্যকেই তৃণমূলের লোকজন মারধর করছে। তাহলে সাধারণ মানুষের অবস্থাটা সহজেই অনুমেয়। এর থেকে লজ্জার আর কিছু হতে পারে না। যদিও বিষয়টি নিয়ে পুলিসের এক কর্তা বলেন, আমরা দু’ তরফেরই অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। একজনকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে।