নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: পুজোর চাঁদা না দেওয়ায় মহিষাদলের সিডিপিও (চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট অফিসার) সুজন দাসকে রাস্তায় ফেলে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ। রবিবার সকাল ৯টা নাগাদ ওই থানার রাজচক এলাকার উত্তেজনা ছড়ায়। ঘটনাস্থল থেকে থানায় ফোন করে সাহায্য চান সিডিপিও। মহিষাদল থানার পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই অফিসারকে উদ্ধার করে। ঘটনাস্থলে এক গ্রিন পুলিশ দাঁড়িয়ে থেকেও সহযোগিতা করেননি বলে সুজনবাবুর অভিযোগ। ক্লাব সদস্যদের বিরুদ্ধে তিনি হলদিয়ার মহকুমা শাসককে চিঠি দিয়েছেন। এনিয়ে সুয়োমটো কেস করার আর্জি জানিয়েছেন ওই অফিসার।
রবিবার সকালে মহিষাদল থানার ইটামগরা-২ গ্রাম পঞ্চায়েতে এক নাবালিকার বিয়ের তোড়জোড় চলছে বলে খবর পান সিডিপিও। নাবালিকার বিয়ে আটকানোর জন্য এরাজ্যের প্রত্যেক সিডিপিওকে চাইল্ড ম্যারেজ প্রোটেকশন অফিসার (সিএমপিও) হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ওই কাজে তাঁদের ফ্রন্টলাইন ওয়ার্কার হিসেবে কাজ করতে হয়। রবিবার ছুটির দিনে ড্রাইভার ছুটিতে থাকায় নিজের স্কুটি নিয়ে রওনা দেন সুজনবাবু। মহিষাদল-গেঁওখালি রাস্তা ধরে এগনোর সময় রাজচক বাস স্ট্যান্ডে যুবগোষ্ঠী নামে একটি ক্লাব সদস্যরা মনসা পুজোর জন্য তাঁর কাছ থেকে টাকা দাবি করে। ওই অফিসার চাঁদা দিতে অস্বীকার করেন। কিন্তু, ক্লাব সদস্যরা নাছোড়। এনিয়ে দু’-এক কথার মধ্যেই উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়। ওই অফিসারকে স্কুটি থেকে ফেলে মারধর করা হয়। ক্লাব সভাপতি হিমাংশু মিশ্র, সম্পাদক প্রদীপ মাইতি প্রমুখ তাঁকে মারধর করেছেন বলে অভিযোগে জানিয়েছেন।
জানা গিয়েছে, হামলার মুখে পড়ে সিডিপিও থানায় ফোন করে সাহায্য চান। তাঁকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করার আর্জি জানান। প্রথমে গেঁওখালি ফাঁড়ি থেকে দু’টি বাইকে চারজন পুলিশ কর্মী ঘটনাস্থলে যান। তারপর মহিষাদল থানা থেকে পুলিশের গাড়ি গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে আনে। নাবালিকা বিয়ে আটকাতে যেতে পারেননি ওই অফিসার। গোটা ঘটনায় ব্লক প্রশাসনেও হইচই পড়ে গিয়েছে। বিডিও এবং এসডিওকে গোটা ঘটনার কথা জানিয়েছেন ওই সিডিপিও।
এনিয়ে সুজনবাবু বলেন, আমি ইটামগরা-২ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় যাচ্ছিলাম। নাবালিকার বিয়ে বন্ধ করার জন্য নিজের স্কুটিতে চড়ে রওনা দিই। যাওয়ার পথে চাঁদা আদায়ের নামে হুজ্জুতি করছিল। এনিয়ে বাকবিতণ্ডার মধ্যেই আমাকে মারধর করা হয়। এনিয়ে থানায় অভিযোগ করলে দেখে নেওয়ার হুমকি জুটেছে। গোটা ঘটনায় আমি আতঙ্কিত। আশাকরি, পুলিশ প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে।
যুবগোষ্ঠী গত ৪০ বছর ধরে রাজচক বাস স্ট্যান্ডের কাছে ধুমধাম করে মনসা পুজো করে আসছে। ২৮-৩১ অক্টোবর পর্যন্ত পুজো ও মেলার প্রস্তুতি জোরকদমে চলছে। তারমধ্যেই রবিবার ওই ঘটনা ঘটে যায়। এনিয়ে ক্লাব সভাপতি হিমাংশু মিশ্র বলেন, আমরা রাস্তা আটকে চাঁদা আদায় করি না। ওই অফিসারের বাড়ি গেঁওখালিতে। তাঁকে আমরা সকলেই চিনি। সকালে ওই অফিসার রাজচক বাস স্টপের কাছে স্কুটি দাঁড় করিয়ে গুটখা জাতীয় কিছু খাচ্ছিলেন। আমাদের ক্লাব সদস্যরা তাঁকে পুজোর জন্য কিছু অনুদান দিতে বলেন। জবাবে তিনি রাগান্বিত হয়ে অশ্লীল কথাবার্তা বলেন। তখনই ঝামেলা বেধে যায়।