সংবাদদাতা, বোলপুর: বিশ্বভারতীর পাঠভবনের হস্টেলে চতুর্থ শ্রেণির তফসিলি জাতিভুক্ত ছাত্রীকে শারীরিক ও মানসিক হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে। ছাত্রীর পরিবারের দাবি, দিনের পর দিন তাকে শারীরিকভাবে নিগ্রহ করা হয়েছে। মানসিকভাবে হেনস্তা করা হয়েছে। ওই পড়ুয়ার পরিবার প্রধানমন্ত্রী তথা বিশ্বভারতীর আচার্য, রাজ্যপাল, শিক্ষামন্ত্রী, উচ্চশিক্ষা দপ্তর এবং এসসি কমিশনের কাছে ই-মেলে অভিযোগ জানিয়েছে। ছাত্রীর পরিবার ওই অভিযোগে উল্লেখ করেছে, হস্টেলে থাকার সময় ছাত্রীটি বারবার অসুস্থ হয়ে পড়লেও ন্যূনতম চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়নি। অথচ হস্টেল থেকে মাত্র এক কিলোমিটারের মধ্যেই বিশ্বভারতীর পিয়ারসন মেমোরিয়াল হাসপাতাল রয়েছে। ছ’দিনের বেশি অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও ওই ছাত্রীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়নি বলে উল্লেখ করেছেন। এমনকি, হাসপাতালে শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ না থাকায় বাইরে চিকিৎসার প্রয়োজন হলেও স্কুল কর্তৃপক্ষ সেই অনুমতি দেয়নি বলেও জানিয়েছে পরিবার। আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বোলপুরের বাসিন্দা ওই পড়ুয়া নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করে। এসসি সংরক্ষিত আসনে হস্টেলে থেকে গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে পড়াশোনা করছে। দু’মাস পর থেকেই তার শারীরিক সমস্যা বাড়তে থাকে। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে নিয়ে গিয়ে তাঁরা জানতে পারেন, হস্টেলের নিম্নমানের খাবার ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণেই সে বারবার অসুস্থ হচ্ছে। হস্টেলে প্রশিক্ষিত ওয়ার্ডেন নেই। কাউন্সেলিংয়ের অভাবে ওই ছাত্রীর উপর অতিরিক্ত মানসিক চাপ বাড়ছে। এরফলে তার স্বাস্থ্য ও পড়াশোনা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই শারীরিক কারণে ওই ছাত্রীকে ডে-স্কলার হিসেবে পড়াশোনার অনুমতি দেওয়া অথবা শিক্ষাসত্রে স্থানান্তরের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ জানিয়েছে পরিবার।



