মুম্বই ও নয়াদিল্লি (পিটিআই): অব্যাহত ‘রক্তক্ষরণ’। ডলারের সাপেক্ষে এই প্রথম বুধবার ভারতীয় মুদ্রার দর ৯০ টাকার গণ্ডি ছাড়াল। পতনের সর্বকালীন রেকর্ড গড়ল টাকা। মঙ্গলবারের চেয়ে আরও ২৫ পয়সা বেড়ে দিনের শেষে প্রতি ডলারের দাম হয় ৯০ টাকা ২১ পয়সা। তবে এব্যাপারে অবশ্য মোদি সরকারের বিশেষ হেলদোল নেই। কেন্দ্রের মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ভি অনন্ত নাগেশ্বরণের সাফাই, টাকার এই পতনের কারণে সরকারের মোটেও ঘুম উড়ছে না। দিল্লিতে সিআইআই-এর একটি অনুষ্ঠানের ফাঁকে তিনি বলেন, টাকার দর নিম্নমুখী হওয়ার ধাক্কা মুদ্রাস্ফীতি বা রপ্তানির উপর পড়ছে না। নতুন বছর থেকে ভারতীয় মুদ্রার দর ফের ঊর্ধ্বমুখী হবে বলেও আশাপ্রকাশ করেন মোদি সরকারের এই শীর্ষ অর্থনীতিবিদ। তবে তাঁর যুক্তিতে চিঁড়ে ভিজছে না। এরমধ্যেই বুধবারও শেয়ার সূচক নিম্নমুখীই থাকল। এই নিয়ে পরপর চারদিন।
গোটা বছর জুড়ে ৫ শতাংশের বেশি পতন হয়েছে টাকার দরে। ২০২৫ সালে এশিয়ার ‘সবচেয়ে খারাপ মুদ্রা’র তকমা জুটেছে টাকার। বিশেষজ্ঞরা এই পতনের নেপথ্যে একঝাঁক কারণের উল্লেখ করেছেন। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ভারতীয় শেয়ার বিক্রির ধারা অব্যাহত রয়েছে। শুধুমাত্র মঙ্গলবার বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা (এফআইআই) ৩ হাজার ৬৪২.৩০ কোটি টাকা মূল্যের শেয়ার বিক্রি করে ভারতীয় বাজার থেকে লগ্নি গুটিয়ে নিয়েছেন। এর ফলে ফলে বিশাল পরিমাণে অর্থ নাগাড়ে দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে। অশোধিত তেলের আমদানি খরচ বেড়েছে। ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি ঘিরে অনিশ্চয়তা টাকার উপর চাপ আরও বাড়িয়েছে। পতন রুখতে রিজার্ভ ব্যাংকও প্রত্যাশিত পদক্ষেপ করছে না বলে অভিযোগ বাণিজ্য মহলের একাংশের।
মঙ্গলবার লেনদেন একটা সময় টাকার দর একবার ৯০-এর গণ্ডি ছুঁলেও শেষ পর্যন্ত কিছুটা সামলে নিয়েছিল। বুধবার বাজার খোলার সময় ডলারের সাপেক্ষে ভারতীয় মুদ্রার দর ছিল ৮৯.৯৬ টাকা। একটা সময় তা ৯০ টাকা ৩০ পয়সায় পৌঁছে গিয়েছিল।
এরমধ্যে টানা চারদিন পতনের সাক্ষী শেয়ার বাজারও। বুধবার বিএসই সূচক সেনসেক্স নতুন করে ৩১.৪৬ (০.০৪ শতাংশ) অঙ্ক পড়ে ৮৫ হাজার ১০৬.৮১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। পতন হয়েছে এনএসই নিফটিতেও। ৪৬.২০ (০.১৮ শতাংশ) অঙ্ক কমে নিফটি ২৫ হাজার ৯৮৬ পয়েন্টে স্থির হয়।