সংবাদদাতা, ঘাটাল: দিনের বেলায় প্রকাশ্যে ঘাটাল শহরের বাজার এলাকার আবর্জনা শিলাবতী নদীতে ফেলা হচ্ছে। ফলে শহরের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া এই নদী ভরাট হয়ে দিনকে দিন সংকীর্ণ তথা সরু হয়ে যাচ্ছে। পুরসভার চোখের সামনে ওই ঘটনা ঘটলেও তারা কোনও ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ। শিলাবতী নদীতে যে আবর্জনা ফেলা হচ্ছে, তা পরোক্ষে স্বীকার করে নিয়েছেন ঘাটাল পুরসভার স্যানিটরি ইনসপেক্টর অসীম আদক। তিনি বলেন, শহরের আবর্জনা ফেলার জন্য আমাদের একটি নির্দিষ্ট এলাকা রয়েছে। শহরের বিভিন্ন জায়গায় ভ্যাট রয়েছে। তবুও এক শ্রেণির মানুষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে রাতের অন্ধকারে নদীর দুই পাড়ে এবং নদীগর্ভে আবর্জনা ফেলে থাকেন। এটাকে কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তবে আমরা সরাসরি দেখতে পেলে তাঁদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
ঘাটাল শহরের উপর দিয়ে শিলাবতী নদী প্রবাহিত হয়ে গিয়েছে। ওই পুরসভার মোট ১৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে নদীর একদিকে রয়েছে ১ থেকে ১২ নম্বর ওয়ার্ড। আর নদীর অন্যদিকে রয়েছে ১৩ নম্বর থেকে ১৭ নম্বর ওয়ার্ড। নদীর পশ্চিম পাড়ে রয়েছে ঘাটাল শহর তথা ঘাটাল মহকুমার প্রধান বাণিজ্য কেন্দ্রটি। শহরের ২, ৩, ৪, ৫ এবং ১১ নম্বর ওয়ার্ড মিলিয়ে ওই প্রধান ব্যবসা কেন্দ্র এলাকায় কয়েক হাজার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। শহরের বাসিন্দারা বলেন, ওই বাণিজ্য কেন্দ্রের বেশ কিছু দোকানদার প্রত্যেক দিন দোকান পরিষ্কার করে সেই আবর্জনা শিলাবতী নদীগর্ভে ফেলে দেন। ওই সমস্ত আবর্জনার মধ্যে পলিথিন, চটের থলে, খালি কার্টন থেকে শুরু করে নানা রকম জিনিসপত্র থাকে। ওই সমস্ত জিনিসপত্রগুলি নিয়মিত ফেলার ফলে নদীটি দিনকে দিন দুই দিক থেকে ভরাট হয়ে আসছে। অভিযোগ, শহরের কিছু কিছু হোটেলের মালিক রাতের অন্ধকারে প্লাস্টিকের গ্লাস, থালা, বাটি সহ হোটেলের সমস্ত অব্যবহৃত এবং বেশি হওয়া জিনিসপত্র, আবর্জনা ভ্যানে করে নিয়ে গিয়ে ওই নদীতে ফেলে দেন। এই সমস্ত আবর্জনা নিয়মিত ফেলার ফলে বিগত এক-দেড় দশকের মধ্যে নদীটি প্রস্থে ৩০ ফুটেরও বেশি ভরাট হয়ে গিয়েছে। শিলাবতী নদী যে ক্রমশ মজে ভরাট হয়ে যাচ্ছে, তা স্বীকার করেছেন ঘাটাল মহকুমা সেচ ও জলপথ দপ্তরের অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার উজ্জ্বল মাখাল। তিনি বলেন, নদীর পাড়ে আবর্জনা ফেলার বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের দেখার কথা। তাই এনিয়ে কোনও মন্তব্য করতে পারব না। অন্য এক স্যানিটরি ইনসপেক্টর সঞ্জয়কুমার দে বলেন, শিলাবতীতে আবর্জনা ফেলার বিষয়ে আমরা খুব শীঘ্রই একটি মিটিং করে পদক্ষেপ নেব।