Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রথতলার মাঠ ছুঁয়ে যায় কাটোয়ার সমস্ত রথ

তালপুকুর রয়েছে। কিন্তু সেখানে আর ঘটি ডোবে না। এমন কথার প্রচলন রয়েছে। কাটোয়ার রথতলার অবস্থাও তালপুকুরের মতোই। দীর্ঘ আশি বছর ধরে কাটোয়ার রথতলায় রথের শোভাযাত্রা আর বের হয় না।

রথতলার মাঠ ছুঁয়ে যায় কাটোয়ার সমস্ত রথ
  • ২৭ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাটোয়া: তালপুকুর রয়েছে। কিন্তু সেখানে আর ঘটি ডোবে না। এমন কথার প্রচলন রয়েছে। কাটোয়ার রথতলার অবস্থাও তালপুকুরের মতোই। দীর্ঘ আশি বছর ধরে কাটোয়ার রথতলায় রথের শোভাযাত্রা আর বের হয় না। অথচ নাম সেই রথতলাই রয়ে গিয়েছে। তবে শহরের সমস্ত রথ রথতলার মাঠ ছুঁয়ে যায়। রথতলায় শুধু সাবেকি প্রথা মেনে জগন্নাথদেবের পুজো হয়। কিন্তু রথতলার রথ আর বের হয় না। 

Advertisement

কাটোয়া শহরের ১৭নম্বর ওয়ার্ডে রথতলায় প্রতি বছর রথের মেলা বসে। মেলায় প্রচুর মানুষের সমাগম হয়। অতীতে রথতলায় বহু প্রাচীন রথযাত্রার আয়োজন করা হতো। বড় কাঠের সুদৃশ্য রথও টানা হতো। কিন্তু সেই রথের শোভাযাত্রা দীর্ঘ আশি বছর ধরে বন্ধ হয়ে গিয়েছে। সাবেকি আমলের রথ এখন ভেঙে গিয়েছে। কিন্তু রথতলার মাঠে রথ আসবে না তা হয়নি কখনও। তাই সারা কাটোয়া শহরের রথ রথতলার মাঠে নিয়ে আসা হয়। সমাপ্তি ক্লাবের কার্যকরী সভাপতি বিজন ভট্টাচার্য বলেন, আগে রথতলার মাঠে বহু প্রচীন রথের শোভাযাত্রা বের হতো। মেলা বসত। এখন সবই আছে। কিন্তু রথের শোভাযাত্রা প্রায় আশি বছর ধরে বের হয় না। তার বদলে জাঁকজমকের সঙ্গে জগন্নাথদেবের পুজো হয়। তবে ভবিষ্যতে রথের শোভাযাত্রা যাতে বের করা যায় তা নিয়ে চিন্তাভাবনা চলছে। 
আজ, কাটোয়া শহরের বাসিন্দারা রথযাত্রার শোভাযাত্রায় মেতে উঠবেন। কাটোয়ার সার্কাস ময়দানে ইসকন অনুমোদিত হরেকৃষ্ণ নামহট্ট মন্দির। মন্দির কমিটি জানিয়েছে, ২৪ বছর ধরে এই মন্দিরে রথযাত্রা উৎসব পালিত হয়ে আসছে। মন্দির কমিটি সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথা মেনে রথযাত্রার দিন জগন্নাথদেবকে ৬৫ পদ সহযোগে ভোগ দেওয়া হয়। জগন্নাথদেবের এই ভোগের জন্য প্রস্তুতি আগেরদিন বিকেল থেকেই শুরু হয়ে যায়। রথের দিন বিকেলে নাগাদ রশিতে টান দিতে পারবেন সবাই। রথের শোভাযাত্রা ঘোষেশ্বরতলা পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়। এছাড়া দাঁইহাট শহরের ১০নম্বর ওয়ার্ডে জগন্নাথতলা এলাকায় নবারুণ সঙ্ঘ রথ কমিটিও রথের শোভাযাত্রা বের করে। প্রাচীন এই রথ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বর্ধমানের রাজাদের হাত ধরেই। মন্দিরেও জগন্নাথদেব, সুভদ্রা ও বলরামকে বসানো হয়। এবারও কাটোয়ার পানুহাটের রথের চাকা নিয়ম মেনেই ঘুরবে। কাটোয়ার মণ্ডলহাটের মদনমোহন আশ্রম থেকে প্রতি বছর রথে চেপে জগন্নাথ, সুভদ্রা ও বলরাম পানুহাটের ইঁদারাপাড়ে মাসির বাড়ি যান। এটাই রীতি। রথযাত্রা উপলক্ষ্যে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও ব্যাপক উন্মাদনা থাকে। জানা গিয়েছে, কাটোয়ার পানুহাটের ইঁদারাপাড়ের ব্যবসায়ী উত্তম দেবনাথের বাড়িতেই ৩৫বছর ধরে জগন্নাথদেবের মাসির বাড়ি করা হয়। আগে জগন্নাথ দেব, সুভদ্রা ও বলরাম তিনজনেই একটিমাত্র রথে চেপে আসেন। উত্তমবাবু তিনটি বিশালাকার রথ তৈরি করেছেন। কাঠের সুক্ষ্ম কারুকার্য করা সুসজ্জিত বিশালাকার রথ দেখলেই মহাভারতের রথের কথা মনে পড়ে যাবে। রথের দু’দিকে কাঠের ঘোড়া তৈরি করা হয়েছে। বিশালাকার রথ ঘিরে বাসিন্দাদের উন্মাদনাও কম নয়। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ