Bartaman Logo
২১ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

‘নিষ্ক্রিয়’ উপাচার্যের ভূমিকায় সরব সব পক্ষ

ক্যাম্পাস তখন বহিরাগতদের তাণ্ডবে উত্তাল। অভিযোগ, বুধবার রাতে অজস্র ফোন পেয়েও ছাত্র সংঘর্ষের মধ্যে ঢাল হয়ে দাঁড়াতে ক্যাম্পাসে আসেননি উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য।

‘নিষ্ক্রিয়’ উপাচার্যের ভূমিকায় সরব সব পক্ষ
  • ২১ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ক্যাম্পাস তখন বহিরাগতদের তাণ্ডবে উত্তাল। অভিযোগ, বুধবার রাতে অজস্র ফোন পেয়েও ছাত্র সংঘর্ষের মধ্যে ঢাল হয়ে দাঁড়াতে ক্যাম্পাসে আসেননি উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য। বৃহস্পতিবার সকালে তিনি ক্যাম্পাসে ঢুকে কার্যত অন্তরালেই থাকেন। মাঝখান থেকে পড়ুয়াদের হাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘেরাও হয়ে রইলেন সহ-উপাচার্য অমিতাভ দত্ত। ফলে বাম ছাত্ররাই হোন বা এবিভিপি, সবার ক্ষোভই গিয়ে জমেছে উপাচার্যের উপরে। তিনি বিবৃতি দিয়েছেন নামমাত্র এবং গোটা দিন ‘টেকিপ’ বিল্ডিংয়ের একটি নির্দিষ্ট কক্ষে বসেছিলেন।

Advertisement

স্মারকলিপি জমা নেওয়ার জন্য এবিভিপিকে বিকেল সাড়ে চারটে সময় দিয়েছিলেন উপাচার্য। বিভিন্ন গেটে দফায় দফায় বাধা পেয়ে পাঁচটা নাগাদ অরবিন্দ ভবনে উপাচার্যের ঘরে ঢোকেন এবিভিপি প্রতিনিধিরা। তবে তখন উপাচার্য ছিলেন না। এতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে এবিভিপি। তারপর ই মেলে উপাচার্যকে নিজেদের অভিযোগ ও দাবিদাওয়া জানায়। এবং তাঁকে কার্যত বামপন্থী শিক্ষকদের হাতের পুতুল বলে অভিহিত করে। অন্যদিকে এসএফআই সন্ধ্যায় সাংবাদিক বৈঠকে অভিযোগ তোলে, উপাচার্য কোনো দায়িত্ব নিতে চাননি। এর পাশাপাশি দাবিদাওয়া নিয়ে প্রতিশ্রুতি না পেলে অবস্থান বিক্ষোভের হুঁশিয়ারিও দেয় তারা। অনেকের বক্তব্য, বিশ্ববিদ্যালয়ে শক্তিশালী বাম, আর উল্টোদিকে রাজ্যে ক্ষমতাসীন দলের ঘনিষ্ঠ ছাত্র সংগঠন, এই দু’দলের সংঘর্ষে সরাসরি কোনো পক্ষ নিতে চাননি উপাচার্য।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি আজ, শুক্রবার অর্ধদিবস কর্মবিরতি এবং কালো ব্যাজ পরে অবস্থান-বিক্ষোভ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অধ্যাপক সংগঠন অ্যাবুটাও বিবৃতি দিয়ে উপাচার্যের নিষ্ক্রিয় ভূমিকা নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে। সার্বিক নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগও তুলেছে তারা। অন্যদিকে প্রশ্ন উঠছে নিরাপত্তাকর্মীদের ভূমিকা নিয়েও। প্রাক্তন সেনাকর্মী এবং যাদবপুরের নিজস্ব নিরাপত্তারক্ষীদের কার্যত দেখাই মেলেনি বুধবার রাতে। এমনকী বহিরাগতদের গেট খুলে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তাঁদের বিরুদ্ধে। এক কর্মচারি নেতা বলেন, কয়েকশো বহিরাগতকে লাঠি হাতে ঠেকানোর শক্তি নিরাপত্তারক্ষীদের ছিল না। ভবিষ্যতেও এমন ঘটনা ঘটলে তাদের কিছু করার থাকবে না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ