Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পুজোয় সচল থাকবে হাওড়ার সব পাবলিক টয়লেট, দখলমুক্ত করতে উদ্যোগী পুরসভা

শহরের রাস্তায় দর্শনার্থীদের ঢল। আচমকা শৌচালয়ে যাওয়ার প্রয়োজন হলে গিয়ে দেখা যায় সেটি বন্ধ। হাওড়া শহরে পুজোর সময় শৌচালয় নিয়ে ভোগান্তির অভিযোগ আকছার শোনা যায়।

পুজোয় সচল থাকবে হাওড়ার সব পাবলিক টয়লেট, দখলমুক্ত করতে উদ্যোগী পুরসভা
  • ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: শহরের রাস্তায় দর্শনার্থীদের ঢল। আচমকা শৌচালয়ে যাওয়ার প্রয়োজন হলে গিয়ে দেখা যায় সেটি বন্ধ। হাওড়া শহরে পুজোর সময় শৌচালয় নিয়ে ভোগান্তির অভিযোগ আকছার শোনা যায়। শহরজুড়ে পর্যাপ্ত সংখ্যায় পাবলিক টয়লেট থাকলেও তার অধিকাংশই হয় বন্ধ, না-হলে সেখানে জল-বিদ্যুতের সংযোগ নেই। বরাত দেওয়া সংস্থার বদলে অন্য লোক বসিয়ে দিনের পর দিন শহরের পাবলিক টয়লেটগুলো থেকে টাকা তোলা হচ্ছে বলেও অভিযোগ। পুজোর আগেই ‘শৌচালয় দুর্নীতি’ বন্ধ করতে তৎপর হাওড়া পুরসভা। দখলমুক্ত করার পাশাপাশি শহরের প্রতিটি শৌচালয়ে যাতে পর্যাপ্ত জল ও বিদ্যুতের সংযোগ থাকে, সেই ব্যবস্থা নিচ্ছে পুরসভা।

Advertisement

হাওড়া শহরে মোট ৯৯টি পাবলিক টয়লেট রয়েছে। বিভিন্ন বাজার, বস্তি এলাকা মিলিয়ে কমিউনিটি টয়লেটের সংখ্যা প্রায় ২৫০টি। পাবলিক টয়লেটগুলো ঠিকমতো চালানোর জন্য টেন্ডারের মাধ্যমে বিভিন্ন সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। সুলভ মূল্যে সেগুলো ব্যবহার করতে পারেন সাধারণ মানুষ। অন্যদিকে কমিউনিটি টয়লেটের দায়িত্ব থাকে স্থানীয় বাসিন্দাদের উপরে। তাঁরা নিজেরাই সেগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ করে নিয়মিত ব্যবহার করেন। দেখা গিয়েছে, শহরের বহু পাবলিক টয়লেটের অবস্থা চরম বেহাল। হয় কোনোটি মাসের পর মাস বন্ধ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। কোথাও আবার পানীয় জলের সংযোগই দেওয়া হয়নি। কোথাও কোথাও কোনও এককালে বিদ্যুৎ সংযোগ থাকলেও এখন আর নেই। হাওড়ার প্রতিটি বিধানসভা এলাকাতেই এমন বেহাল টয়লেট রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, বার্ন স্ট্যান্ডার্ড মোড়ের কাছে পাবলিক টয়লেটটি মাঝেমধ্যেই বন্ধ থাকে। ফোরশোর রোডের সিএসটিসি বাস ডিপোর উল্টোদিকে থাকা টয়লেটটি বন্ধ। বেলেপোল মোড়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গাতেও টয়লেটের একই অবস্থা। শিবপুর বাজার এলাকায় তৈরি হয়ে পড়ে থাকা টয়লেটটি আজ পর্যন্ত উদ্বোধনই হয়নি বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, হাওড়া স্টেশন সংলগ্ন দীঘা বাসস্ট্যান্ডে সারি সারি বেশ কয়েকটি পাবলিক টয়লেট রয়েছে। অভিযোগ, টেন্ডারপ্রাপ্ত সংস্থার বদলে বাইরের লোক বসিয়ে দিনের পর দিন সেখান থেকে টাকা তোলা হচ্ছে। এক একটি টয়লেট থেকে উঠছে হাজার হাজার টাকা। ফলস্বরূপ সারাবছর তো বটেই, পুজোর সময় ভিড়ে শামিল হয়ে শহরের রাস্তায় সমস্যায় পড়েন সাধারণ মানুষ।
গত সপ্তাহেই হাওড়া শহরের প্রতিটি পাবলিক টয়লেটগুলোর অবস্থা খতিয়ে দেখেছে পুরসভা। পুরসভার মুখ্য প্রশাসক সুজয় চক্রবর্তী বলেন, ‘পুজোর মধ্যেই শহরের প্রতিটি শৌচালয় খুলে যাবে। সেগুলো সংস্কারের কাজ চলছে। দর্শনার্থীদের এবারে আর সমস্যা হবে না।’ অভিযোগ, অনেকসময় পুরোনো শৌচালয়কে নতুন রং করে নতুন শৌচালয় বলে তালিকায় ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, শৌচালয় নিয়ে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি চলছে উত্তর হাওড়ায়। দুর্নীতি বন্ধ করতে এবার থেকে অ্যাসেট রেজিস্টার রাখা হচ্ছে। প্রতিটি টয়লেটের ক্রমিক নম্বর থাকবে। ফলে সহজেই সেগুলো চিহ্নিত করা সহজ হবে। দীঘা বাসস্ট্যান্ডের শৌচালয়গুলো থেকে দখলদারি তুলতে হাওড়া সিটি পুলিশের সঙ্গে কথা বলছে পুরসভা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ