মুতাহার কামাল, চোপড়া: সারাবছর তাঁদের কথা সেভাবে কেউ মনে রাখে না। পেটের টানে ভিনরাজ্যে পড়ে থাকা মানুষগুলি ব্রাত্যই থেকে যান মূল স্রোত থেকে। কিন্তু ভোটের দামামা বাজতেই ছবিটা বদলে যায়। হঠাৎ করেই রাজনৈতিক দলগুলির কাছে অপরিহার্য হয়ে ওঠেন তাঁরা। তাঁরা আর কেউ নন—চোপড়ার পরিযায়ী শ্রমিক। ভোটের আগে এই পরিযায়ী শ্রমিকদের ঘরে ফেরাতে কোমর বেঁধে ময়দানে নেমেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। চোপড়া ব্লক শ্রম দপ্তর সূত্রে খবর, ২০২৩ থেকে এখনো পর্যন্ত কর্মসাথী প্রকল্পে প্রায় ১৭ হাজার আবেদন জমা পড়েছে। যদিও বেসরকারি মতে, এই সংখ্যাটা আরও কয়েক হাজার বেশি। বিশেষ করে চা বাগান এবং সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে কাজের খোঁজে ভিনরাজ্যে পাড়ি দিয়েছেন বহু মানুষ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই শ্রমিকরা এক একটি বড় ভোটব্যাংক। আর সেই ব্যাংকে থাবা বসাতেই শ্রমিকদের ঘরে ফেরাতে শুরু হয়েছে তথ্য সংগ্রহের কাজ। এবিষয়ে তৃণমূল নেতা তথা চোপড়া পঞ্চায়েত সমিতির সহকারী সভাপতি ফজলুল হক এবিষয়ে বলেন, বিষয়টি নিয়ে চিন্তাভাবনা চলছে। এ বিষয়ে এখনও দলীয়ভাবে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। অন্যদিকে, বিরোধী শিবিরগুলি ইতিমধ্যে তৎপরতা বাড়িয়েছে। বিজেপির শিলিগুড়ি সাংগঠনিক জেলা সহ সভাপতি অসীম বর্মন জানিয়েছেন, কোনও শ্রমিক ফিরতে চাইলে তাঁদের তথ্য দিতে হবে। তাঁদের বাড়ি ফেরার ব্যবস্থা করা হবে। উত্তর দিনাজপুর জেলা কংগ্রেসের কার্যকারী সভাপতি অশোক রায় বলেন, গ্রাম পঞ্চায়েতভিত্তিক তালিকা তৈরির কাজও শুরু হয়ে গিয়েছে। সিপিএমের এরিয়া কমিটির সম্পাদক বিদ্যুৎ তরফদারের অভিযোগ, স্থায়ী সমাধানের বদলে শুধু ভোটের জন্য এই তৎপরতা। সিপিএম প্রার্থী মকলেশ্বর রহমানের প্রতিশ্রুতি, আমরা ক্ষমতায় এলে বন্ধ বাগান খোলার উদ্যোগ নেব, যাতে স্থানীয় স্তরে কর্মসংস্থান বাড়ে। একই সুর শোনা গিয়েছে বিজেপি প্রার্থী শংকর অধিকারী, কংগ্রেস প্রার্থী জাকির আবেদিনের গলায়।



