সংবাদদাতা, মেখলিগঞ্জ: বাংলাদেশে স্থায়ী সরকার গঠিত হলেই ভারত-বাংলাদেশ বৈদেশিক বাণিজ্যে গতি ফিরবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন দুই দেশের আমদানি-রপ্তানির সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীরা। কোচবিহার জেলার চ্যাংরাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে বাণিজ্য করা একাংশ ব্যবসায়ীর বক্তব্য, বাংলাদেশে সরকার পতনের পর থেকেই এই সীমান্ত দিয়ে পণ্য পরিবহণ ক্রমশ কমেছে। ওপারের ব্যবসায়ীদের দাবি, দেশের অর্থনৈতিক অচলাবস্থার কারণে ভারত থেকে বহু পণ্য আমদানি কমাতে হয়েছে। পাশাপাশি রাজস্ব বৃদ্ধির ফলে কিছু পণ্যের আমদানি-রপ্তানি কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে। আজ, বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট।
ভোটের পর স্থায়ী সরকার গঠিত হলে বাণিজ্য সংক্রান্ত অচলাবস্থা কাটবে এবং পণ্য চলাচল বাড়বে বলে আশা সংশ্লিষ্ট মহলের। চ্যাংরাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে ভারত-বাংলাদেশের পাশাপাশি ভুটান-বাংলাদেশের মধ্যেও বাণিজ্য চলে। আগে যেখানে দৈনিক গড়ে ৫০০-৫৫০টি ট্রাক যাতায়াত করত, বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩০০-৩৩০টিতে। বাণিজ্যের এই পতনে দুই দেশের ব্যবসায়ীরাই সমস্যায় পড়েছেন।
ট্রাকচালকরাও সম্পর্কের উন্নতি ও বাণিজ্যের প্রসারের পক্ষে মত দিচ্ছেন। বাংলাদেশে পণ্য নিয়ে যাওয়া ট্রাকচালক রাজু সিং এবং বাংলাদেশ থেকে ভারতে পণ্য আনা ট্রাকচালক মুজিবর ইসলাম বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক মধুর থাকলে তবেই বাণিজ্য বাড়বে। এতে বহু মানুষের জীবিকা জড়িয়ে আছে।
বাণিজ্য কমে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরাও। চ্যাংরাবান্ধা এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মনোজকুমার কানু, সম্পাদক উত্তম সরকার ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক বিকাশ সাহা জানান, আগের তুলনায় এই স্থলবন্দর দিয়ে বাণিজ্যের পরিমাণ অনেকটাই কমেছে। তবে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে ফের বাণিজ্য বাড়বে বলে আশাবাদী তাঁরা।