রাজু চক্রবর্তী, কলকাতা: ১২ লক্ষ কর্মী সমৃদ্ধ ভারতীয় রেল। এই বিরাট সংখ্যক কর্মচারীর কর্মজীবনে একাধিকবার পদোন্নতির সুযোগ তৈরি হয়। অভিযোগ, আড়ালে পদোন্নতির জন্য মোটা অঙ্কের লেনদেন চলে। এই অশুভ চক্র ভাঙতে বড়সড় সিদ্ধান্ত নিল নরেন্দ্র মোদি সরকার। তিনি নিচুতলার কর্মীই হন বা শীর্ষকর্তা— লিখিত পরীক্ষায় পাশ করলে তবেই মিলবে পদোন্নতির সুযোগ। রেলে চাকরির জন্য দেশের যুবক-যুবতীরা কম্পিউটার বেসড টেস্টে (সিবিটি) বসেন। এবার সমস্ত স্তরের রেলকর্মীদের প্রমোশনের জন্যও একইভাবে সিবিটি’তে উত্তীর্ণ হতে হবে। সোমবার রেল বোর্ডের তরফে ডেপুটি ডিরেক্টর অজয় গোয়েল এ সংক্রান্ত সরকারি আদেশনামা জারি করেছেন। উল্লেখ্য, গত মার্চ মাস থেকে দেশের ১৭টি রেল জোনে সমস্ত কর্মচারীর বিভাগীয় পদোন্নতি সংক্রান্ত প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে রয়েছে। রেল বোর্ডের এই সিদ্ধান্তের পর নতুন পদ্ধতিতে তা ফের শুরু হবে।
উল্লেখ্য, শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে এই মুহূর্তে তোলপাড় বাংলা। সুপ্রিম কোর্ট চাকরিহারা শিক্ষকদের ফের পরীক্ষায় বসার নির্দেশ দিয়েছে। কিন্তু তা মানতে নারাজ চাকরিহারারা। এই আবহে এবার রেল কর্মচারীদের পদোন্নতির স্বার্থে বারবার পরীক্ষায় বসার নয়া সিদ্ধান্ত যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। রেল বোর্ডের তরফে জারি হওয়া বিজ্ঞপ্তিতে গোটা ব্যবস্থা পরিচালনার জন্য ছ’দফা লিখিত আদর্শ আচরণবিধি প্রকাশ করা হয়েছে। সব জোনের জেনারেল ম্যানেজারদের তা পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। সূত্রের দাবি, রেলকর্মীদের পদোন্নতি নিয়ে টাকার লেনদেন সংক্রান্ত অভিযোগ পাকাপাকিভাবে দূর করতে কয়েক বছর ধরেই এমন ভাবনাচিন্তা চালাচ্ছিল রেল বোর্ড। সেই সূত্রেই রেল বোর্ড পদোন্নতির প্রশ্নে স্বচ্ছতা আনতে একটি কমিটি গঠন করেছিল। সিবিটি’র মাধ্যমে যোগ্যদের বাছাই করে প্রমোশনের জন্য সুপারিশ করা হবে।
প্রসঙ্গত, ২০১৪ সাল থেকে সিবিটি’র মাধ্যমে রেলে লক্ষ লক্ষ কর্মী নিয়োগ হয়েছে। কয়েক কোটি পরীক্ষার্থী এই পরীক্ষায় বসেছেন। গত ১১ বছরে এই বিরাট সংখ্যক কর্মী নিয়োগে তেমন কোনও অসঙ্গতি ধরা পড়েনি। সেকারণেই রেলকর্মীদের পদোন্নতি সংক্রান্ত বিষয়ে এই ব্যবস্থার উপরেই আস্থা রাখল কেন্দ্রীয় সরকার। এক্ষেত্রে রেলের জোন ভেদে পরীক্ষা নেওয়ার জন্য এগজাম কন্ডাকটিং এজেন্সি (ইসিএ) নিয়োগ করা হবে। রেলওয়ে রিক্রুটমেন্ট বোর্ড এই ইসিএ নিয়োগ করবে। পাশাপাশি প্রশ্নপত্র তৈরি করা কিংবা উত্তরপত্র যাচাইয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের যোগ্যতা ও পদ স্থির করে দিয়েছে রেল বোর্ড। সমস্ত রেল জোনকে এই নির্দেশিকা মেনেই কর্মীদের পদোন্নতি সংক্রান্ত যাবতীয় প্রক্রিয়া করতে হবে। কোনও ক্ষেত্রে তা মানা না হলে গোটা বিষয়টি বাতিল করে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।