নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: ‘আসান’ পোর্টালের মাধ্যমে এক উইন্ডোতে এবার দুর্গাপুজোর যাবতীয় অনুমতি মিলবে। শুক্রবার মুর্শিদাবাদ জেলা সদরের পুজো কমিটিগুলিকে নিয়ে প্রশাসনিক ও সমন্বয় বৈঠক হল রবীন্দ্রসদনে। সেখানে পুজো কমিটিগুলিকে জানিয়ে দেওয়া হয়, কীভাবে রাজ্য সরকারের এই পোর্টালের মাধ্যমে সরাসরি পুলিস, ফায়ার ব্রিগেড, বিদ্যুৎ দপ্তর ও বিডিও বা মহকুমা শাসকের অনুমতি মিলবে। আসন্ন দুর্গোৎসব সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে এদিন এই পোর্টালে অনুমতি নেওয়া সহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। হাজির ছিলেন জেলার পুলিস সুপার কুমার সানি রাজ, অতিরিক্ত পুলিস সুপার(সদর) মাজিদ ইকবাল খান, সদরের মহকুমা শাসক শুভঙ্কর রায় ও বহরমপুরের বিডিও অমরজ্যোতি সরকার প্রমুখ।
এদিন সকালে জেলা প্রশাসনিক ভবনে পুজো নিয়ে আরও একটি বৈঠক করেন জেলাশাসক রাজর্ষি মিত্র, অতিরিক্ত জেলাশাসক(সাধারণ) দীননারায়ণ ঘোষ সহ প্রতিটি মহকুমার মহকুমা শাসক ও বিডিওরা। পুজো উদ্যোক্তারা সরকারি বিধি ও নিয়মকানুন মেনে সহজে অনলাইন পোর্টালে কীভাবে আবেদন করবে, সেসব বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এই বৈঠকের পর সদরের মহকুমা শাসক এদিন রবীন্দ্র সদনে অডিও ভিজুয়াল মাধ্যমে পুজো কমিটিগুলিকে বুঝিয়ে দেন বিভিন্ন দপ্তরের অনুমতি কীভাবে নিতে হবে। বিভিন্ন পুজো কমিটির অনুরোধ উঠে আসে ওই আলোচনায়। দুর্গাপুজোর সময় সারারাত মাইক ও বক্স যাতে না বাজানো হয়, এব্যাপারে পুজো কমিটিগুলিকে সচেতন করে দেওয়া হয়।
অতিরিক্ত জেলাশাসক বলেন, এদিন আমরা প্রথমে জেলাশাসকের উপস্থিতিতে প্রশাসনের আধিকারিকদের নিয়ে একটি বৈঠক করি। তারপর রবীন্দ্রসদনে পুলিসের উপস্থিতিতে পুজো উদ্যোক্তাদের সঙ্গে একটি বৈঠক হয়। এবার একটি মাত্র পোর্টালের মাধ্যমে সমস্ত আবেদন সহজেই করতে পারবেন উদ্যোক্তারা। প্রতিটি ব্লক ও মহকুমা শাসকের অফিসে আমরা পুজো উদ্যোক্তাদের সুবিধার জন্য একটি করে হেল্প ডেস্কের ব্যবস্থা করছি।
বহরমপুর মহকুমা শাসক বলেন, ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুজোর অনুমতি নিতে পারবে কমিটিগুলি। কীভাবে অনলাইন পোর্টালে আবেদন করতে হবে, তা লাইভ দেখিয়ে দেওয়া হয়েছে। পুজো কমিটিগুলি রাস্তার পাশে বিজ্ঞাপনের বড় বড় গেট তৈরি করে। সাধারণ মানুষের যাতায়াতে যেন কোনও সমস্যা না হয়, সেবিষয়টি নজর দিতে বলা হয়েছে। এছাড়া প্রতিবারের মতো এবারও দুর্গাপুজো কার্নিভাল হবে। বিসর্জনের রোড ম্যাপ আগে থেকেই জমা দিতে হবে পুজো কমিটিগুলিকে। বিসর্জন কোন দিন হবে, সেটা পরে জানানো হবে।
জেলার পুলিস সুপার বলেন, পুজো কমিটিগুলি শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সচেষ্ট হবে বলে আশা করছি। পুজোর দিনগুলিতে পুলিস, প্রশাসন নজরদারি চালাবে।