Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আলিপুরদুয়ার: আড়াই বছরের উন্নয়নের ফিরিস্তি বিধায়ক সুমনের

একুশের ভোটে বিজেপির টিকিটে জিতে পরে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন আলিপুরদুয়ারের বিধায়ক সুমন কাঞ্জিলাল। আলিপুরদুয়ারে এবারে তিনি তৃণমূলের প্রার্থী।

আলিপুরদুয়ার: আড়াই বছরের উন্নয়নের ফিরিস্তি বিধায়ক সুমনের
  • ২৪ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: একুশের ভোটে বিজেপির টিকিটে জিতে পরে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন আলিপুরদুয়ারের বিধায়ক সুমন কাঞ্জিলাল। আলিপুরদুয়ারে এবারে তিনি তৃণমূলের প্রার্থী। প্রচারেও নেমে পড়েছেন পুরোদমে। বিধায়ক উন্নয়ন তহবিল থেকে ৩ কোটি ৩০ লক্ষ টাকাই পেয়েছেন তিনি। 

Advertisement

সুমনের আমলে আলিপুরদুয়ার বিধানসভাজুড়ে দেদার রাস্তা, কালভার্ট, স্কুলের সীমানা প্রাচীর, পানীয় জল প্রকল্প, ওপেন জিম, স্মার্ট ক্লাসরুম, শ্মশানঘাট, পথবাতি ও নদী ভাঙনের কাজ হয়েছে। স্বাস্থ্য পরিকাঠামোরও প্রচুর কাজ হয়েছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের একাংশ ও বিরোধীদের অভিযোগ, সুমনের আমলে বিধানসভা এলাকায় কোনো উল্লেখ্যযোগ্য কাজই হয়নি। যদিও সুমনের পাল্টা তোপ, আড়াই বছর তিনি কাজ করতে পারেননি। কিন্তু পরের আড়াই বছরে তাঁর আমলে বিধানসভাজুড়ে প্রচুর কাজ হয়েছে। কেন আড়াই বছর কাজ করতে পারিনি সেটা উহ্যই থাক। 
বিজেপির জেলা সভাপতি মিঠু দাস বলেন, আড়াই বছর পরে বিধায়ক কী কাজ করেছেন সেটাই না হয় লিফলেট ছাপিয়ে মানুষকে জানান তিনি। আড়াই বছরেও তো বিধায়ক তাঁর বিধানসভা এলাকায় চোখে পড়ার মতো উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন কাজ করতে পারেননি। বিধায়ক অবশ্য চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেন, নিশ্চয় লিফলেট ছাপিয়ে মানুষকে জানাব গত আড়াই বছরে কী কী কাজ করেছি। 
ভুটান থেকে নেমে আসা নদীগুলির জলস্ফীতিতে প্রতিবছর এলাকার চা বাগান, কৃষি ও বনাঞ্চলের জমি তলিয়ে যাচ্ছে। ভুটানের ডলোমাইটে নষ্ট হচ্ছে কৃষি ও চা বাগানের জমির উর্বরতা। এই সমস্যা কাটাতে বিধায়কের উদ্যোগেই অবশ্য প্রথম ভারত-ভুটান যৌথ নদী কমিশন গঠনের জন্য রেজিলিউশন নেওয়া হয়। এমএলও সুমন কাঞ্জিলাল বলেন, কিন্তু কেন্দ্রের অসহযোগিতার কারণে সেই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হল না। 
জেলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক ত্রিদিবেশ তালুকদারের কথায়, বিধায়ক হওয়ার পাশাপাশি সুমন কাঞ্জিলাল তো বিধানসভার পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটিরও চেয়ারম্যান। সেই সুবাদে বিধায়কের ভালো কাজের সুযোগও ছিল। কিন্তু তিনি বিধায়ক হিসাবে পুরোপুরি ব্যর্থ। তাঁর আমলে আলিপুরদুয়ারে নজরে পড়ার মতো কোনো উন্নয়ন কাজই হয়নি। 
এদিকে, আলিপুরদুয়ার জেলা হয়েছে ১২ বছর। সাধারণ মানুষের কথায়, আজও জেলায় মেডিকেল কলেজ হয়নি। জেলা সদরে দ্বিতীয় কালজানি সেতু হয়নি। জেলা সদরে নতুন কোনো রাস্তাও তৈরি হয়নি। ফলে যানজট বাড়ছে। প্রতিবছর বর্ষায় শহর জলমগ্ন হচ্ছে। জেলা সদর দ্বীপের মতো বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে। বিধায়ক কোনো উদ্যোগই নিতে পারেননি। পাঁচ বছরে বিধায়ককে তো এলাকাতেই দেখা যায়নি। 
সিপিএমের জেলা সম্পাদক কিশোর দাস বলেন, বিধায়ক তো অন্য দল থেকে জিতে তৃণমূলে এসে মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। ওঁর তো অফিসই নেই। সাধারণ মানুষ কোথায় তাঁদের সমস্যার কথা জানাবেন। বিধায়ক অবশ্য বলেন, মেডিকেল কলেজ তৈরির উদ্যোগ অনেকটাই এগিয়েছে। তবে জমির সমস্যা আছে। তারজন্য বিকল্প হিসাবে আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালকেই মেডিকেল কলেজ হিসাবে গড়ে তোলার উদ্যোগ শুরু হয়েছে। তাঁর আমলে বিধানসভাজুড়ে পানীয় জল, স্বাস্থ্য, পথবাতি, শ্মশানঘাট, ওপেন জিম, নদী ভাঙন ও সেচ সহ প্রচুর কাজ হয়েছে। বিরোধীরা যাই বলুক, সাধারণ মানুষ এবারও তাঁকেই ভোট দেবে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ