Bartaman Logo
৩ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের টাকা খরচে শীর্ষস্থান হারাল আলিপুরদুয়ার জেলা এবং শিলিগুড়ি

পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের টাকা খরচে শীর্ষস্থান হাতছাড়া আলিপুরদুয়ার ও শিলিগুড়ির। প্রশাসন সূত্রে খবর, প্রথম থেকে আলিপুরদুয়ার জেলা পরিষদ নেমেছে অষ্টম স্থানে।

পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের টাকা খরচে শীর্ষস্থান হারাল আলিপুরদুয়ার জেলা এবং শিলিগুড়ি
  • ৯ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি ও সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের টাকা খরচে শীর্ষস্থান হাতছাড়া আলিপুরদুয়ার ও শিলিগুড়ির। প্রশাসন সূত্রে খবর, প্রথম থেকে আলিপুরদুয়ার জেলা পরিষদ নেমেছে অষ্টম স্থানে। আর দ্বিতীয় থেকে ষষ্ঠস্থানে গিয়েছে শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদ। সংশ্লিষ্ট দু’টি এলাকায় ত্রিস্তর পঞ্চায়েতে ওই অর্থ কমিশনের বরাদ্দ অর্থ খরচের হার ৩০ থেকে ৬৮ শতাংশের মধ্যে। এখনও জেলাগুলিতে কোটি কোটি টাকা পড়ে রয়েছে। মাত্র ছ’মাসের মধ্যে এলাকাগুলির এমন হাল হওয়ায় উঠছে প্রশ্ন। অভিযোগ, প্রশাসনের নজরদারির অভাবেই অর্থ কমিশনের টাকায় চলা প্রকল্পগুলি গতি হারিয়েছে। 

Advertisement

প্রশাসনের আধিকারিকররা অবশ্য বলেন, পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের টাকা খরচে এমন ওঠা-নামা থাকে। আবার ত্রিস্তর পঞ্চায়েত অর্থ কমিশনের বরাদ্দ অর্থ খরচে জোর দেওয়া হয়েছে। ফের শীর্ষস্থান দখল হবে। 
গ্রামীণ এলাকায় উন্নয়নমূল কাজকর্ম করার জন্য ২০২০-’২১ আর্থিক বছরে চালু করা হয় পঞ্চদশ অর্থ কমিশন। কেন্দ্রীয় সরকার পাঁচ বছরের জন্য এই কমিশন চালু করে। প্রশাসন সূত্রে খবর, সংশ্লিষ্ট কমিশন থেকে গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি ও জেলা পরিষদ স্তরে অর্থ বরাদ্দ করা হয়। অর্থ কমিশনের বরাদ্দ অর্থ খরচ নিয়ে সোমবার পর্যালোচনা বৈঠক করেছে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের একাংশ। তাতেই দেখা যাচ্ছে কমিশনের বরাদ্দ টাকা খরচে পিছিয়ে পড়েছে শিলিগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার। 
প্রশাসন সূত্রের খবর, গত জানুয়ারি মাসে কমিশনের অর্থ খরচে রাজ্যের মধ্যে প্রথম স্থানে ছিল আলিপুরদুয়ার। এখানকার জেলা পরিষদ ৭২.৮৬, পঞ্চায়েত সমিতি ৭১.৮৬ এবং গ্রাম পঞ্চায়েত ৬৭.৪০ শতাংশ অর্থ খরচ করেছিল। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট জেলা পরিষদ, পঞ্চায়েত সমিতি ও পঞ্চায়েত স্তরে অর্থ খরচের হার, যথাক্রমে— ৩০.৪৪, ৫৮.৬২ এবং ৬২.৬৭ শতাংশ। কাজেই প্রথম স্থান থেকে সংশ্লিষ্ট জেলা নেমে দাঁড়িয়েছে অষ্টম স্থানে। এক্ষত্রে বর্তমানে প্রথমস্থানে পূর্ব মেদিনাপুর। তাদের জেলা পরিষদ, পঞ্চায়েত সমিতি ও পঞ্চায়েত স্তরে অর্থ খরচের হার, যথাক্রমে— ৪৪.৪৫, ৯০.০৮ এবং ৮৫.৬৩ শতাংশ। 
ছ’মাসে আলিপুরদুয়ার জেলার স্থান এতটা নেমে যাওয়ায় গ্রামবাসীদের একাংশ ক্ষুব্ধ। তাঁদের অভিযোগ, অর্থ কমিশনের টাকা পড়ে থাকলেও উন্নয়নমূলক কাজে গতি বাড়ানোর ব্যাপারে প্রশাসনিক উদ্যোগ নেই। তাই জেলা পিছিয়ে পড়েছে। জেলা পরিষদের সভাধিপতি স্নিগ্ধা শৈব বলেন, মাঝে কিছুদিন ডিস্ট্রিক্ট ইঞ্জিনিয়ার নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছিল। তাছাড়া বর্ষ নেমে যাওয়ায় কিছু প্রকল্পের কাজে হাত দেওয়া যায়নি। এজন্যই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আবার আমরা শীর্ষস্থানে ফিরব। 
শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদ দ্বিতীয় স্থান থেকে নেমে দাঁড়িয়েছে ষষ্ঠস্থানে। প্রশাসন সূত্রের খবর, ছ’মাস আগে মহকুমা পরিষদ ৫৫.১০, সমিতি ৭৫.৭৬ এবং পঞ্চায়েত ৭২.৬৪ শতাংশ অর্থ খরচ করেছিল। বর্তমানে সেই অর্থ খরচের হার কিছুটা কমেছে। মহকুমা পরিষদ, পঞ্চায়েত সমিতি ও পঞ্চায়েত স্তরে অর্থ খরচের হার, যথাক্রমে— ৩২.৪৫, ৫৭.৩৩ এবং ৬৮.২৯ শতাংশ। মহকুমা পরিষদের সভাধিপতি অরুণ ঘোষ অবশ্য বলেন, পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের বরাদ্দ অর্থে বেশকিছু প্রকল্পের নির্মাণ কাজ চলছে। শীঘ্রই সেগুলির নির্মাণ কাজ শেষ করে রিপোর্ট দাখিল করা হবে। আমরাও পূর্বের জায়গায় ফিরব বলেই আশাবাদী। উল্লেখ্য, বর্তমানে পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের টাকা খরচের নিরিখে রাজ্যে দ্বিতীয় বাঁকুড়া ও তৃতীয় হুগলি।  

সম্পর্কিত সংবাদ