Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মোহরের টোপ গিলে দশ লক্ষ খোয়ালেন আলিপুরের আইনজীবী, গ্রেপ্তার রাজমিস্ত্রি

কম দামে আসল সোনার মোহর পাওয়া যাবে। একটি-দু’টি নয়, কম করে একশো মোহর রয়েছে। পৈতৃক সূত্রে পাওয়া। আর্থিক টানাটানির কারণে মোহরগুলি বেচে দিতে চাইছেন তিনি।

মোহরের টোপ গিলে দশ লক্ষ খোয়ালেন  আলিপুরের আইনজীবী, গ্রেপ্তার রাজমিস্ত্রি
  • ১২ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কম দামে আসল সোনার মোহর পাওয়া যাবে। একটি-দু’টি নয়, কম করে একশো মোহর রয়েছে। পৈতৃক সূত্রে পাওয়া। আর্থিক টানাটানির কারণে মোহরগুলি বেচে দিতে চাইছেন তিনি। এই টোপ গিলে দশ লক্ষ টাকা খোয়ালেন আলিপুর আদালতের এক আইনজীবী। ওই আইনজীবী থাকেন বাঁশদ্রোণী এলাকায়। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে বাঁকুড়া থেকে অভিযুক্ত জুম্মা শেখকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত পেশায় রাজমিস্ত্রি।

Advertisement

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত নভেম্বরে জুম্মা বাঁশদ্রোণী এলাকায় একটি বাড়িতে রাজমিস্ত্রির কাজ করেছিল। তার পাশেই থাকতেন ওই আইনজীবী। জুম্মা কথায় কথায় ভাব জমায় ওই আইনজীবীর সঙ্গে। সে একদিন জানায়, বীরভূমে তার বাড়িতে প্রচুর মোহর রয়েছে। বংশানুক্রমে সে সেগুলি পেয়েছে। এখন টাকার দরকার পড়ায় কিছু কম দাম পেলেও সে ওই মোহর বেচে দিতে চাইছে। কেউ কিনতে চাইলে তার সঙ্গে যেন যোগাযোগ করে। এটা যে টোপ ধরতে পারেননি আইনজীবী। উলটে কৌতূহলের বশে তিনি জানতে চান, কতগুলি মোহর রয়েছে। জুম্মা বলে, ১০০’রও বেশি। দর কষাকষির পর রাজমিস্ত্রি এক-একটি মোহর দশ হাজার টাকায় বিক্রি করতে রাজি হয়। আইনজীবী তাকে মোহর দেখাতে বললে, সে বাড়ি থেকে একটি নিয়ে আসে। সেটি যাচাই করতে তিনি সোনার দোকানে গেলে, দোকানদার বলেন, এটি আসল। বাজারে দাম ১৪ হাজার টাকা। ১০ হাজার টাকায় পেলে সস্তাই হয়েছে। সোনার দোকান মালিকের কথায় আশ্বস্ত হয়ে তিনি জুম্মাকে বলেন মোহরগুলি নিয়ে আসতে। ডিসেম্বর মাসে সে একটি তামার পাত্রে করে মোহরগুলি নিয়ে হাজির হয়। একশো মোহর গুনে নেন আইনজীবী। বিনিময়ে ১০ লক্ষ টাকা দেন। ওই টাকা নিয়ে এরপর উধাও হয়ে যায় অভিযুক্ত।
আইনজীবী লিখিত অভিযোগে জানিয়েছেন, জানুয়ারি মাসে তিনি ওই মোহরগুলি বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন। সেইমতো সেগুলি নিয়ে সোনার দোকানে যান। দোকানি বলেন, এসবই তো সীসা আর তামা দিয়ে তৈরি। উপরে সোনার জল করা। একথা শুনে মাথায় হাত আলিপুর কোর্টের ওই আইনজীবীর। বাঁশদ্রোণী থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের মামলা রুজু করে। রাজমিস্ত্রির দেওয়া মোবাইল নম্বরের টাওয়ার লোকেশন ঘেঁটে পুলিশ জানতে পারে, সে বীরভূমে রয়েছে। শেষমেশ শনিবার রাতে সেখানে হানা দিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে কলকাতায় নিয়ে আসে পুলিশ। রবিবার ধৃতকে আলিপুর আদালতে তোলা হয়। সরকারি আইনজীবী শুভাশিস ভট্টাচার্য বলেন, অভিযুক্তকে জেরা করে চক্রের খোঁজ পেতে হবে। জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও কিছু বিষয় জানা বাকি রয়েছে। আদালত পুলিশ হেপাজতের আবেদন মঞ্জুর করে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ