নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ধর্ষণের সময় অভিযুক্ত ছাত্র কি মোবাইল ফোনে নির্যাতিতার ভিডিও রেকর্ড করেছিল? তা এখনও স্পষ্ট নয়। কারণ বাজেয়াপ্ত হওয়া মোবাইল ফোনের পাসওয়ার্ড জানাতে নারাজ ধৃত পরমানন্দ জৈন ওরফে রাহুল। পুলিসের দাবি, তদন্তে চরম অসহযোগিতা করছে ধৃত রাহুল। এজলাসে বিচারকের সামনে বাজেয়াপ্ত হওয়ায় সেই ফোনটি থেকে যাবতীয় তথ্যপ্রমাণ বের করা হবে। ২২ জুলাই সেই তারিখ ধার্য করেছেন বিচারক। এদিন সরকারিপক্ষের তরফে ধৃত রাহুলের জেল হেফাজতের আর্জি জানানো হয়। যদিও বিচারক শর্তসাপেক্ষে আইআইএম জোকার দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র পরমানন্দ ওরফে রাহুলের জামিনের আর্জি মঞ্জুর করেন। তবে আইনজ্ঞদের বক্তব্য, এই মামলায় নির্যাতিতার বয়ান ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বারবার সমন পাঠানো হলেও, তিনি আদালতকে এড়িয়ে গিয়েছেন। সেই কারণেই অভিযুক্তের জামিনের পথ প্রশস্ত হয়েছে।
পুলিস সূত্রে খবর, ঘটনাস্থল থেকে যাবতীয় তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। সেখান থেকে এমন কিছু তথ্য মিলেছে, যা থেকে ধর্ষণের ঘটনার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। ধৃতকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়াও ঘটনাস্থল থেকে নিরোধকসহ একাধিক সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। কিন্তু, এই কেসে ধৃতের বাজেয়াপ্ত হওয়ায় মোবাইল ফোনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ বলে দাবি পুলিসের। সেটি এখনও পর্যন্ত ‘ক্র্যাক’ করতে পারেনি পুলিস। অন্যদিকে, শনিবার তৃতীয়বারের জন্য নির্যাতিতার গোপন জবানবন্দির তারিখ ধার্য করেছিল আলিপুর আদালত। এদিনও তিনি এজলাসে গরহাজির ছিলেন। এর আগে আরও দু’বার দিন ধার্য হলেও তরুণী আসেননি। এপ্রসঙ্গে অভিযুক্তপক্ষের আইনজীবী সুব্রত সর্দার বলেন, ‘নির্যাতিতা বারবার গোপন জবানবন্দির আইনি প্রক্রিয়া এড়িয়ে যাচ্ছেন। শুধু তাই নয়, এখনও পর্যন্ত তাঁর মেডিকোলিগ্যাল পরীক্ষাও সম্পন্ন হয়নি। যদি তিনি হাসপাতালে ভর্তি থাকতেন, বা ট্রমায় থাকতেন সেক্ষেত্রে অন্য প্রসঙ্গ উঠতে পারত। কিন্তু, এক্ষেত্রে তো তেমন ঘটনা নয়। তাহলে কেন পুলিস নির্যাতিতা তথা অভিযোগকারিণীকে আদালতে আনতে পারছে না? সেক্ষেত্রে কেন আমার মক্কেলকে দিনের পর হেফাজতে কাটাতে হবে? আদালতে এ সমস্ত বিষয়ে আমি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি।’
পাল্টা সরকারি আইনিজীবী সৌরীন ঘোষাল বলেন, ‘আইনে বলা হয়েছে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তদন্তকারী আধিকারিককে নির্যাতিতার গোপন জবানবন্দি নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। একইসঙ্গে আদালেত তার আবেদন করতে হবে। সেই ব্যবস্থা পুলিসের তরফে করা হয়েছে। নির্যাতিতা কী পরিস্থিতিতে রয়েছেন, তা জানা যাচ্ছে না। মেডিক্যাল প্রমাণ যা রয়েছে, তা কেসকে সমর্থন করছে।’