Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আলুচাষিদের বিমার সময়সীমা বৃদ্ধি  জানুয়ারি জুড়েই আবেদন গ্রহণ

আলুচাষিদের বিমার সময়সীমা বৃদ্ধি  জানুয়ারি জুড়েই আবেদন গ্রহণ
  • ৭ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: আরামবাগ মহকুমায় ৩৬ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে হয়েছে আলু চাষ। অর্থকরী এই ফসলকে বিমার আওতায় আনতে জানুয়ারি মাস পর্যন্ত সময়সীমা বাড়াল রাজ্য। সম্প্রতি এব্যাপারে নির্দেশিকা জারি হয়েছে। চাষিদের বিমা আওতায় আনার জন্য বিশেষ জোর দিচ্ছে কৃষিদপ্তর। 
Advertisement
কৃষি দপ্তরের হুগলির ডেপুটি ডিরেক্টর(প্রশাসন) মৃত্যুঞ্জয় মর্দন্যা বলেন, ধান কাটার কাজ এবার দেরিতে হয়েছে। তার পরপরই চাষিরা আলু জমি প্রস্তুত করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। তাই রবি মরশুমের বিমা করানোর বিষয়টি খুব একটা গতি পায়নি। এবার থেকে তাতে জোর আসবে। পঞ্চায়েত কার্যালয়, সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতি প্রভৃতি জায়গায় শিবির করে বিমার কাজ করতে বলা হয়েছে। 
কৃষিদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি বছরে বন্যা পরিস্থিতিতে আরামবাগ মহকুমার বিস্তীর্ণ এলাকায় আমন ধান ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষিদপ্তর ক্ষয়ক্ষতির হিসেবও পাঠিয়েছে রাজ্যে। তার জেরে ধানের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার ব্যাপারে চাষিদের অনেকেই আশায় বুক বাঁধছেন। যে সব এলাকায় ধান রক্ষা হয়েছে, সেখানে মাঠ থেকে ফসল তুলতেও দেরি হয়েছে। তারফলে রবি মরশুমে আলু, সর্ষে চাষের সময় কিছুটা পিছিয়ে যায়। তবে আরামবাগ মহকুমায় আলু চাষের এলাকা এবার বেড়েছে। 
কৃষিদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, মহকুমায় এবার ৩৬ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে চাষিরা আলু চাষ করেছেন। তারমধ্যে পুরশুড়া ব্লকে ৬৩২০ হেক্টর জমিতে হয়েছে চাষ। আরামবাগে হয়েছে ৮৪৪০ হেক্টর জমিতে। খানাকুল-১ ব্লকে ৫৯৫০ হেক্টর, খানাকুল-২ ব্লকে ২৪৫০হেক্টর, গোঘাট-১ ব্লকে ৫৯৯০ হেক্টর এবং গোঘাট-২ ব্লকে ৭২৫০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। মহকুমায় ২০১৩ হেক্টর জমিতে সর্ষে চাষও হয়েছে। তাছাড়া অনেকে বোরো ধানের বীজতলাও তৈরি করছে। 
কৃষিদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, এবার প্রত্যেক ব্লকেই আলু চাষের এলাকা বেড়েছে। ফলে চাষিদের মধ্যে বিমা করানোর উৎসাহ রয়েছে। বিমার জন্য কোনও টাকা লাগছে না চাষিদের। পুরোটাই দিচ্ছে রাজ্য সরকার। যাতে সব চাষিই বিমার আওতায় আসেন, সেই দিকে জোর দেওয়া হচ্ছে। প্রথমে বিমা করানোর জন্য ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়। পরে তা বাড়িয়ে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত করা হয়েছে। আরামবাগের চাষি সুবল ঘোষ বলেন, এবার আমন ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই বিমা করিয়েছি। আলু বসানো সবে শেষ হয়েছে। বিমা করাব। 
গোঘাটের চাষি জিতেন মণ্ডল বলেন, আলু চাষ করতে গিয়ে বিপুল খরচ হয়েছে। আবহাওয়া মাঝেমধ্যেই খারাপ হচ্ছে। ফলন মার খেলে চাপ হবে। তাই বিমা করানোর ব্যবস্থা হলে সেই সুযোগ নেব। 
কৃষিদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, জমির নথি দিয়ে বিমার আবেদন করা যাবে। প্রথম দিকে পঞ্চায়েত ও সমবায় সমিতিতে ক্যাম্প হবে। পরে প্রয়োজনে প্রান্তিক এলাকাগুলিতেও শিবিরের পরিকল্পনা রয়েছে।
সম্পর্কিত সংবাদ