Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আলু, ডিমের দাম ঊর্ধ্বমুখী, বরাদ্দ অর্থে মিড ডে মিল দিতে হিমশিম স্কুলগুলির

আলু, ডিমের দাম ঊর্ধ্বমুখী, বরাদ্দ অর্থে মিড ডে মিল দিতে হিমশিম স্কুলগুলির
  • ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, করিমপুর: ১ ডিসেম্বর থেকে বরাদ্দ বাড়লেও পড়ুয়াদের মিড ডে মিল খাওয়াতে হিমশিম স্কুলগুলো। ডিম, আলু, সব্জি ও তেল-মশলার দাম মাত্রাতিরিক্ত বেশি হওয়াতেই সমস্যা বলে জানাচ্ছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে যেখানে পড়ুয়া কম, সেইসব স্কুলে অবস্থা ভয়াবহ। আগে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মাথাপিছু বরাদ্দ ছিল ৪.৯৭ টাকা ও ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ৭.৪৫ টাকা। ২০২২ সালে তা বেড়ে যথাক্রমে ৫.৪৫ ও ৮.১৭ টাকা হয়েছিল। এবছরের ডিসেম্বর মাস থেকে সেই বরাদ্দ আবারও বাড়িয়ে যথাক্রমে ৬.১৯ ও ৯.২৯ টাকা করা হয়েছে। কিন্তু গত কয়েক মাস ধরেই বাজারে ডিম, আলু ও অন্য সব্জির দাম ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় পড়ুয়াদের পুষ্টিকর খাবার দিতে সমস্যায় পড়ছে স্কুলগুলি। শিক্ষকরা জানাচ্ছেন, স্কুলের ছেলেমেয়েদের কবে কী খাবার দেওয়া হবে তা সরকার থেকে নির্দিষ্ট করে দেওয়া আছে। সরকারের বরাদ্দ টাকায় সপ্তাহে এক দিন ডিম এবং বাকি দিনগুলিতে ডাল, সব্জি এবং শনিবারে খিচুড়ি দেওয়া হতো। কিন্তু বর্তমানে সব্জি থেকে তেল, মশলার দাম বেড়ে যাওয়ায় সরকার নির্ধারিত খাবার দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। করিমপুর ১ ব্লকের রানিনগর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পীযুষ জোয়ারদার বলেন, বেশি পড়ুয়া আছে এমন স্কুলে ব্যবস্থা করা গেলেও কম পড়ুয়া আছে এমন স্কুলের ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে। আমাদের স্কুলে পড়ুয়া ৩৮ জন। প্রতিদিন গড়ে ২০-২২ জন আসে। তাদের জন্য দৈনিক মোট বরাদ্দ প্রায় ১৩০-১৪০ টাকা। এই টাকায় ডিম, সব্জি ও মশলার সঙ্গে রান্নার গ্যাসের খরচ জুগিয়ে বাচ্চাদের মুখে পুষ্টিকর খাবার তুলে দেওয়া খুব কঠিন। করিমপুর রামকৃষ্ণপল্লি অমূল্যগঙ্গা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ইলা মণ্ডল বলেন, আমার স্কুলে মাত্র ১৫ জন পড়ুয়া। বরাদ্দ টাকায় সরকারি তালিকা অনুযায়ী ডিম বা ডাল সব্জি দেওয়া সম্ভব হয় না। তবুও বাচ্চাদের কথা ভেবে শিক্ষক-শিক্ষিকারা নিজেদের পকেট থেকে টাকা দিয়ে কখনও ডিম বা মাসে একদিন মাংস করে দেওয়া হয়। তাও কতদিন সম্ভব হবে জানি না। ফুলবাড়ি মাধ্যমিক শিক্ষাকেন্দ্রের সহ শিক্ষক বিমান মণ্ডল বলেন, যেসব স্কুলে ছাত্রছাত্রী সংখ্যা বেশি তাদের সমস্যা তুলনায় কম। কারণ একশো জনের খাবার রান্না করতে গ্যাসের যে খরচ ২০ জনের জন্যও প্রায় একই খরচ হয়। আমাদের স্কুলে সাকুল্যে ৩১ জন পড়ুয়া রয়েছে। তার মধ্যে গড়ে ২০ জন হাজির হয়। ফলে সরকারের দেওয়া টাকায় পুষ্টিকর খাবার দেওয়া যাচ্ছে না। ক্ষুব্ধ অভিভাবকদের দাবি, খুদে পড়ুয়ারা যাতে পুষ্টিকর খাবার থেকে বঞ্চিত না হয় তার জন্য বাজার দরের কথা ভেবে মিড ডে মিলের বরাদ্দ টাকা বাড়ানো উচিত সরকারের।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ