Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আয়কর মেটানো সত্ত্বেও আবাসে আবেদন! তাজ্জব প্রশাসন কর্তারা

আয়কর মেটানো সত্ত্বেও আবাসে আবেদন! তাজ্জব প্রশাসন কর্তারা
  • ২২ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বছরে আয় সাত লক্ষ টাকার বেশি। সরকারকে মোটা টাকা আয়করও দেন। সেই সমস্ত পরিবারও আবাস যোজনা প্রকল্পে বাড়ি চাইছে। বিত্তশালীদের এই মানসিকতায় আধিকারিকরা তাজ্জব হয়ে গিয়েছেন। ২০১৮ সালে তৈরি তালিকায় পূর্ব বর্ধমানে এরকম ৩৭০টি পরিবারের নাম ছিল। তালিকা যাচাই করার পর আধিকারিকরা তাদের নাম বাদ দিয়েছেন। জেলাশাসক আয়েশা রানি এ বলেন, আবাসের তালিকা ধরে একাধিকবার সমীক্ষা করা হচ্ছে। যাঁরা উপযুক্ত নন তাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। যারা উপযুক্ত তাঁরাই শুধু তালিকায় থাকবেন। 
Advertisement
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ডিসেম্বর মাসে সরকার আবাস যোজনায় প্রথম কিস্তির টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেই কারণে আধিকারিকরা সব কাজ ছেড়ে আবাস যোজনা প্রকল্প নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। দু’বার সমীক্ষার কাজ হয়েছে। এখন শীর্ষস্তরের আধিকরিক সুপার চেকিংয়ের কাজ করছেন। অনেক বিত্তশালী পরিবার আবাসের টাকা পাওয়ার জন্য নানা কৌশল নিয়েছিল। গ্রামে পাকা বাড়ি থাকলেও অনেকেরই মাটির রান্নাঘর রয়েছে। সমীক্ষা চলার সময় অনেকে সেই রান্নাঘরে আশ্রয় নিয়েছিলেন। কিন্তু তাতে লাভ হয়নি। সুপার চেকিংয়ে পর্দা ফাঁস হয়ে গিয়েছে। খোদ জেলাশাসক নিজে বেশকিছু এলাকায় গিয়ে সমীক্ষা করেছেন। এক আধিকারিক বলেন, গ্রামের বহু বিত্তশালী পরিবারের মাটির বাড়ি রয়েছে। তাঁরা সেই বাড়িতে থাকতেই পছন্দ করেন। ইচ্ছে করলে যে কোনও সময় পাকা বাড়ি করতে পারেন। তাঁদের নাম আবাস যোজনার তালিকায় রয়েছে। অথচ যাঁরা ত্রিপলের ছাউনি দিয়ে থাকেন তাঁদের নাম তালিকায় নেই। এই সমস্ত পরিবারগুলির বাড়ি দরকার। পরবর্তী সমীক্ষায় যাতে তাঁদের নাম তোলা হয়, ঩সেই বন্দোবস্ত করা হবে। তবে যাঁদের আর্থিক অবস্থা ভালো তাঁরা তালিকা থেকে বাদ যাবেন। আধিকারিকরা মনে করছেন, তিনবার সমীক্ষার পর তালিকায় কারচুপি হওয়া সম্ভব নয়। সুপার চেকিংয়ের পর তৈরি তালিকা বিভিন্ন জায়গায় সাঁটানো হবে। তা দেখে এলাকার বাসিন্দারা অভিযোগ করতে পারবেন। পরবর্তী সময়ে সেই তালিকা গ্রামসভায় যাবে। প্রতিটি নাম ধরে আলোচনা হবে। গ্রামে সবাই সবাইকে চেনেন। যাদের আর্থিক অবস্থা ভালো তাদের কারও নাম তালিকায় থাকলে আপত্তি জানাবেন। আধিকারিকরা ফের তদন্ত করে নাম বাদ দেবেন। 
জেলার আর এক আধিকারিক বলেন, আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারগুলির কথা ভেবে সরকার এই প্রকল্প চালু করেছিল। আয় কম হওয়ার জন্য তাদের বাড়ি তৈরির সামর্থ্য নেই। কিন্তু যারা আয়কর দেন, তাঁরা ইচ্ছে করলেই বাড়ি তৈরি করতে পারেন। তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার জন্য তাঁদেরই আগে থেকে আবেদন করা উচিত ছিল। তা না করায় সমীক্ষা করে প্রশাসনকে নাম বাদ দিতে হচ্ছে। এটা দুর্ভাগ্যের।
সম্পর্কিত সংবাদ