রায়বেরিলি: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে কাঠগড়ায় তুলে সুর চড়ালেন অখিলেশ যাদব। সমাজবাদী পার্টি প্রধানের অভিযোগ, ‘২০২২ সালে উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা ভোটে পিছিয়ে পড়া শ্রেণি, দলিত ও সংখ্যালঘুদের ভোটচুরিতে মদত দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। না হলে গতবার আমরাই সরকার গঠন করতাম। মানুষের আস্থা হারিয়েছে কমিশন।’ একইসঙ্গে অখিলেশের ঘোষণা, ২০২৭ সালের বিধানসভা ভোটে জোট গড়ে লড়াই করবে তাঁর দল।
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে অখিলেশের পাখির চোখ ‘পিছড়ে, দলিত, অল্পসংখ্যক’ (পিডিএ) ভোট। সেই লক্ষ্যেই ‘পিডিএ রথ’-এ চড়ে রায়বেরিলি আসেন সমাজবাদী পার্টি সুপ্রিমো। সভা থেকে অখিলেশের তোপ, নির্বাচন কমিশনের মুখোশ খুলে গিয়েছে। তারা হাতের পুতুলের মতো কাজ করছে। নির্বাচনি মেশিনারির অপব্যবহার করছে বিজেপি। কারণ তারা জানে, মূল্যবৃদ্ধি ও বেকারত্ব সহ বিভিন্ন ইস্যুর কথা মাথায় রেখে মানুষ তাদের ভোট দেবে না। ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে আমরা বিজেপিকে হারিয়েছিলাম। ২০২৭ সালের বিধানসভা ভোটে আমরা তাদের চিরতরে পরাস্ত করার লক্ষ্যে কাজ করব।
জোট গঠন প্রসঙ্গে সমাজবাদী পার্টির অবস্থানও স্পষ্ট করেছেন তিনি। অখিলেশ বলেন, জয়ের সম্ভাবনার নিরিখে স্থির হবে কোন আসনে কে লড়বে। পালটা আসরে নেমে বিজেপি মুখপাত্র রাকেশ ত্রিপাঠীর খোঁচা, অখিলেশ ইচ্ছা করেই কংগ্রেসের খাসতালুক রায়বেরিলি থেকে তাঁর সফর শুরু করেছেন। জোট গঠন নিয়ে কংগ্রেসের সঙ্গে সমাজবাদী পার্টির চলতি দ্বন্দ্বই নেপথ্যের কারণ। কংগ্রেসও পালটা তাদের প্রচার শুরু করুক সমাজবাদী পার্টির ঘাঁটি মইনপুরী বা ইটাওয়া থেকে।
‘পিডিএ রথ’ কর্মসূচি প্রসঙ্গে মহাভারতের উদাহরণ টেনে এনেছেন অখিলেশ। তিনি বলেন, ‘এই রথ হল কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ ও ভাগবত গীতায় প্রভু শ্রীকৃষ্ণ প্রদত্ত শিক্ষার প্রতীক।’ বিজেপিকে তোপ দেগে সমাজবাদী পার্টি সাংসদ বলেন, ‘পিডিএ আন্দোলনে’র কাছে পরাস্ত হবে ‘বুলডোজারের রাজনীতি’। অখিলেশের প্রতিশ্রুতি, যুব সমাজের জন্য কর্মসংস্থান ও সরকারি চাকরির সুযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করবে তাঁদের সরকার। হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।