Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আজও চালু হয়নি করোনাকালে বন্ধ লোকাল ট্রেনগুলি, বাড়ছে ক্ষোভ

আজও চালু হয়নি করোনাকালে বন্ধ লোকাল ট্রেনগুলি, বাড়ছে ক্ষোভ
  • ২৮ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, রামপুরহাট: করোনা মহামারীর ক্রান্তিকাল পেরিয়ে গিয়েছে প্রায় তিন বছর। সোশ্যাল ডিসটেন্স, কোয়ারেন্টাইন শব্ধবন্ধগুলি এখন অতীত। অথচ, রেল পড়ে সেই করোনা কালেই! কেননা, সামাজিক দূরত্ব বিধির দৌলতে বন্ধ করে দেওয়া একাধিক মেল এক্সপ্রেস, লোকাল এখনও চালু করে উঠতে পারল না রেলমন্ত্রক। স্বাভাবিকভাবেই নিত্যদিন চরম দুর্ভোগ পোয়াতে হচ্ছে নিত্যযাত্রীদের। সেগুলি পুনরায় চালুর দাবিতে বহুবার আন্দোলন হয়েছে। ভ্রুক্ষেপ নেই রেল কর্তাদের। 
Advertisement
বিশেষ করে বর্ধমান সাহেবগঞ্জ লুপ লাইনে যাত্রী দুর্ভোগ চরমে। এরই মধ্যে ভোরের দিকে বর্ধমান থেকে রামপুরহাট পর্যন্ত লোকাল ট্রেন চালানোর দাবিতে সরব হলেন নিত্যযাত্রীরা। তাঁদের অভিযোগ, বন্দে ভারতের পর অমৃত ভারত সহ নানা এক্সপ্রেস ট্রেন চালিয়ে বেশি টাকা ভাড়া নিয়ে আয় বাড়াতে মরিয়া রেল। কিন্তু সেই তুলনায় লোকাল ট্রেন চালানোর দিকে কোনও নজর নেই কর্তৃপক্ষের। ফলে স্বল্প দুরত্বে যাতায়াতকারীরা নিত্য দুর্ভোগে পড়ছেন। কর্মস্থলে দেরিতে পৌঁছনোয় ‘বস’ থেকে সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মুখে পড়তে হচ্ছে তাঁদের। 
বারাণসী এক্সপ্রেস, বর্ধমান মালদা লোকাল, দানাপুর ফার্স্ট প্যাসেঞ্জার, বারহারোহা শিয়ালদহ বামদেব প্যাসেঞ্জার ও রামপুরহাট সাহেবগঞ্জ লোকাল ধরে বীরভূম ছাড়াও লাগোয়া মুর্শিদাবাদ ও ঝাড়খণ্ডের শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, হকার সহ হাজার হাজার যাত্রী তাঁদের দৈনন্দিন কাজকর্মের জন্য যাতায়াত করতেন। কিন্তু করোনার সময় এই ট্রেনগুলি তুলে নেওয়া হলেও আজও চালু করেনি। ফলে ব্যাপক সমস্যায় পড়েছেন সাধারণ মানুষ। এই অবস্থায় ভোরের দিকে বর্ধমান থেকে রামপুরহাট পর্যন্ত লোকাল ট্রেন চালানোর দাবিতে সরব হলেন নিত্যযাত্রীরা। 
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্ধমান থেকে রামপুরহাট আসার প্রথম ট্রেন বলতে তিনপাহাড় লোকাল। যেটা সকাল সাতটা বেজে পাঁচ মিনিটে বর্ধমান ছাড়ে। অভিযোগ, ট্রেনটি রামপুরহাট জংশনে ঢোকার সময় সকাল প্রায় সাড়ে নটা। কিন্তু কোনওদিনই নির্দিষ্ট সময়ে ট্রেনটি রামপুরহাটে প্রবেশ করে না। এই ট্রেনে চড়ে বর্ধমান থেকে রামপুরহাটে যাতায়াত করে অনেকে নিত্য অ঩ফিস করেন। যাদের একটা বড় অংশ রামপুরহাট মেডিক্যালে কর্মরত। কিন্তু তিনপাহাড় লোকলে এসেও তাঁরা নির্দিষ্ট সময়ে অফিসে হাজির হতে পারছেন না। আবার অনেকে রামপুরহাটে নেমে দুরবর্তী এলাকায় অফিসে যান। তাঁদেরও পৌঁছতে দেরি হয়ে যাচ্ছে। রামপুরহাট মেডিক্যালের এক কর্মী বলেন, আমি ওপিডি বিভাগে কাজ করি। নিত্যদিন বর্ধমান থেকে যাতায়াত করে অফিস করতে হয়। সকাল ন’টা থেকে বহির্বিভাগ খুলে যায়। কিন্তু তিনপাহাড় লোকালটি কোনওদিনই সকাল দশটার আগে রামপুরহাটে প্রবেশ করছে না। সেখান থেকে টোটো ধরে মেডিক্যালে আসতে আরও সময় চলে যাচ্ছে। রোগীদের ক্ষোভের মুখে পড়তে হচ্ছে। আমাদের দাবি, ভোরের দিকে বর্ধমান থেকে  রামপুরহাটে আসার জন্য একটি লোকাল চালানো হোক। 
নিত্যযাত্রী অলোক হালদার বলেন, রেল চমক দিকে একের পর এক এক্সপ্রেস ট্রেন চালাচ্ছে। তাতে ভাড়াও কয়েকগুন বেশি। রেল আয় বাড়াতে এধরণের ট্রেন চালু করুক। আপত্তি নেই। কিন্তু স্বল্প দূরত্বের যাত্রীদের কথাও তো ভাবতে হবে। খুব শীঘ্রই অলোকবাবরিা বিষয়টি নিয়ে সাংসদ শতাব্দী রায় ও রেল কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়ার তোড়জোড় শুরু করেছেন। শতাব্দী বলেন, চিঠি পেলে বিষয়টি সংসদে তুলব। পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কৌশিক মিত্র বলেন, নিত্যযাত্রীরা তাঁদের সমস্যার কথা লিখিত আকারে জানালে বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
সম্পর্কিত সংবাদ