Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আজ শুরু হচ্ছে মাঘ মেলা, বসবে কৃষিজ সামগ্রীর প্রদর্শনী, লোকসংস্কৃতির আসর

আজ শুরু হচ্ছে মাঘ মেলা, বসবে কৃষিজ সামগ্রীর প্রদর্শনী, লোকসংস্কৃতির আসর
  • ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, বোলপুর: আজ, বৃহস্পতিবার থেকে শুরু বিশ্বভারতীর ১০৩তম শ্রীনিকেতন বার্ষিক উৎসব। স্থানীয়দের কাছে যা মাঘ মেলা নামে পরিচিত। রবীন্দ্রনাথের পল্লি বিকাশ ভাবনার প্রচার ও প্রসারে এই মেলার বিশেষ অবদান রয়েছে। তাই বিশ্বভারতী এই উৎসবকে গুরুত্বের সঙ্গে পালন করে। শ্রীনিকেতনের কুঠিবাড়ি সংলগ্ন মাঠে মেলার প্রস্তুতি প্রায় সম্পূর্ণ। প্রতিবারের মতো এবারও বিশেষ আকর্ষণ, বিশাল বিশাল মাপের কৃষিজ সামগ্রীর প্রদর্শনী। ৬ থেকে ৮ ফেব্রুয়ারি তিন দিনের এই গ্রামীণ মেলার জন্য স্থানীয় বাসিন্দারা সারা বছর অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে থাকেন। প্রতিদিনই থাকছে লোকসংস্কৃতির অনুষ্ঠান। জানিয়েছেন বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ। 
Advertisement
শান্তিনিকেতনের শিক্ষা ব্যবস্থার পাশাপাশি গ্রামোন্নয়নকে তুলে ধরতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছিলেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তার জন্য তিনি শ্রীনিকেতনকে বেছে নিয়েছিলেন। এই কর্মকাণ্ডের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয় ১৯২২ সালে ৬ ফেব্রুয়ারি। গুরুদেব উপলব্ধি করেছিলেন, গ্রাম ও পল্লিসমাজ যতক্ষণ না বিকশিত হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত দেশের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। সেই ভাবনা ও দর্শনকে কেন্দ্র করেই শ্রীনিকেতনে গড়ে ওঠে কৃষি, শিল্প, স্বাস্থ্যের বিশেষ বিশেষ বিভাগ। শুধু এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে শ্রীনিকেতন লাগোয়া গ্রামীণ মানুষদের মনোরঞ্জন ও বিনোদনের কথাও ভেবেছিলেন গুরুদেব। তাই প্রতিবছর এই দিনটিকে স্মরণ করে শ্রীনিকেতন বার্ষিক উৎসব হয়। এই উৎসবই পরবর্তীতে মাঘ মেলা নামে পরিচিত হয়। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, সূচনা লগ্ন থেকে এই মেলা যেভাবে হতো, আজও সেই ধারা অব্যাহত রেখেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কৃষিজ পণ্যের প্রদর্শনীর পাশাপাশি বার্ষিক ব্রতী ও যুব সমাবেশও মেলার অন্যতম আকর্ষণ। শুধু সুরুল, মোলডাঙা, শ্রীনিকেতনের মধ্যেই এই মেলা আর সীমাবদ্ধ নয়। বর্তমানে এর প্রসার বীরভূম জেলার প্রায় ৬৫টি গ্রামে। এই গ্রামগুলি মূলত শ্রীনিকেতন পল্লি সম্প্রসারণ কেন্দ্রের অন্তর্গত। তাই সংশ্লিষ্ট গ্রামের বাসিন্দারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে মাঘ মেলায় অংশগ্রহণ করেন। ‌
বিশ্বভারতী সূত্র জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে বৈতালিকের পর সাড়ে আটটায় বার্ষিক অনুষ্ঠানের উদ্বোধন। সেখানে বিভাগীয় প্রতিবেদন পাঠ, শিল্প সদন ও শিক্ষা চর্চার নিদর্শন পত্র প্রদান করা হবে। সকাল ১০টায় কৃষি সহ ও অন্যান্য শিল্প প্রদর্শনীর উদ্বোধন হবে। ‌এরপর দিনভর বাউল, সুফি গান, আদিবাসী নৃত্য, লোকসংস্কৃতির আসর বসবে মেলা প্রাঙ্গণে। এছাড়াও পরের দু’ দিন হবে শিশু প্রদর্শনী, গ্রামীণ কবি ও সাহিত্যিক সম্মেলন, মনসামঙ্গল, কীর্তন প্রভৃতি। মেলার বিনোদন শাখার অন্যতম আহবায়ক সুকুমার দাস বলেন, ‘বেশ কয়েক বছর পর এবার সার্বিক ও পূর্ণাঙ্গরূপে শ্রীনিকেতন বার্ষিক উৎসব মহা সমারোহে আয়োজন করছে কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় অর্থনীতিতে এই মেলার গুরুত্ব রয়েছে। কর্তৃপক্ষ প্রতিবছর যেভাবে অনুষ্ঠান আয়োজন করে এবছরও তার অন্যথা হয়নি।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ