Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আজ রামনগরের সাঁতড়া কমললোচন স্কুলের প্লাটিনাম জুবিলি অনুষ্ঠান শুরু,তিনদিনের উৎসবে মেতেছেন পড়ুয়া-শিক্ষক ও বাসিন্দারা  

আজ রামনগরের সাঁতড়া কমললোচন স্কুলের প্লাটিনাম জুবিলি অনুষ্ঠান শুরু,তিনদিনের উৎসবে মেতেছেন পড়ুয়া-শিক্ষক ও বাসিন্দারা
 
  • ১০ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
সংবাদদাতা, কাঁথি: সালটা ১৯৫০। সারা দেশের সঙ্গে অবিভক্ত মেদিনীপুরের  রামনগরের মানুষজনও সদ্য স্বাধীনতার স্বাদ পেয়েছেন। সেইসময় বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী এই এলাকাটি শিক্ষা-সংস্কৃতিতে পিছিয়ে ছিল। অন্ধকার দূরীকরণে শুরু হয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ার উদ্যোগ। সম্বল বলতে ছিল কয়েকজন বিদ্যোৎসাহী মানুষের প্রচেষ্টা আর লেগে থাকার মানসিকতা। যাঁরা এলাকায় স্কুল গড়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছিলেন। তাঁদের সম্মিলিত উদ্যোগেই ১৯৫১সালে সাঁতড়া কমললোচন হাইস্কুলের পথচলা শুরু হয়েছিল। যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আজ ৭৫তম বছরে অবতীর্ণ। ‘তিল থেকে তিলোত্তমা’ ওড়িশা সীমানা লাগোয়া এই স্কুল। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এযাবৎ স্কুলটি বিস্তীর্ণ এলাকায় শিক্ষার প্রদীপ জ্বালানোয় অগ্রণী। তারই মাহেন্দ্রক্ষণ সমাগত। সাঁতড়া কমললোচন হাইস্কুলের তিনদিনব্যাপী প্লাটিনাম জুবিলি উৎসব আজ, শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে। উৎসব উপলক্ষ্যে একগুচ্ছ অনুষ্ঠানের আয়োজন রয়েছে। 
Advertisement
প্রধান শিক্ষক তপনকুমার মণ্ডল, পরিচালন কমিটির সভাপতি তপন প্রধান ও উৎসব কমিটির সভাপতি সন্তোষ পাত্র বলেন, আমাদের সবার গর্বের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৭৫তম বছরে পা দিল। আমরা তিনদিনের অনুষ্ঠানে শামিল হওয়ার জন্য এলাকাবাসী সহ সংশ্লিষ্ট সকলকেই আহ্বান জানিয়েছি।  
এলাকার বিদ্যোৎসাহী ও শিক্ষানুরাগী মানুষজনের উদ্যোগে ১৯৫০ সালের ৩ ডিসেম্বর সাঁতড়া প্রাইমারি স্কুল প্রাঙ্গণে এক সভা হয়। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সাঁতড়া গ্রামে একটি হাইস্কুল নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়। পরের বছর জানুয়ারিতে নতুন শিক্ষাবর্ষে পঠনপাঠন শুরুর চেষ্টা হলে স্কুলের ঘর নিয়ে সমস্যা দেখা দেয়। স্থানীয় বাসিন্দা অনন্ত পাহাড়ীর বসতবাড়িতে বাঁশের দরমার বেড়ায় পঞ্চম শ্রেণি শুরু হয়। স্কুলের জন্য নিজস্ব জায়গার খোঁজ চলতে থাকে। অনেক চেষ্টা করে অবশেষে ২০২ডেসিমিল জমি পাওয়া যায়। ১৯৫১সালের ২৫বৈশাখ স্কুলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হয়। কাঁচা ইটের দেওয়াল, খড়, টালি ও টিনের ছাউনির ঘরে শুরু হয় ক্লাস। স্কুলঘর নির্মাণে খরচ পড়ে ২২১৯টাকা। এলাকারই বিদ্যোৎসাহী কমললোচন পাত্র ৩০০০ টাকা দান করেন। তাঁর মহৎ দানের স্বীকৃতিতে স্কুলের নাম রাখা হয় সাঁতড়া কমললোচন বিদ্যাভবন। পরের বছরই স্কুলটি পঞ্চম ও ষষ্ঠ শ্রেণি সরকারি অনুমোদন পায়। ধাপে ধাপে জুনিয়র হাইস্কুল, দশম শ্রেণি এবং ২০১২সালে মেলে উচ্চমাধ্যমিকের অনুমোদন। বর্তমানে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ১২৬৩। শিক্ষক-শিক্ষিকা-শিক্ষাকর্মী মিলিয়ে ২০জন রয়েছেন। দ্বিতলবিশিষ্ট পাকাবাড়ি, বড় গ্রন্থাগার, পরীক্ষাগার, কম্পিউটার, ল্যাব, জিম রয়েছে। বসেছে সিসি ক্যামেরা। রয়েছে সাউন্ডসিস্টেম, ডাইনিং হল, শেডযুক্ত সাইকেল স্ট্যান্ড, খেলার মাঠ, বাগান, শানবাঁধানো পুকুরঘাট। বিদ্যাসাগর ও বিবেকানন্দের ভাস্কর্য মূর্তি রয়েছে। আগামী দিনে পরিকাঠামো ও পঠনপাঠনের উন্নয়নে আরও পরিকল্পনা রয়েছে বলে স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।শুক্রবার সকালে ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক, শিক্ষানুরাগীদের উপস্থিতিতে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা এলাকা পরিক্রমা করবে। ৭৫টি প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করবেন বেলুড় মঠের স্বামী অচ্যুতাত্মানন্দজি মহারাজ ও স্বামী তপোময়ানন্দজি মহারাজ। রয়েছে স্মারককক্ষের ভিত্তিপ্রস্তর ও গুণীজন সংবর্ধনা, বিজ্ঞান ও চিত্র প্রদর্শনী, ব্রতচারী প্রদর্শন, পুরুলিয়ার ছৌ-নৃত্য সহ একগুচ্ছ অনুষ্ঠানমালা। শনিবার অঙ্কন প্রতিযোগিতা, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পূর্ণাবয়ব মূর্তির আবরণ উন্মোচন ছাড়াও অন্যান্য অনুষ্ঠান রয়েছে। রবিবার রয়েছে ক্যুইজ প্রতিযোগিতা, স্বামীজির জন্মদিবস পালন সহ নানা অনুষ্ঠান। তিনদিন ধরেই ছাত্রছাত্রীদের দ্বারা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নাটক পরিবেশিত হবে।
সম্পর্কিত সংবাদ