Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আজ পৌষ সংক্রান্তি, রীতি মেনে বাড়িতেই পিঠে-পুলি, পায়েস তৈরির প্রস্তুতি তুঙ্গে

আজ পৌষ সংক্রান্তি, রীতি মেনে বাড়িতেই পিঠে-পুলি, পায়েস তৈরির প্রস্তুতি তুঙ্গে
  • ১৪ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
সংবাদদাতা, মালদহ: কারও সাধ আছে কিন্তু সাধ্য নেই। আবার কারও হাতে সময় বাড়ন্ত। তবুও পরিবারের সদস্যদের হাতে পিঠেপুলি তুলে দিতে চেষ্টার ত্রুটি নেই মালদহের অনেক পরিবারেই। আজ পৌষ সংক্রান্তি। তাই সোমবারই অনেকে বাজারে গিয়ে কিনে এনেছেন ময়দা, ক্ষীর, চিনি, গুড়, নারকেল সহ বিভিন্ন উপকরণ। পায়েস পিঠে তৈরিও শুরু করে দিয়েছেন পৌষ সংক্রান্তির আগে থেকেই। বিভিন্ন পরিবারে বিভিন্ন রীতি। সময়, সাধ্যের অভাব থাকলেও রীতি মেনে বাড়িতেই মিষ্টি তৈরি করছেন অনেকে। 
Advertisement
আবার যাঁদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না বাড়ির রান্নাঘরে এসব তৈরি করা] তাঁদের অনেকেই পাটিসাপটা অথবা দুধপুলি অর্ডার করেছেন অনলাইনেই। সব মিলিয়ে পৌষের শেষে বাড়িতে বাড়িতে মিষ্টির সম্ভার।
পৌষ সংক্রান্তির দিন কনকনে ঠান্ডা উপেক্ষা করে গঙ্গাস্নানেরও প্রস্তুতি শুরু হয়েছে অনেক বাড়িতেই। কেউ মানিকচক, কেউ আবার সাদুল্লাপুর, আবার কেউ পরিকল্পনা করেছেন ফারাক্কায় গিয়ে গঙ্গায় ডুব দিয়ে পুণ্য অর্জনের। 
গঙ্গার ঘাটগুলিতে কড়া নজর রাখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে জেলা প্রশাসন সূত্রে।
রবিবার থেকেই মালদহ শহরের বিভিন্ন পুর বাজারে দেদার বিক্রি হয়েছে, চালের গুঁড়ো, খেজুরের গুড়, ক্ষীর, দুধ এবং নারকেল। ইংলিশবাজারের মকদুমপুর এলাকার বাসিন্দা মৌমিতা ঘোষ পেশায় স্বাস্থ্যকর্মী। তিনি বলেন, পৌষ সংক্রান্তিতে ছুটি নেই। তাই ভোরবেলা উঠে অন্তত কিছু পিঠে তৈরি করে কাজে বের হব। বাকিটা সন্ধ্যায় বাড়ি এসে তৈরি করব। বছরের এই বিশেষ দিনে নিজের হাতে পিঠে বানিয়ে পরিবারের সদস্যদের পাতে না তুলে দিলে তৃপ্তি হয় না। তাই আগে থেকে সব ব্যবস্থা করে রেখেছি।
মালদহ শহরের আরেক বাসিন্দা প্রিয়াঙ্কা চক্রবর্তী বলেন, আমাদের পরিবারের রেওয়াজ খানিকটা পৃথক। পৌষ সংক্রান্তিতে পিঠেপুলির পরিবর্তে আমাদের বাড়িতে শুধু চালের গুঁড়ো দিয়ে রুটি তৈরি হয়। স্থানীয় ভাষায় একে আসকে বলে। খেজুরের ঝোলাগুড়ে ডুবিয়ে পরপর তিন দিন খাওয়া হয় এই আসকে। পরে ক্ষীরের পাটিসাপটা তৈরি হয়।
এদিকে বেশ কয়েকজন গৃহবধূ শুরু করেছেন অনলাইনে পাটিসাপটা, দুধপুলি সরবরাহের কাজ। তাঁরা বলেন, এখন অনেকের পক্ষেই বাড়িতে এসব তৈরির সময় বা সাধ্য থাকে না। তাঁরা আমাদের অর্ডার দিয়েছেন। পৌষ সংক্রান্তির সকালে তাঁদের বাড়িতে আমরা এগুলি পৌঁছে দেব। মালদহ শহরের খাদ্যমেলাতেও পৌষ সংক্রান্তির আগের দিন ভিড় দেখা গিয়েছে মিষ্টির স্টলগুলিতে।
সম্পর্কিত সংবাদ