নিজস্ব প্রতিনিধি, গোয়ালতোড়: ভারত বনাম পাকিস্তান। ইলিশ বনাম চিংড়ি। ইস্টবেঙ্গল বনাম মোহনবাগান। এসব নিয়ে দ্বৈরথের কথা উঠলেই রক্ত টগবগ করে ফুটে ওঠে। সবার বক্তব্য, বিশ্ব জয় করতে না পারো ঠিক আছে, কিন্তু পাকিস্তানকে হারাও। তবে শান্তি। তাদের হারালেই আমাদের বিশ্ব জয়। ফলে ম্যাচ শুরুর আগে স্নায়ুর চাপ বাড়ে ভারতের নাগরিকদের, পাকিস্তানেরও একই দশা। রবিবার দুবাইয়ে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন ট্রফির খেলা। মাঠে মুখোমুখি ভারত-পাক দুই দেশ। তার আগে ভারতের হয়ে গলা ফাটাচ্ছেন পাকিস্তানের বাসিন্দারা। অবাক করা ঘটনা হলেও এটিই সত্যি।
Advertisement
তবে এ গল্প গোয়ালতোড়ের। সেখানে হুমগড় এলাকার একটি গ্রামের নাম ‘পাকিস্তান’। সে গ্রামের বাসিন্দারা ভারতের জয় দেখবেন বলে সকাল থেকে মুখিয়ে বসে। শুভমন গিল, রোহিত শর্মাদের জন্য প্রার্থনা করছে গোটা পাকিস্তান। বেশিরভাগ মানুষ মোবাইলে চার্জ দিয়ে রাখছেন। টিভি রাখছেন তৈরি। ভারতের ব্যাটাররা চার-ছয় মারলেই লাপঝাঁপ। রীতেশ লোহার নামে গ্রামের এক কিশোর নিয়মিত খেলাধুলা করে। সে বলে, ‘গ্রামের নাম পাকিস্তান আর আমরা টিম ইন্ডিয়ার ফ্যান।’
গোয়ালতোড় থানার অন্তর্গত হুমগড় এলাকা। সেখানকার একটি ছোট গ্রাম চাঁদাবিলা। সে গ্রামেরই একটি অংশের নাম ‘পাকিস্তান’। সরকারি কাগজে অবশ্য জায়গাটির উল্লেখ ‘চাঁদাবিলা’ নামেই। এ গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ চাষ করেন। অনেকে দিনমজুর। পঞ্চাশ থেকে ষাটটি ঘর আছে পাকিস্তানে। বাসিন্দারা কঠোর পরিশ্রম করেন দিনভর। আর শখ বলতে ক্রিকেট দেখা। এই এলাকার নাম ‘পাকিস্তান’ কেন হল? বাসিন্দাদের বক্তব্য, এ নামকরণের নেপথ্যে দু’টি কারণ থাকতে পারে। ‘এক, বহু আগে পূর্ব পাকিস্তানের কিছু বাসিন্দা এখানে এসে বসতি গড়ে তুলেছিলেন। একটি বাঁধের একপাশে তাঁরা থাকতেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ হওয়ার পর তাঁরা দেশে ফিরে যান। তাঁদের জন্যই হয়ত পাকিস্তান নামে পরিচিত হয়ে ওঠে অঞ্চলটি।’ আবার কেউ বলেন, ‘তৎকালীন সময় এই এলাকায় জাতপাতের প্রবল ভেদাভেদ ছিল। অনেকে নিচু জাতের মানুষকে পাকিস্তান বলে কটাক্ষ করতেন। হয়ত সে থেকেই এই অঞ্চলের নাম পাকিস্তান হিসেবে পরিচিতি পেয়ে যায়।’
এখানে পূর্ব পাকিস্তানের বাসিন্দাদের যে বাড়িঘরগুলি ছিল তা মনে রয়েছে বহু প্রবীণের। সেই বাসস্থান ধীরে ধীরে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এ গ্রামের বাসিন্দা আনন্দ লোহার। এখন বয়স ৭৬ বছর। নিজের বাড়ির উঠোনে দাঁড়িয়ে বলেন, ‘এখানে থাকতেন পূর্ব পাকিস্তানের কিছু মানুষ। তাঁদের বাড়ি আমি দেখেছি।’ হুমগড় চাঁদাবিলা হাইস্কুলের প্রাক্তন শিক্ষক শঙ্কর মহাপাত্র বলেন, ‘অনেকেই কিন্তু জানেন না এখানে পাকিস্তান বলে একটি গ্রাম আছে।’
যাই হোক, এই পাকিস্তানের বাসিন্দাদের রাতে ভালো করে ঘুম হয়নি। ম্যাচ ঘিরে টেনশনে রয়েছেন। ‘পাকিস্তানকে গো হারান হারাতে হবে’-এই বলে বসতে চলেছেন টিভির সামনে। পাকিস্তানকে হারাতে রবিবার উঠেপড়ে লেগেছে পাকিস্তান।
গোয়ালতোড় থানার অন্তর্গত হুমগড় এলাকা। সেখানকার একটি ছোট গ্রাম চাঁদাবিলা। সে গ্রামেরই একটি অংশের নাম ‘পাকিস্তান’। সরকারি কাগজে অবশ্য জায়গাটির উল্লেখ ‘চাঁদাবিলা’ নামেই। এ গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ চাষ করেন। অনেকে দিনমজুর। পঞ্চাশ থেকে ষাটটি ঘর আছে পাকিস্তানে। বাসিন্দারা কঠোর পরিশ্রম করেন দিনভর। আর শখ বলতে ক্রিকেট দেখা। এই এলাকার নাম ‘পাকিস্তান’ কেন হল? বাসিন্দাদের বক্তব্য, এ নামকরণের নেপথ্যে দু’টি কারণ থাকতে পারে। ‘এক, বহু আগে পূর্ব পাকিস্তানের কিছু বাসিন্দা এখানে এসে বসতি গড়ে তুলেছিলেন। একটি বাঁধের একপাশে তাঁরা থাকতেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ হওয়ার পর তাঁরা দেশে ফিরে যান। তাঁদের জন্যই হয়ত পাকিস্তান নামে পরিচিত হয়ে ওঠে অঞ্চলটি।’ আবার কেউ বলেন, ‘তৎকালীন সময় এই এলাকায় জাতপাতের প্রবল ভেদাভেদ ছিল। অনেকে নিচু জাতের মানুষকে পাকিস্তান বলে কটাক্ষ করতেন। হয়ত সে থেকেই এই অঞ্চলের নাম পাকিস্তান হিসেবে পরিচিতি পেয়ে যায়।’
এখানে পূর্ব পাকিস্তানের বাসিন্দাদের যে বাড়িঘরগুলি ছিল তা মনে রয়েছে বহু প্রবীণের। সেই বাসস্থান ধীরে ধীরে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এ গ্রামের বাসিন্দা আনন্দ লোহার। এখন বয়স ৭৬ বছর। নিজের বাড়ির উঠোনে দাঁড়িয়ে বলেন, ‘এখানে থাকতেন পূর্ব পাকিস্তানের কিছু মানুষ। তাঁদের বাড়ি আমি দেখেছি।’ হুমগড় চাঁদাবিলা হাইস্কুলের প্রাক্তন শিক্ষক শঙ্কর মহাপাত্র বলেন, ‘অনেকেই কিন্তু জানেন না এখানে পাকিস্তান বলে একটি গ্রাম আছে।’
যাই হোক, এই পাকিস্তানের বাসিন্দাদের রাতে ভালো করে ঘুম হয়নি। ম্যাচ ঘিরে টেনশনে রয়েছেন। ‘পাকিস্তানকে গো হারান হারাতে হবে’-এই বলে বসতে চলেছেন টিভির সামনে। পাকিস্তানকে হারাতে রবিবার উঠেপড়ে লেগেছে পাকিস্তান।



