Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আইসিডিএস সেন্টারে থাকেন ঝড়ে ঘর হারানো দম্পতি, মেলেনি আবাসের বাড়ি

আইসিডিএস সেন্টারে থাকেন ঝড়ে ঘর হারানো দম্পতি, মেলেনি আবাসের বাড়ি
  • ২০ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, কাটোয়া: ঝড়ে ভেঙে গিয়েছে মাটির বাড়ি। প্রাণে কোনওরকমে বেঁচে গিয়েছিল পুরো পরিবার। আউশগ্রামের বিল্বগ্রামে চার বছর ধরে আইসিডিএস সেন্টারেই আশ্রয় নিয়েছেন বৃদ্ধ দম্পতি। বয়সের ভারে কাজ করার শক্তি হারিয়েছেন তাঁরা। বিড়ি বেঁধে কোনওরকমে চলে সংসার। প্রশাসনের দরজায় ঘুরেও তাঁরা বাংলার বাড়ি পাননি। এই নিয়ে আউশগ্রাম-১ বিডিও কামরুল শেখ বলেন, আমরা ওই ব্যক্তির বাড়ি তৈরির জন্য সব কিছু দেখে ব্যবস্থা নিচ্ছি। 
Advertisement
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, যশ ঝড়ে বহু মাটির বাড়ি ভেঙেছিল ২০২১ সালে। আউশগ্রাম-১ ব্লকের বিল্বগ্রামের মুসলিম পাড়ার বাসিন্দা পিয়ারত শেখের চার কামরার মাটির বাড়িও তখন ঝড়ে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়েছিল। সেই সময় প্রশাসন তড়িঘড়ি তাঁদের সেখান থেকে উদ্ধার করে গ্রামের আইসিডিএস সেন্টারে আশ্রয় দিয়েছিলেন। সেই থেকেই কার্যত পিয়ারত শেখের ঠিকানা হয়ে দাঁড়াল ওই সেন্টার। তারপর স্থানীয় পঞ্চায়েত থেকে দু’বার ত্রিপল মিললেও পাকা ছাদ মেলেনি। 
পিয়ারত শেখ বলেন, আমি গরিব মানুষ। কাজ করতে পারি না। আমার স্ত্রী ভিক্ষা করে। আর অবসর সময়ে বিড়ি বেঁধে সংসার চলে। ভাঙা ঘর মেরামত করার মতো সামর্থ্য আমাদের নেই। আইসিডিএস সেন্টার থেকে তাড়িয়ে দিলে রাস্তায় থাকা ছাড়া আমাদের আর কোনও উপায় থাকবে না। 
পিয়ারত শেখ ও তাঁর স্ত্রী রসুলা বিবির দুই মেয়ে। বড় মেয়ে আমিনা খাতুন ও ছোটো মেয়ে সামিনা খাতুন। দু’জনেরই বিয়ে হয়ে গিয়েছে। বড় মেয়ের গ্রামেই বিয়ে হয়েছে। কিন্তু তাঁর স্বামী অসুস্থ। আমিনা বলেন, আমার স্বামী কাজ করতে পারেন না। বাবা মার সংসার টানার সামর্থ্য আমার নেই। খুব কষ্টেই ওই আইসিডিএস সেন্টারে বাবা-মা রয়েছেন। তবে ওই আইসিডিএস সেন্টারের নতুন ভবন তৈরি হওয়ায় সেখানেই পড়াশুনা রান্নাবান্না চলে। 
রসুলা বিবি বলেন, আমি প্রশাসনকে বাড়ি তৈরির জন্য বহুবার কাগজপত্র জমা দিয়েছি। তবুও আমাদের তালিকায় নাম আসেনি। আইসিডিএস সেন্টারেও আমাদের কষ্টেই থাকতে হয়। দূর থেকে জল বয়ে আনতে হয়। 
বিল্বগ্রাম অঞ্চলের প্রধান কিশোর রায়চৌধুরী বলেন, বিডিও সাহেব বিষয়টা দেখছেন। এতদিন ওঁদের নাম তালিকায় আসেনি। আমরাও গুরুত্ব সহকারে বিষয়টা দেখছি। 
বিল্বগ্রামের বাসিন্দা শেখ নজরুল বলেন, পিয়ারত শেখের মতো দুঃস্থ মানুষদের নাম কেন তালিকায় নেই, সেটাই আশ্চর্যের ব্যাপার!
সম্পর্কিত সংবাদ