Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ব্যাপক বাজি পোড়ানোয় একদিনে দূষিত মেদিনীপুরের বাতাস

সারা রাজ্যের পাশাপাশি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার মানুষও আলোর উৎসবে মেতে উঠেছে। কালীপুজো উপলক্ষ্যে বিপুল পরিমাণ বাজি পোড়ানোর ফলে বিপদ বেড়েছে।

ব্যাপক বাজি পোড়ানোয় একদিনে দূষিত মেদিনীপুরের বাতাস
  • ২২ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: সারা রাজ্যের পাশাপাশি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার মানুষও আলোর উৎসবে মেতে উঠেছে। কালীপুজো উপলক্ষ্যে বিপুল পরিমাণ বাজি পোড়ানোর ফলে বিপদ বেড়েছে। একদিনেই মেদিনীপুর শহরের বাতাস দূষিত হয়ে পড়েছে। যার ফলে শিশু ও প্রবীণরা সমস্যায় পড়তে পারেন। বিশেষজ্ঞরা পর্যবেক্ষণ করে জানতে পেরেছেন, শহরের বাতাসে ভাসমান ছোট ও মাঝারি ধূলিকণার সংখ্যা বেড়েছে। বৃষ্টি বা ঝোড়ো বাতাস ছাড়া এই দূষণের মাত্রা কমানো সম্ভব নয়। তবে সবচেয়ে ক্ষতিকর বাতাসে ভাসমান সূক্ষ্ম ধূলিকণা।

Advertisement

এক বিশেষজ্ঞ বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং অন্য বিভিন্ন সংস্থার মতে, পিএম ২.৫ ও  পিএম ১০-এর কণা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। মেদিনীপুর শহরের বিধাননগর, পালবাড়ি, বার্জটাউন, ধর্মা, সিপাইবাজার, রবীন্দ্রনগর এলাকায় দূষণের পরিমাণ বেড়েছে।
কালীপুজোর আগের দিন ও সোমবার একদল গবেষক সমীক্ষা করেছেন। তাতে দেখা গিয়েছে, রবিবার রাতে মেদিনীপুরের রবীন্দ্রনগরে বাতাসে ভাসমান অতি সূক্ষ্ম ধূলিকণা পিএম ২.৫-এর মাত্রা ছিল প্রতি কিউবিক মিটারে ১১৩ মাইক্রোগ্রাম। অপেক্ষাকৃত পুরু ধূলিকণা পিএম ১০-এর মাত্রা ছিল ১৪৩ মাইক্রোগ্রাম। কিন্তু সোমবার রাতে এই এলাকায় দূষণ বেড়ে গিয়েছে। পিএম ২.৫-এর মাত্রা ২৪৯মাইক্রোগ্রাম ও অপেক্ষাকৃত পুরু ধূলিকণা পিএম ১০-এর মাত্রা  ৩৯২মাইক্রোগ্রাম হয়েছে।
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বিভিন্ন গ্রামে অনেক বাসিন্দা বংশপরম্পরায় বাজি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। বেশিরভাগ গ্রামবাসী বাড়িতেই নিপুণ হাতে হাজি তৈরি করেন। সেই বাজি বিক্রি করে তাঁদের সংসার চলে। এবার কালীপুজোয় রংমশাল, তারাবাতি সহ নানা আতসবাজি বিপুল পরিমাণে বিক্রি হয়েছে। কিন্তু এই বাজির কারণে দূষণ বেড়েছে।
মেদিনীপুরের রাজা নরেন্দ্রলাল খান মহিলা মহাবিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগের অধ্যাপক প্রভাতকুমার শীট বলেন, আতসবাজি থেকে বেরনো ধোঁয়া, ধাতু ও রাসায়নিক পদার্থ বাতাসে সূক্ষ্ম কণা ছড়িয়ে দেয়। বাজি পোড়ানোর ফলে খুব দূষণ ছড়াচ্ছে। সবার সতর্ক থাকা প্রয়োজন। সেইসঙ্গে আলোর উৎসবে শব্দদানবের বাড়বাড়ন্ত যাতে না হয়-সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। মেদিনীপুরের চিকিৎসক রাজীব দে বলেন, অনেকেই শ্বাসকষ্টের উপসর্গ নিয়ে আসছেন। মানুষকে আরও সচেতন হতে হবে।

সম্পর্কিত সংবাদ