Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

আইপ‌্যাকে ঢালাও চাকরি ‘যদুবংশীয়’ বাম নেতাদের, কল্কে পাচ্ছে না টিএমসিপি!

তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে ভোটের লড়াইয়ে থিঙ্ক ট্যাঙ্কের কাজ করে আইপ্যাক। অথচ, সেই সংস্থাই বিজেপি এবং বামপন্থীতে ভরে রয়েছে! সংস্থার সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে এমনটাই জানা যাচ্ছে।

আইপ‌্যাকে ঢালাও চাকরি ‘যদুবংশীয়’ বাম নেতাদের, কল্কে পাচ্ছে না টিএমসিপি!
  • ১৫ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

অর্পণ সেনগুপ্ত, কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে ভোটের লড়াইয়ে থিঙ্ক ট্যাঙ্কের কাজ করে আইপ্যাক। অথচ, সেই সংস্থাই বিজেপি এবং বামপন্থীতে ভরে রয়েছে! সংস্থার সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে এমনটাই জানা যাচ্ছে। বামঘাঁটি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের আগমার্কা এসএফআই বলে পরিচিত ছিলেন যাঁরা, তাঁরাই এখন তৃণমূলের ভোটকুশলী সংস্থাটির গুরুত্বপূর্ণ পদে যোগ দিয়েছেন। মজার বিষয় হল, সেই সংস্থায় কল্কে পাচ্ছেন না তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সঙ্গে যুক্ত নেতাকর্মীদের অনেকেই।

Advertisement

যাদবপুরের এক টিএসসিপি নেতা বলছিলেন, ‘আমার পাড়া আমার সমাধানে কর্মসূচির জন্য অনেকদিন ঘরেই আইপ্যাকের হয়ে কাজ করছি। সংস্থাটি পুরো বাম-বিজেপিতে ভরে গিয়েছে। আসলে ওরা পলিটিক্যাল ব্যাকগ্রাউন্ডকে সেভাবে গুরুত্ব দেয় না। সিভি দেখে ইন্টারভিউয়ে ডাকে এবং পছন্দ হলে পদ অনুযায়ী নিয়োগ করে।’ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএফআইয়ের এক পুরোনো মুখ, প্রাক্তন ছাত্রী সুচন্দ্রা বিশ্বাস (নাম পরিবর্তিত) এখন আইপ্যাকের ‘সেন্ট্রাল লিড’ হিসেবে কাজ করেন। টাটা ইনস্টিটিউট অব সোশাল সায়েন্সেস-এর ডিগ্রিধারী সুচন্দ্রা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে পড়ার সময় এসএফআই নেত্রী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এছাড়াও ওই বিভাগ থেকে স্বর্ণাভ রায়, স্বর্ণদীপ্ত রায়, তৃষাণ পালরা (সব নামই পরিবর্তিত) সম্প্রতি আইপ্যাকে যোগ গিয়েছেন। সকলেই আগমার্কা এসএফআই।
শুধু আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নয়, সোশিওলজি, ইংলিশ এবং ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিভিন্ন শাখা থেকেও ছাত্রছাত্রীরা যোগ দিচ্ছেন এই সংস্থায়। টিএমসিপির এক নেতা ভোট সম্পর্কিত বিজ্ঞান নিয়েই পিএইচডি করেছেন। তবে, দু’দফা ইন্টারভিউয়ের পরেও তিনি ডাক পাননি। তার পরিবর্তে ডাক পেয়েছেন তুলনায় জুনিয়র স্বর্ণদীপ্ত। এই টিএমসিপি নেতা জানান, ‘নেশন উইথ নমো’র সহযোগী সংস্থাতেও তিনি যোগ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। বেতন সংক্রান্ত কথাবার্তা পাকা হয়ে যাওয়ার পরেও তারা খোঁজখবর নিয়ে টিএমসিপি ব্যাকগ্রাউন্ড জানতে পেরে তাঁর নাম খারিজ করে দেয়। আইপ্যাকে তেমন হচ্ছে না বলেই তাঁর দাবি।
দেখা যাচ্ছে, আইপ্যাকে আবেদন করার পরেই এই ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করে দিচ্ছেন। সম্প্রতি যাঁরা যোগ দিয়েছেন, তাঁদের অ্যাকাউন্টও নিষ্ক্রিয়। এর ফলে তাঁদের রাজনৈতিক মতাদর্শও সেভাবে সামনে আসছে না। যাদবপুরের ওই টিএমসিপি নেতার দাবি, আইপ্যাকে যোগ দিয়ে তৃণমূল বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে ভোটের কাজ করছেন এই এসএফআই নেতা-কর্মীরা। তা সত্ত্বেও তাঁদের দল বা সংগঠনের সদস্যপদ খারিজ হচ্ছে না। বরং ২০২১ সালের আগেও এইচআর পদে প্রচুর বামপন্থী যোগ দিয়েছেন। তাঁরাই ডেকে নিচ্ছেন সংগঠনের নেতা-কর্মীদের। এর পিছনে একটি পরিকল্পনা থাকতে পারে। ভোট পরিচালনার যাবতীয় খুঁটিনটি জেনে নিয়ে সেটা বামেদের হয়ে কাজে লাগাতে পারেন তাঁরা। খুব সংগঠিতভাবে গোটা বিষয়টি হচ্ছে বলে দাবি ওই টিএমসিপি নেতার। 
এ প্রসঙ্গে আইপ্যাক কী বলছে? সংস্থার এক শীর্ষকর্তার বক্তব্য, তাঁরা যাদবপুর সহ একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাস ইন্টারভিউয়ের ব্যবস্থা করেছিলেন। সেখানে সি ভি দেখে ইন্টারভিউয়ে সফলদের নিয়োগ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রার্থী কোন রাজনৈতিক দলের, তা দেখে নিয়োগ হয়নি। নিয়োগ হয়েছে যোগ্যতার ভিত্তিতে। এসএফআইয়ের রাজ্য সম্পাদক দেবাঞ্জন দে বলেন, ‘যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাসিং হয়েছে। অনেকেরই আইপ্যাকে চাকরি হয়েছে বলে শুনেছি। তবে তাঁরা কেউ এসএফআইর সঙ্গে যুক্ত, এমন শুনিনি।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ