সমৃদ্ধ দত্ত, নয়াদিল্লি: ইচ্ছামতো আইনজীবীরা কর্মবিরতির ডাক দিতে পারবেন না। একক, সমষ্টিগত কিংবা সংগঠনের ব্যানারেও নয়। দাবি-আন্দোলনের নামে বিচার ব্যবস্থাকে ব্যাহত করা, অথবা আদালত বয়কটও বরদাস্ত করা হবে না। আসছে আইন। তাতে স্পষ্ট উল্লেখ থাকছে, আইনজীবীরা তাঁদের প্রতিবাদকে আন্দোলন, বয়কট অথবা ধর্মঘট—যে নামই দিয়ে থাকুন না কেন, একদিনের জন্যও যেন বিচারপ্রার্থীরা সমস্যায় না পড়েন। আন্দোলন অথবা বয়কটের জন্য যদি বিচার প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটে, বা সাধারণ মানুষকে ফিরে যেতে হয়, তাহলে ওই প্রতিবাদকে বেআইনি ঘোষণা করা হবে। সংগঠনের ধর্মঘটের অধিকার ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে না বটে, তবে কারণ হতে হবে পরিকাঠামো কিংবা প্রশাসনিক কোনও সমস্যার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ। তার অর্থ এই নয় যে, অনির্দিষ্টকাল ধর্মঘট চালানো যাবে। একদিনের প্রতীকী ধর্মঘট ডাকা যেতে পারে। সেটাও যেন গ্রহণযোগ্য হয়। যেমন, কাজের পরিবেশ না থাকা, পরিষেবা ও পরিকাঠামো ভেঙে পড়া, অথবা প্রশাসনিক সঙ্কট।
Advertisement
১৯৬১ সালের অ্যাডভোকেটস আইনের সংশোধনী অ্যাডভোকেটস অ্যামেন্ডমেন্টস বিল ২০২৫ শীঘ্রই সংসদে আনছে আইন মন্ত্রক। সে নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে। আপাতত খসড়া বিল প্রকাশ হয়েছে। রীতি অনুযায়ী অভিমত চাওয়া হচ্ছে সকলের। আর খসড়া বিল দেখেই আইনজীবীদের একাংশ এত ক্ষুব্ধ যে, দিল্লির তাবৎ নিম্ন আদালতের জেলা বার অ্যাসোসিয়েশন একদিনের প্রতীকী ধর্মঘট পালন করেছে সোমবার। তাদের হুমকি, রাজ্যে রাজ্যে আন্দোলন শুরু হবে। কারণ, এভাবে আইনজীবীদের প্রতিবাদের অধিকার ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এই বিল অগণতান্ত্রিক। পক্ষান্তরে সরকারের বক্তব্য, চিকিৎসকদের মতো আইনজীবীদের উপরও আম জনতা নির্ভরশীল। বিচারপ্রার্থী প্রান্তিক মানুষের পক্ষে একদিনের অপেক্ষাও সহ্য করা অমানবিক। তাই সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক কারণে আদালত বন্ধ থাকবে, বিচার অনিশ্চিত থাকবে, এটা সভ্য আধুনিক সমাজে চলবে না।
১৯৬১ সালের অ্যাডভোকেটস আইনের ৩৫ নম্বর ধারার সংশোধনীতে বলা হয়েছে, আইনজীবীদের কোনও সংগঠন অথবা সংগঠনের সদস্য একক অথবা সমষ্টিগতভাবে আদালত বয়কট করলে সেটা বেআইনি হিসেবে বিবেচিত হবে। বিচারপ্রার্থীদের অধিকার ছিনিয়ে নেওয়া যাবে না। নতুন একটি ধারা এই সংশোধনীতে যুক্ত করা হয়েছে। সেখানে বলা হচ্ছে, নয়া সংশোধিত আইনে তিন বছর অথবা তার বেশি সময়সীমার জন্য কারাদণ্ডপ্রাপ্ত কেউ রাজ্য বার কাউন্সিলের সদস্য হতে পারবেন না।
পাশাপাশি, আইন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করলেই আইন স্নাতক তথা আইনজীবী তকমা পাওয়া যাবে বলে আইনে থাকছে। এতদিন আইনজীবী হওয়ার জন্য বার কাউন্সিলের নম্বর পাওয়া জরুরি ছিল। প্র্যাকটিস না করে অনেকেই আইনি পরামর্শদাতা হয়ে থাকেন এবং কর্পোরেটে আইন বিশেষজ্ঞদের টিমের সদস্য হয়ে কাজ করেন। কিন্তু তাঁদের আনুষ্ঠানিকভাবে আইনজীবী বলা হয় না। এই প্রথার বদল ঘটছে। তাঁরাও আইনজীবী। অন্যদিকে বার কাউন্সিল অব ইন্ডিয়ায় অ্যাটর্নি জেনারেল, সলিসিটর জেনারেল ছাড়া আরও তিনজন কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিকে অন্তর্ভুক্ত করতে চায় আইন মন্ত্রক। সেই প্রস্তাবও অন্তর্ভুক্ত খসড়া বিলে রয়েছে। অর্থাৎ মহাশক্তিধর বার কাউন্সিলে কেন্দ্রীয় আধিপত্য বৃদ্ধির আভাস!
আইনের খুঁটিনাটি
আইনজীবীদের কোনও সংগঠন অথবা সংগঠনের সদস্য একক অথবা সমষ্টিগতভাবে আদালত বয়কট করলে তা বেআইনি বলে ধরা হবে
বার কাউন্সিলের ছাড়পত্র আর আবশ্যিক নয়। আইন পাশ করলেই এরপর থেকে আইনজীবী
বার কাউন্সিল অব ইন্ডিয়ায় অ্যাটর্নি জেনারেল, সলিসিটর জেনারেল ছাড়া আরও তিনজন কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি
১৯৬১ সালের অ্যাডভোকেটস আইনের ৩৫ নম্বর ধারার সংশোধনীতে বলা হয়েছে, আইনজীবীদের কোনও সংগঠন অথবা সংগঠনের সদস্য একক অথবা সমষ্টিগতভাবে আদালত বয়কট করলে সেটা বেআইনি হিসেবে বিবেচিত হবে। বিচারপ্রার্থীদের অধিকার ছিনিয়ে নেওয়া যাবে না। নতুন একটি ধারা এই সংশোধনীতে যুক্ত করা হয়েছে। সেখানে বলা হচ্ছে, নয়া সংশোধিত আইনে তিন বছর অথবা তার বেশি সময়সীমার জন্য কারাদণ্ডপ্রাপ্ত কেউ রাজ্য বার কাউন্সিলের সদস্য হতে পারবেন না।
পাশাপাশি, আইন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করলেই আইন স্নাতক তথা আইনজীবী তকমা পাওয়া যাবে বলে আইনে থাকছে। এতদিন আইনজীবী হওয়ার জন্য বার কাউন্সিলের নম্বর পাওয়া জরুরি ছিল। প্র্যাকটিস না করে অনেকেই আইনি পরামর্শদাতা হয়ে থাকেন এবং কর্পোরেটে আইন বিশেষজ্ঞদের টিমের সদস্য হয়ে কাজ করেন। কিন্তু তাঁদের আনুষ্ঠানিকভাবে আইনজীবী বলা হয় না। এই প্রথার বদল ঘটছে। তাঁরাও আইনজীবী। অন্যদিকে বার কাউন্সিল অব ইন্ডিয়ায় অ্যাটর্নি জেনারেল, সলিসিটর জেনারেল ছাড়া আরও তিনজন কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিকে অন্তর্ভুক্ত করতে চায় আইন মন্ত্রক। সেই প্রস্তাবও অন্তর্ভুক্ত খসড়া বিলে রয়েছে। অর্থাৎ মহাশক্তিধর বার কাউন্সিলে কেন্দ্রীয় আধিপত্য বৃদ্ধির আভাস!
আইনের খুঁটিনাটি
আইনজীবীদের কোনও সংগঠন অথবা সংগঠনের সদস্য একক অথবা সমষ্টিগতভাবে আদালত বয়কট করলে তা বেআইনি বলে ধরা হবে
বার কাউন্সিলের ছাড়পত্র আর আবশ্যিক নয়। আইন পাশ করলেই এরপর থেকে আইনজীবী
বার কাউন্সিল অব ইন্ডিয়ায় অ্যাটর্নি জেনারেল, সলিসিটর জেনারেল ছাড়া আরও তিনজন কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি



