নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ১৪ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত এইডস আক্রান্ত এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করল আদালত। বৃহস্পতিবার কলকাতা নগর দায়রার বিশেষ পকসো আদালত ওই আদেশ দেয়। বিচারক ওই সাজার সঙ্গে কুড়ি হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ছয় মাসের হাজতবাসের নির্দেশ দেন। এদিন অপরাধী ওই যুবক কম সাজার পক্ষে সওয়াল করেন। যদিও ঘটনার গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে সরকারি কৌঁসুলি সৈকত পান্ডে আদালতে অভিযুক্ত যুবকের বিরুদ্ধে কড়া সাজার দাবি জানান। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২২ সালে ১৭ অক্টোবর ঘটনাটি ঘটে, কলকাতার পুলিসের নর্থ পোর্ট থানা এলাকায়। ১৪ বছরের কিশোরীটি স্নান সেরে গঙ্গাঘাট লাগোয়া একটি ঘরে পোশাক পরিবর্তন করছিল। ওই সময় সেখানে ঢুকে কিশোরীর মুখ চেপে তাকে ধর্ষণ করে এইডস আক্রান্ত ওই যুবক। ভয় দেখিয়ে বলা হয়, কাউকে জানালে পরিণতি ভালো হবে না। সরকারি কৌঁসুলি জানান, ঘটনার পর কিশোরীটি কাঁদতে কাঁদতে বাড়িতে এসে ঘটনাটি মাকে জানায়। পুলিসে অভিযোগ দায়ের করা হয়। তার ভিত্তিতে পুলিস অভিযুক্ত যুবকের বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা দায়ের করে। ঘটনার পরদিন ১৮ অক্টোবর পুলিস অভিযুক্ত যুবককে ওই থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। ব্যাঙ্কশাল কোর্টের একজন বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের (জেএম) কাছে গোপন জবানবন্দি পেশ করে কিশোরী। আদালতের নির্দেশে তার মেডিকো লিগ্যাল পরীক্ষাও হয়। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আদালতে চার্জশিট পেশ করেন তদন্তকারী পুলিস অফিসার গৌতম মোদক। মামলার গুরুত্ব অনুধাবন করে একাধিকবার ধৃতের জামিনের আর্জি নাকচ করে দেয় আদালত। ফলে জেল হেফাজতে রেখেই চলে যুবকের বিচার। এই মামলায় আদালতে সাক্ষ্য দেন ১১ জন। মামলার শুনানির সওয়ালপর্বে যুবকের তরফে বলা হয়, ‘অভিযুক্ত একজন এইডস আক্রান্ত রোগী। তাই তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হোক।’ সরকারি কৌঁসুলি জোরালো আপত্তি জানান। তিনি তাঁর সওয়াল জবাবে বলেন, ‘যুবকটি যে কাজ করেছে, তা ক্ষমার অযোগ্য। তাই সেখানে অপরাধের সঙ্গে অসুস্থতার কথা বলে সহানুভূতি আদায় করা কখনই যুক্তি সঙ্গত নয়।’ দীর্ঘ সওয়াল শেষে বিচারক অভিযুক্ত যুবককে দোষী সাব্যস্ত করে এদিন তার বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণা করেন।



