Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আইআইএইচটি-র ক্রেডিট ‘চুরি’র অভিযোগ তৃণমূলের

আইআইএইচটি-র ক্রেডিট ‘চুরি’র অভিযোগ তৃণমূলের
  • ৬ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অব হ্যান্ডলুম টেকনোলজি-র ক্রেডিট ‘চুরি’ করছে বিজেপি। এমনটাই অভিযোগ শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের। শাসকদলের দাবি, তৃণমূলই প্রথম সংসদে এই ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ার প্রস্তাব তুলেছিল। কিন্তু, কৃতিত্ব নিতে চাইছে বিজেপি। যদিও ঘাসফুল শিবিরের দাবিকে উড়িয়ে পাল্টা আক্রমণ করেছে বিজেপিও। ফলে ফুলিয়ায় আইআইএইচটি-র নবনির্মিত ক্যাম্পাস উদ্বোধনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পরস্পর বিরোধী বাক্যবাণে তপ্ত শান্তিপুরের রাজনীতি।
Advertisement
শনিবার কেন্দ্রীয় বস্ত্রমন্ত্রী গিরিরাজ সিং উদ্বোধন করেন ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অব হ্যান্ডলুম টেকনোলজি ফুলিয়ার নবনির্মিত ক্যাম্পাসের। ২০১৫ সাল থেকে চালু হওয়ার পর দীর্ঘদিন এই প্রতিষ্ঠান চলত সংলগ্ন আইটিআই কলেজ চত্বর থেকেই। সম্প্রতি প্রায় ৮০ কোটি টাকা খরচে তৈরি হয়েছে সুসজ্জিত ক্যাম্পাস। রয়েছে অত্যাধুনিক সুবিধা যুক্ত পঠন-পাঠনের ব্যবস্থা। সেই উদ্বোধনী মঞ্চে ফুলিয়ায় এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৈরির সিংহভাগ কৃতিত্ব বিজেপি সরকারের বলে দাবি করেন রানাঘাটের সাংসদ জগন্নাথ সরকার। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিং বলেন, রাজ্য সরকার ফুলিয়ার তাঁত শিল্পীদের জন্য কিছুই করেনি। এই ইন্সটিটিউট হওয়ার ফলে এখান থেকে প্রচুর ছেলেমেয়ে হ্যান্ডলুমে শিক্ষা অর্জন করে বিভিন্ন জায়গায় চাকরি করতে পারবেন। 
শান্তিপুরের বিধায়ক ব্রজকিশোর গোস্বামী বলেন, এই আইআইএইচটির দাবি এক সময় সংসদে তৃণমূলই তুলেছিল। হ্যান্ডলুম নিয়ে ফুলিয়ায় টেকনিক্যাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তা প্রথম তৃণমূল নেতৃত্বই অনুধাবন করেছিল। তাই ২০১৫ সালে তৃণমূলের টিকিটের জয়ী তৎকালীন রানাঘাটের সাংসদ তাপস মণ্ডল সংসদে এই বিশেষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চেয়েছিলেন। শান্তিপুরের বিধায়ক বলেন, লোকসভার রেকর্ডে সেই বক্তব্য পাওয়া যাবে। আমি কোনও অলীক দাবি করছি না। সেই সময় বিজেপি সরকার তাপসবাবুর দাবিকে গুরুত্ব দেয়নি। এখন আইআইএইচটি ক্যাম্পাস উদ্বোধন করে বিজেপি ক্রেডিট নিতে চাইছে। এটা তৎকালীন সাংসদ তাপসবাবু এবং তৃণমূল দলের তুলে ধরা প্রস্তাবেরই পরিণতি সেটা বাংলার মানুষ খুব ভালো করেই জানে। 
বিধায়ক বলেন, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অভিযোগ করেছেন, তাঁত শিল্পীদের জন্য নাকি রাজ্য সরকার কিছুই করেনি। উনি একবার রাজ্য সরকারের বাজেট দেখে নিতে পারেন। তাহলেই জানতে পারবেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার এব্যাপারে কয়েকশো কোটি টাকা প্রকল্প ঘোষণা করেছে। রাজনৈতিক তরজা চরমে উঠেছে তৃণমূল বিধায়ককে আমন্ত্রণ না জানানোয়। আইআইএইচটি-র একটি অংশ শান্তিপুর বিধানসভার মধ্যে পড়লেও ব্রজকিশোর গোস্বামীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। যদিও বিষয়টি নিয়ে বিধায়কের বক্তব্য, আমাকে আমন্ত্রণ না জানানোর জন্য আমি উদ্যোক্তাদের ধন্যবাদ জানাতে চাই।
তৃণমূলকে পাল্টা আক্রমণ করেছে বিজেপিও। শান্তিপুর পঞ্চায়েত সমিতির সহকারী সভাপতি তথা বিজেপি নেতা চঞ্চল চক্রবর্তী বলেন, বিপক্ষ শিবিরের বিধায়ক এবং জনপ্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ না জানানোর সংস্কৃতি তো তৃণমূল আমদানি করেছে। বকলমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নদীয়া জেলায় প্রশাসনিক বৈঠক হলে বিজেপি বিধায়কদের ডাকা হয় না। বিজেপি সরকার তাদের আমলে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছে। কেন্দ্রীয় সরকারের টাকায় হয়েছে। ভবিষ্যতে বহু ছাত্র-ছাত্রী এখান থেকে পড়াশোনা করে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়বে। কেউ ক্রেডিট চুরি করছে না।
সম্পর্কিত সংবাদ